বিশ্বব্যাপী ব্র্যান্ডমূল্য বৃদ্ধির দৌড়ে আবারও শীর্ষে উঠে এসেছে প্রযুক্তি খাতের প্রতিষ্ঠানগুলো। সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, গত এক বছরে বিশ্বের সবচেয়ে মূল্যবান ব্র্যান্ডগুলোর মধ্যে আয় ও ব্র্যান্ডমূল্য বৃদ্ধিতে বড় ধরনের উল্লম্ফন ঘটিয়েছে বেশ কয়েকটি শীর্ষ কোম্পানি।
ব্র্যান্ড মূল্যায়ন সংস্থার ২০২৬ সালের ‘গ্লোবাল ৫০০’ প্রতিবেদনে জানানো হয়, গত বছর সবচেয়ে বেশি ব্র্যান্ডমূল্য বেড়েছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সফটওয়্যার ও প্রযুক্তি কোম্পানিটির। ২০২৫ সালে তাদের ব্র্যান্ডমূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে ১০৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা মোট মূল্যকে ৫৬৫ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করেছে। মূলত ক্লাউড কম্পিউটিং ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সেবার দ্রুত সম্প্রসারণ এই প্রবৃদ্ধির প্রধান চালিকা শক্তি হিসেবে কাজ করেছে।
এই তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে আরেকটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান, যারা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্ভর চিপ উৎপাদনের জন্য বিশ্বজুড়ে পরিচিত। গত এক বছরে তাদের ব্র্যান্ডমূল্য বেড়েছে ৯৬ বিলিয়ন ডলার, ফলে মোট ব্র্যান্ডমূল্য দাঁড়িয়েছে ১৮৪ বিলিয়ন ডলারে। এআই চিপের বাজারে চাহিদা বৃদ্ধির ফলে তাদের অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়েছে এবং বাজারে পণ্যের চাহিদা এখনো সরবরাহের তুলনায় বেশি রয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৮টিই প্রযুক্তি খাতের, যা বৈশ্বিক অর্থনীতিতে এই খাতের আধিপত্য স্পষ্ট করে। পণ্য ও সেবা বিপণনে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, ব্র্যান্ড শক্তিশালীকরণ এবং আর্থিক দক্ষতার সমন্বয়ে এসব প্রতিষ্ঠানের ব্র্যান্ডমূল্যে উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে।
তালিকার তৃতীয় স্থানে রয়েছে একটি জনপ্রিয় স্বল্পদৈর্ঘ্য ভিডিও প্ল্যাটফর্ম, যার ব্র্যান্ডমূল্য ৪৮ বিলিয়ন ডলার বেড়ে ১৫৪ বিলিয়নে পৌঁছেছে। এক বছর আগেও তাদের ব্র্যান্ডমূল্য ছিল ১০৬ বিলিয়ন ডলার, যা থেকে এ বছরের উল্লম্ফন বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। চতুর্থ স্থানে থাকা আরেক বহুজাতিক প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের ব্র্যান্ডমূল্য বেড়েছে ৩৩ বিলিয়ন ডলার, ফলে তাদের মোট ব্র্যান্ডমূল্য দাঁড়িয়েছে ৬০৮ বিলিয়ন ডলারে, যা বর্তমানে বিশ্বের সর্বোচ্চ।
পঞ্চম স্থানে রয়েছে একটি শীর্ষ সার্চ ও বিজ্ঞাপনভিত্তিক প্রযুক্তি কোম্পানি, যার ব্র্যান্ডমূল্য বেড়েছে ২০ বিলিয়ন ডলার এবং মোট মূল্য দাঁড়িয়েছে ৪৩৩ বিলিয়নে। তাদের নতুন এআই প্ল্যাটফর্ম চালুর ফলে এই প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত হয়েছে।
ষষ্ঠ স্থানে থাকা একটি বৈশ্বিক আর্থিক সেবা প্রতিষ্ঠান তাদের ব্র্যান্ডমূল্য ১৮ বিলিয়ন ডলার বাড়িয়ে ৫৭ বিলিয়নে উন্নীত করেছে। গত পাঁচ বছরে প্রতিষ্ঠানটির বাজারমূল্য প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে, যা তাদের দীর্ঘমেয়াদি কৌশলের সফলতার ইঙ্গিত দেয়।
সপ্তম অবস্থানে রয়েছে চীনের একটি রাষ্ট্রায়ত্ত বিদ্যুৎ সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান। তাদের ব্র্যান্ডমূল্য ১৭ বিলিয়ন ডলার বেড়ে ১০২ বিলিয়নে পৌঁছেছে। অষ্টম স্থানে থাকা একটি বৈশ্বিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কোম্পানির ব্র্যান্ডমূল্য বেড়েছে ১৬ বিলিয়ন ডলার, যা মোট ১০৭ বিলিয়নে উন্নীত হয়েছে।
নবম স্থানে থাকা চীনভিত্তিক একটি মেসেজিং ও মোবাইল পেমেন্ট প্ল্যাটফর্মের ব্র্যান্ডমূল্য বেড়েছে ১৫ বিলিয়ন ডলার, ফলে মোট মূল্য দাঁড়িয়েছে ৪৮ বিলিয়ন ডলারে। আর দশম স্থানে রয়েছে একটি শীর্ষ ই-কমার্স কোম্পানি, যার ব্র্যান্ডমূল্য ১৩ বিলিয়ন ডলার বৃদ্ধি পেয়ে ৩৭০ বিলিয়নে পৌঁছেছে।
সার্বিকভাবে প্রতিবেদনে দেখা যায়, প্রযুক্তিনির্ভর সেবা, বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ক্লাউড কম্পিউটিং এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের বিস্তার ব্র্যান্ডমূল্য বৃদ্ধির ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে। এর ফলে বৈশ্বিক বাজারে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর প্রভাব আরও সুদৃঢ় হয়েছে।





Add comment