পোলাও-বিরিয়ানির সঙ্গে স্বাস্থ্যকর খাবার কৌশল

পোলাও বা বিরিয়ানির সঙ্গে সালাদ ও বোরহানি পরিবেশন বহুদিনের প্রচলিত একটি খাদ্যাভ্যাস। এসব খাবারের সঙ্গে সালাদ ও বোরহানি যুক্ত হলে স্বাদের বৈচিত্র্য যেমন বাড়ে, তেমনি পুষ্টিগত দিক থেকেও কিছু সুবিধা পাওয়া যায়। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সালাদ ও বোরহানি যেভাবে তৈরি করা হয় এবং যেভাবে গ্রহণ করা হয়, তার ওপরই নির্ভর করে এটি শরীরের জন্য উপকারী হবে নাকি ক্ষতিকর হয়ে উঠবে।

সাধারণত সালাদে ব্যবহৃত কাঁচা সবজি, শাকপাতা ও ফলমূল শরীরের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদানের উৎস। এসব উপাদান থেকে পাওয়া যায় পর্যাপ্ত আঁশ, ভিটামিন ও খনিজ, যা শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখতে সহায়তা করে। বিশেষ করে পোলাও বা বিরিয়ানির মতো উচ্চ ক্যালরিযুক্ত এবং তেল-মসলায় ভরপুর খাবারের সঙ্গে সালাদ যুক্ত হলে খাদ্যতালিকায় পুষ্টির ভারসাম্য আনা সহজ হয়।

সালাদের একটি বড় সুবিধা হলো এর আঁশযুক্ত উপাদান, যা দ্রুত পেট ভরাতে সাহায্য করে। ফলে অতিরিক্ত পরিমাণে ভারী খাবার গ্রহণের প্রবণতা কমে যায়। তবে এই সুবিধার পাশাপাশি কিছু সতর্কতার কথাও উল্লেখ করছেন পুষ্টিবিদরা। অতিরিক্ত সালাদ খেলে হজম প্রক্রিয়া ধীর হয়ে যেতে পারে এবং পেটে অস্বস্তি দেখা দিতে পারে।

এছাড়া সালাদ তৈরির উপকরণেও নজর দেওয়া জরুরি। অনেক সময় সালাদে মাংস, ডিম, মেয়োনেজ বা ক্রিম জাতীয় উপাদান যুক্ত করা হয়, যা সালাদকে হালকা খাবারের পরিবর্তে ভারী খাবারে পরিণত করে। পোলাও বা বিরিয়ানির মতো ভারী খাবারের সঙ্গে এমন সালাদ গ্রহণ করলে তা শরীরের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করতে পারে। তাই সালাদকে যতটা সম্ভব হালকা ও প্রাকৃতিক উপাদানে সীমাবদ্ধ রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

অন্যদিকে বোরহানি একটি জনপ্রিয় পানীয়, যা সাধারণ কোমল পানীয়ের তুলনায় তুলনামূলকভাবে স্বাস্থ্যকর হিসেবে বিবেচিত। এর প্রধান উপাদান টক দই, যা হজম প্রক্রিয়ায় সহায়ক ভূমিকা রাখে। তবে বোরহানি গ্রহণের ক্ষেত্রেও পরিমিতির বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এক গ্লাসের বেশি বোরহানি পান না করাই উত্তম। অতিরিক্ত বোরহানি গ্রহণ করলে শরীরে ক্যালরির পরিমাণ বেড়ে যেতে পারে এবং পেটে অস্বস্তির সৃষ্টি হতে পারে। একই সঙ্গে বোরহানির গঠনও গুরুত্বপূর্ণ। পাতলা বোরহানি শরীরের জন্য উপকারী হলেও অতিরিক্ত ঘন বা ক্রিমযুক্ত বোরহানি স্বাস্থ্যসম্মত নয়।

খাবারের সময় পানীয় গ্রহণের ক্ষেত্রেও কিছু নিয়ম মেনে চলা উচিত। যেকোনো পানীয় খাবারের অন্তত ২০ মিনিট আগে বা পরে পান করা ভালো। বিশেষ করে খালি পেটে বোরহানি পান না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এছাড়া যাদের উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, হৃদ্‌রোগ বা কিডনির সমস্যা রয়েছে, তাদের জন্য বোরহানি গ্রহণে অতিরিক্ত সতর্কতা প্রয়োজন। কারণ বোরহানিতে লবণ ও চিনি উভয়ের উপস্থিতি থাকে, যা এসব রোগের ক্ষেত্রে ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। তাই এ ধরনের রোগীরা বোরহানি পান করতে চাইলে অবশ্যই সীমিত পরিমাণে গ্রহণ করা উচিত।

সবশেষে বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, পানি সবসময়ই সবচেয়ে নিরাপদ পানীয়। বোরহানি যতই জনপ্রিয় হোক না কেন, শরীরের পানির চাহিদা পূরণে পানির বিকল্প নেই। তাই বোরহানি অল্প পরিমাণে রেখে দৈনন্দিন পানির চাহিদা পানি দিয়েই পূরণ করাই সবচেয়ে স্বাস্থ্যসম্মত অভ্যাস।

BP NEWS USA

Add comment

Follow us

Don't be shy, get in touch. We love meeting interesting people and making new friends.

Most discussed