হরমুজ প্রণালিতে ফের হামলা, তেল সরবরাহে শঙ্কা

মেরিটাইম ট্র্যাকারগুলো আজ রোববার নতুন করে হরমুজ প্রণালিতে একটি জাহাজে হামলার খবর পেয়েছে। এর ফলে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়ে গেছে। এর দুই দিন আগে ড্রোন হামলার শিকার হওয়ার পর সৌদি আরব তাদের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ তেল সরবরাহ পাইপলাইন বন্ধ করে দিয়েছিল।

ব্রিটিশ নৌবাহিনীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সংস্থা জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়ার সময় একটি জাহাজে অজ্ঞাত কোনো বস্তু, সম্ভবত ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন, আঘাত হানার খবর তারা পেয়েছে। স্থানীয় সময় রোববার ভোর পর্যন্ত জাহাজটির ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বা নাবিকদের অবস্থা সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট কিছু জানা যায়নি বলে সংস্থাটি জানিয়েছে।

এই তথ্য প্রকাশের একদিন আগে গত শনিবার সৌদি আরব জানায়, সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে তারা সাময়িকভাবে তাদের ইস্ট-ওয়েস্ট তেল পাইপলাইন বন্ধ করে দিয়েছে। গত বৃহস্পতিবার এই পাইপলাইনে একটি ড্রোন হামলা চালানো হয়, যার জন্য ইরাক থেকে পরিচালিত ইরান-সমর্থিত একটি সশস্ত্র গোষ্ঠীকে দায়ী করেছে বাগদাদ ও রিয়াদ উভয় পক্ষই। ইরাকে এ ধরনের ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরেই সক্রিয়।

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান এই সংঘাতে নতুন করে হামলা জোরদার হওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে। গত এক সপ্তাহে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়ে আবারও ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে উঠে এসেছে।

আরব উপদ্বীপজুড়ে বিস্তৃত প্রায় ১ হাজার ২০০ কিলোমিটার বা ৭৪৫ মাইল দীর্ঘ ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনটি গত ছয় মাস ধরে মধ্যপ্রাচ্যের তেল বৈশ্বিক বাজারে সরবরাহের প্রধান পথ হিসেবে কাজ করে আসছিল, কারণ ইরান যুদ্ধের কারণে হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল সরবরাহ প্রায় বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এই পাইপলাইন দিয়ে প্রতিদিন ৪০ থেকে ৫০ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহন করা হয়েছে, যা বৈশ্বিক তেল সরবরাহের প্রায় ৪ থেকে ৫ শতাংশের সমান। এই পাইপলাইনের কারণেই মূলত উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্য তেল ও গ্যাস রপ্তানিকারক দেশগুলোর মতো বড় ধরনের সরবরাহ বিপর্যয়ের মুখে পড়তে হয়নি সৌদি আরবকে।

পাইপলাইনে হামলার দায় এখনো কেউ স্বীকার করেনি। স্যাটেলাইট চিত্রে পবিত্র শহর মদিনার দক্ষিণে পাইপলাইনের একটি অংশ থেকে কালো ধোঁয়া উঠতে দেখা গেছে। সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই হামলায় কয়েকজন আহত হয়েছেন এবং কিছু ক্ষয়ক্ষতিও হয়েছে, তবে ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ নিরূপণের কাজ এখনো চলছে এবং তেল রপ্তানিতে এর সুনির্দিষ্ট প্রভাব সম্পর্কে বিস্তারিত এখনো জানানো হয়নি।

সৌদি আরবের এই পাইপলাইনে হামলার জন্য সম্ভবত ইরানই দায়ী বলে মন্তব্য করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। গত শনিবার আয়ারল্যান্ডে নিজের একটি রিসোর্টে আয়োজিত একটি গলফ টুর্নামেন্টে অংশ নিতে গিয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন।

একই দিন সৌদি সিভিল ডিফেন্স এক বিবৃতিতে জানায়, হুতিদের ছোড়া একটি প্রজেক্টাইলের আঘাতে দেশটির জাজান অঞ্চলে দুজন আহত হয়েছেন। এই হামলায় একটি মসজিদসহ বেশ কয়েকটি স্থাপনাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানানো হয়েছে বিবৃতিতে।

এই ধারাবাহিক হামলাগুলো এমন এক সময়ে ঘটছে, যখন মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে জ্বালানি অবকাঠামো ক্রমেই যুদ্ধের সরাসরি লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হচ্ছে এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা প্রতিদিনই নতুন মাত্রা পাচ্ছে বলে বিশ্লেষকেরা মনে করছেন।

BP NEWS USA

Add comment

Follow us

Don't be shy, get in touch. We love meeting interesting people and making new friends.

Most discussed