যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় অভিবাসনবিরোধী অভিযানে বাধা দেওয়ার উদ্দেশ্যে নিজেকে সীমান্ত টহল বাহিনীর সদস্য হিসেবে পরিচয় দেওয়ার অভিযোগে এক মেক্সিকান নাগরিক দোষ স্বীকার করেছেন। সংশ্লিষ্ট দেশের দক্ষিণ জেলার ফেডারেল প্রসিকিউটরদের কার্যালয় এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
প্রসিকিউটরদের তথ্যমতে, অভিযুক্ত ব্যক্তি একটি কালো রঙের পিকআপ ট্রাক ব্যবহার করতেন, যা দেখতে অনেকটা আন্ডারকভার ফেডারেল কর্মকর্তাদের ব্যবহৃত গাড়ির মতো। ওই গাড়ির লাইসেন্স প্লেটের ফ্রেমে ছোট অক্ষরে “ফেডারেল ট্রাক” লেখা ছিল, যদিও সেখানে “ফেডারেল” শব্দটির বানানে ভুল ছিল। এছাড়া গাড়ির উইন্ডশিল্ডে সীমান্ত টহল বাহিনীর স্টিকার এবং ছাদের ওপর অকার্যকর রেডিও যোগাযোগের অ্যান্টেনা স্থাপন করা হয়েছিল। গাড়ির ভেতরে রিয়ারভিউ মিররে ঝোলানো ছিল হাতকড়া।
ঘটনাটি ঘটে ৮ জানুয়ারি, যখন এক প্রকৃত সীমান্ত টহল এজেন্ট সান ডিয়েগোর একটি আবাসিক এলাকায় দায়িত্ব পালনকালে অভিযুক্ত ব্যক্তি তাকে অনুসরণ করেন। ফেডারেল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অভিযুক্তের এই আচরণে বিভ্রান্ত হয়ে ওই এজেন্ট মনে করেছিলেন, হয়তো অন্য কোনো টিম সহায়তায় এসেছে। ফলে পরিস্থিতি ভুলভাবে মূল্যায়ন করে তিনি তার চলমান অভিযান বাতিল করেন।
পরে প্রকৃত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা অভিযুক্ত ব্যক্তির মুখোমুখি হলে তিনি তাদের উদ্দেশে অশালীন ভাষায় চিৎকার করেন এবং লিন্ডা ভিস্তা এলাকার ভেতর থেকে বেরিয়ে যেতে বলেন। প্রসিকিউটরদের দাবি, ওই সময় আরও তিনটি গাড়ি ঘটনাস্থলে এসে উপস্থিত হয় এবং তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের হয়রানি করতে থাকে। এমনকি মহাসড়কে তাদের পিছু নেওয়ার ঘটনাও ঘটে।
তদন্তে আরও জানা যায়, অভিযুক্ত ব্যক্তি একটি ভিডিও রেকর্ডিংয়ে নিজেই স্বীকার করেছিলেন যে তিনি সক্রিয়ভাবে অভিবাসন সংক্রান্ত ফেডারেল অভিযানে নিয়োজিত কর্মকর্তাদের খুঁজছিলেন এবং তাদের কাজে বাধা দেওয়ার জন্য নিজের পক্ষ থেকে “সহযোগী” নিয়ে এসেছিলেন। তার কাছ থেকে একটি ভুয়া এফবিআই ব্যাজও উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
মামলার নথি অনুযায়ী, অভিযুক্ত ব্যক্তি একটি অভিযোগে ফেডারেল এজেন্ট পরিচয়ে প্রতারণা এবং তিনটি পৃথক অভিযোগে অবৈধভাবে আগ্নেয়াস্ত্র রাখার দায় স্বীকার করেছেন। তার পক্ষে নিয়োজিত ফেডারেল পাবলিক ডিফেন্ডার এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেননি।
এছাড়া প্রসিকিউটরদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি বহু বছর আগে একটি পর্যটক ভিসার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছিলেন এবং সেই ভিসার মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার পরও তিনি দেশে অবস্থান করছিলেন।
এই ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযানে ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে বিভ্রান্তি সৃষ্টি এবং নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরির বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ ধরনের কর্মকাণ্ড ফেডারেল অভিযানের কার্যকারিতা ব্যাহত করতে পারে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি করে।





Add comment