কম্পিউটার ব্যবহার: কতটা সময় নিরাপদ?

ডিজিটাল যুগে কম্পিউটার ছাড়া দৈনন্দিন জীবন কল্পনা করা প্রায় অসম্ভব। অফিসের কাজ, পড়াশোনা, বিনোদন থেকে শুরু করে যোগাযোগ, সব ক্ষেত্রেই কম্পিউটার বা স্ক্রিননির্ভর ডিভাইসের ব্যবহার বেড়েই চলেছে। তবে প্রতিদিন কতক্ষণ কম্পিউটার ব্যবহার করা নিরাপদ, তা নিয়ে উদ্বেগও বাড়ছে সমানতালে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য নয়। এটি নির্ভর করে বয়স, কাজের ধরন এবং শারীরিক অবস্থার উপর। তবে দীর্ঘ সময় একটানা স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকা চোখ, মস্তিষ্ক এবং শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে, এ বিষয়ে প্রায় সবাই একমত।

চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, টানা ২০ থেকে ৩০ মিনিট কম্পিউটার ব্যবহারের পর অন্তত ৫ মিনিট বিরতি নেওয়া উচিত। এ সময় চোখকে বিশ্রাম দিতে দূরের কোনো কিছুর দিকে তাকানো উপকারী। এটি চোখের চাপ কমাতে সহায়তা করে এবং ডিজিটাল আই স্ট্রেইন বা চোখের ক্লান্তি প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখে।

বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, প্রতিদিন মোট ৬ থেকে ৮ ঘণ্টার বেশি স্ক্রিন টাইম হলে ঝুঁকি বাড়তে পারে, বিশেষ করে যদি তা কাজের পাশাপাশি বিনোদনের জন্যও ব্যবহার করা হয়। দীর্ঘ সময় বসে কম্পিউটার ব্যবহার করলে ঘাড়, পিঠ ও কোমরে ব্যথা দেখা দিতে পারে। পাশাপাশি ঘুমের সমস্যাও তৈরি হতে পারে, কারণ স্ক্রিন থেকে নির্গত নীল আলো শরীরের স্বাভাবিক ঘুমের চক্রকে ব্যাহত করে।

শিশু ও কিশোরদের ক্ষেত্রে বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ। তাদের জন্য স্ক্রিন টাইম সীমিত রাখা জরুরি বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। কারণ অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহারে মনোযোগের ঘাটতি, আচরণগত পরিবর্তন এবং শারীরিক কার্যকলাপ কমে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।

তবে বাস্তবতা হলো, অনেক পেশায় দীর্ঘ সময় কম্পিউটারের সামনে বসে কাজ করা ছাড়া বিকল্প নেই। এ ক্ষেত্রে কিছু নিয়ম মেনে চললে ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব। যেমন, সঠিক উচ্চতায় মনিটর রাখা, আরামদায়ক চেয়ারে বসা, নিয়মিত শরীর নড়াচড়া করা এবং পর্যাপ্ত আলো নিশ্চিত করা।

এছাড়া ‘২০-২০-২০’ নিয়ম অনুসরণ করার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। অর্থাৎ প্রতি ২০ মিনিট পর ২০ ফুট দূরের কোনো কিছুর দিকে অন্তত ২০ সেকেন্ড তাকিয়ে থাকা। এতে চোখের পেশি স্বাভাবিক থাকে এবং ক্লান্তি কমে।

সব মিলিয়ে বলা যায়, কম্পিউটার ব্যবহার পুরোপুরি এড়িয়ে চলা সম্ভব নয়, তবে সচেতনতা ও সঠিক অভ্যাসের মাধ্যমে এর ক্ষতিকর প্রভাব অনেকটাই কমানো যায়। নির্দিষ্ট সময় পরপর বিরতি নেওয়া, শারীরিক নড়াচড়া বজায় রাখা এবং প্রয়োজন ছাড়া অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহার না করাই হতে পারে নিরাপদ থাকার সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

BP NEWS USA

Add comment

Follow us

Don't be shy, get in touch. We love meeting interesting people and making new friends.

Most discussed