যুক্তরাষ্ট্রের অরেগন অঙ্গরাজ্যের পোর্টল্যান্ডে অভিবাসন দপ্তরের সামনে চলা বিক্ষোভে টিয়ার গ্যাস ব্যবহারের ওপর নতুন বিধিনিষেধ আরোপ করেছেন এক ফেডারেল বিচারক। স্থানীয় নাগরিক স্বাধীনতা সংগঠনের করা একটি মামলার প্রেক্ষিতে এ সিদ্ধান্ত আসে, যেখানে বিক্ষোভকারী ও ফ্রিল্যান্স সাংবাদিকদের পক্ষে অভিযোগ আনা হয়েছিল।
অরেগনের ফেডারেল জেলা আদালতের বিচারক সোমবার দেওয়া এক প্রাথমিক আদেশে জানান, পোর্টল্যান্ডে যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থার ভবনের সামনে চলা বিক্ষোভে ফেডারেল কর্মকর্তারা টিয়ার গ্যাস ব্যবহার করতে পারবেন না, যদি না সেখানে কারও পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক শারীরিক ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়। এই আদেশটি আসে তিন দিনব্যাপী শুনানির পর, যেখানে বাদীপক্ষের কয়েকজন ব্যক্তি নিজেদের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন।
মামলার বাদীদের মধ্যে ছিলেন এক বিক্ষোভকারী, যিনি মুরগির পোশাক পরে প্রতিবাদে অংশ নেওয়ার জন্য পরিচিত। এছাড়া ছিলেন আশির কোঠায় থাকা এক দম্পতি এবং দুইজন ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক। তারা আদালতে সাক্ষ্য দিয়ে বলেন, বিক্ষোভের সময় তাদের বিরুদ্ধে রাসায়নিক বা প্রজেকটাইল ধরনের অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছিল।
ওই মামলায় যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিবাদী করা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়, ফেডারেল কর্মকর্তাদের এই ধরনের অস্ত্র ব্যবহার মূলত বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধমূলক পদক্ষেপ, যা যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রথম সংশোধনীতে থাকা মতপ্রকাশের স্বাধীনতার অধিকারকে ক্ষুণ্ন করছে।
রায়ে বিচারক উল্লেখ করেন, বাদীপক্ষ আদালতে বহু ভিডিও প্রমাণ হিসেবে জমা দিয়েছে। এসব ভিডিওতে স্পষ্টভাবে দেখা যায়, শান্তিপূর্ণ ও অহিংস বিক্ষোভকারীদের মুখের দিকে সরাসরি মরিচের স্প্রে ছিটানো হয়েছে। এমনকি অনেক ক্ষেত্রে ভিড়ের মধ্যে টিয়ার গ্যাস ছোড়া এবং পেপার বল ধরনের প্রজেকটাইলও নিক্ষেপ করা হয়েছে।
রায়ে বিচারক লিখেছেন, এসব ঘটনায় দেখা গেছে যে অনেক বিক্ষোভকারী কেবলমাত্র শান্তিপূর্ণভাবে অবস্থান করছিলেন বা ন্যূনতম প্রতিরোধ করছিলেন। কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে পূর্ব সতর্কতা ছাড়াই রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। বিচারকের মতে, এমন আচরণ বিক্ষোভকারী ও সাংবাদিকদের ওপর শারীরিক ক্ষতি ডেকে আনে এবং তাদের অধিকার প্রয়োগে ভয় সৃষ্টি করে।
এই আদেশের বিষয়ে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য দেয়নি। তবে এর আগে সংস্থাটি জানিয়েছিল, ফেডারেল কর্মকর্তারা তাদের প্রশিক্ষণ অনুযায়ী কাজ করেছেন এবং প্রয়োজনের তুলনায় সর্বনিম্ন শক্তি প্রয়োগ করা হয়েছে।
এর আগে একই বিচারক সাময়িক একটি নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিলেন, যেখানে পোর্টল্যান্ডের ওই ভবনের সামনে বিক্ষোভের সময় ফেডারেল এজেন্টদের রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহারে সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়েছিল। সাম্প্রতিক এই প্রাথমিক আদেশটি সেই সীমাবদ্ধতাকে আরও জোরদার করেছে। পাশাপাশি কাছাকাছি একটি সাশ্রয়ী আবাসন প্রকল্পের বাসিন্দাদের করা পৃথক একটি মামলার পর আরেকজন ফেডারেল বিচারকও একই ধরনের বিধিনিষেধ জারি করেছেন।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শহরে অভিবাসন নীতির কড়াকড়ি বাস্তবায়নকে ঘিরে বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। প্রেসিডেন্টের প্রশাসনের উদ্যোগে শুরু হওয়া অভিবাসন আইন প্রয়োগ জোরদার করার পদক্ষেপের বিরুদ্ধে এসব প্রতিবাদ হচ্ছে বলে জানা গেছে। বিক্ষোভ দমনে ফেডারেল কর্মকর্তাদের কঠোর জননিয়ন্ত্রণ কৌশল নিয়ে দেশজুড়ে উদ্বেগও দেখা দিয়েছে।
সোমবারের আদেশে বিচারক আরও নির্দেশ দেন, কোনো ব্যক্তি যদি তাৎক্ষণিকভাবে শারীরিক ক্ষতির ঝুঁকি তৈরি না করে, তাহলে তার বিরুদ্ধে টিয়ার গ্যাস বা পেপার বলের মতো অস্ত্র ব্যবহার করা যাবে না। এছাড়া আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, মাথা, ঘাড় বা বুকের দিকে কোনো প্রজেকটাইল নিক্ষেপ করা যাবে না, যদি না পরিস্থিতি এমন হয় যে প্রাণঘাতী শক্তি ব্যবহারের আইনি যৌক্তিকতা রয়েছে।
এছাড়া মরিচের স্প্রে ব্যবহারেও নির্দিষ্ট সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। কর্মকর্তারা কোনো ভিড়ের ওপর নির্বিচারে স্প্রে ব্যবহার করতে পারবেন না, যাতে আশপাশের নিরীহ মানুষ আক্রান্ত হন। কেবলমাত্র সহিংস বা বেআইনি কর্মকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তি, অথবা যারা সক্রিয়ভাবে গ্রেপ্তার প্রতিরোধ করছে, তাদের ক্ষেত্রেই এটি ব্যবহার করা যাবে। আত্মরক্ষামূলক প্রয়োজনে যুক্তিসঙ্গত সীমায় এটি প্রয়োগ করা যেতে পারে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
বিচারক স্পষ্ট করে বলেন, কোনো স্থানে অনধিকার প্রবেশ করা, সরে যেতে অস্বীকৃতি জানানো বা ছত্রভঙ্গ হওয়ার নির্দেশ না মানা এসবকে সক্রিয় প্রতিরোধ নয়, বরং নিষ্ক্রিয় প্রতিরোধ হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
এছাড়া আদালত মামলাটিকে একটি বৃহত্তর গোষ্ঠীর জন্য প্রযোজ্য করার অস্থায়ী অনুমোদন দিয়েছে। ফলে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ওই ভবনের সামনে শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভে অংশ নেওয়া বা সেখানে সংবাদ সংগ্রহ করা সকলের ক্ষেত্রেই এই আদেশ কার্যকর হবে।
মামলার বিচার প্রক্রিয়া চলাকালীন এই প্রাথমিক নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকবে বলে আদালত জানিয়েছে।





Add comment