নাইজেরিয়ায় ধর্মীয় সহিংসতার অন্ধকার বাস্তবতা

নাইজেরিয়ায় ধর্মীয় ভিত্তিক নির্যাতন ও অপহরণের প্রবণতা আবারও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। সাম্প্রতিক এক ঘটনায় মধ্য নাইজেরিয়ার একটি গির্জায় প্রার্থনা চলাকালে একদল হামলাকারী প্রবেশ করে গুলি চালায়। এতে অন্তত দুই উপাসক নিহত হন এবং গির্জার ধর্মগুরুসহ আরও কয়েকজনকে জোরপূর্বক অপহরণ করা হয়। দেশটির স্থানীয় গণমাধ্যম এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। একই সময়ে দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় কেব্বি অঙ্গরাজ্যে ২৫ শিক্ষার্থীকে অপহরণের ঘটনাও দেশজুড়ে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

যুক্তরাষ্ট্র আয়োজিত “নাইজেরিয়ায় ধর্মীয় সহিংসতা ও খ্রিস্টান নিপীড়ন প্রতিরোধ” শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রে জাতিসংঘে নিযুক্ত রাষ্ট্রদূত সাম্প্রতিক এই শিক্ষার্থী অপহরণের ঘটনায় গভীর হতাশা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ২৫ কিশোরীকে স্কুল থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে; অনেক সময় এ ধরনের অপহরণের পর ভুক্তভোগীদের যৌন দাসত্বে বিক্রি করা হয়, জোর করে ধর্ম পরিবর্তন করানো হয়, এবং তাদের বেশিরভাগই আর কখনো পরিবারে ফিরে যেতে পারে না। এসব শিশু এক অন্ধকার চক্রে হারিয়ে যায়।

রাষ্ট্রদূত জানান, নাইজেরিয়ায় খ্রিস্টান জনগোষ্ঠীর ওপর নির্যাতন নতুন নয়। বহু গির্জা পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, অনেক মা তাদের সন্তানকে কবর দিতে বাধ্য হয়েছেন শুধুমাত্র ধর্মীয় সংগীত গাওয়ার জন্য। ধর্মীয় নেতাদের হত্যা করা হয়েছে প্রচার কাজ চালানোর অভিযোগে, গ্রামজুড়ে নির্বিচারে গুলি চালানো হয়েছে শুধু খ্রিস্টান পরিচয়ের কারণে। ক্রুশ ধারণ করার মতো আচরণের জন্যও মানুষকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে所谓 নিন্দাবিদ্রোহ আইনে। রাষ্ট্রদূতের ভাষায়, এসব ঘটনা কেবল বিচ্ছিন্ন সহিংসতা নয় বরং সংগঠিত ‘নৃশংসতা’, যা বিশৃঙ্খলার মুখোশ পরে পরিচালিত হচ্ছে।

আফ্রিকার বৃহত্তম জনসংখ্যার দেশ নাইজেরিয়া সংস্কৃতি ও ধর্মীয় বৈচিত্র্যে সমৃদ্ধ হলেও বাস্তবে দেশটি চরম নিরাপত্তাহীনতার মুখে। উত্তরাঞ্চলের ১২টি অঙ্গরাজ্যে দীর্ঘদিন ধরে শরিয়া আইন কার্যকর রয়েছে। একই সঙ্গে বোকো হারামসহ বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠী ও মিলিশিয়া বাহিনী খ্রিস্টানদের লক্ষ্য করে ধারাবাহিক হামলা চালিয়ে আসছে। এসব গোষ্ঠীর হাতে বহু গ্রাম উজাড় হয়েছে এবং হাজার হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।

বিশ্বজুড়ে নিপীড়িত খ্রিস্টানদের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণকারী প্রতিষ্ঠান ওপেন ডোর্স তাদের ২০২৫ সালের তালিকায় নাইজেরিয়াকে সপ্তম স্থানে রেখেছে, যেখানে খ্রিস্টানদের জন্য সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর অবস্থান নির্ধারণ করা হয়। সংস্থাটির পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী খ্রিস্টান হত্যার ৮০ শতাংশেরও বেশি ঘটছে নাইজেরিয়ায়।

গুরুতর ধর্মীয় স্বাধীনতা লঙ্ঘনের কারণে যুক্তরাষ্ট্র নাইজেরিয়াকে ‘বিশেষ নজরদারির দেশ’ হিসেবে ঘোষণা করেছে। এই সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের জন্য দেশটির সঙ্গে কাজ করার সুযোগ তৈরি করেছে, যাতে সহিংসতার দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা যায়, ধর্মীয় সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়, এবং অপহৃতদের মুক্তির জন্য কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া যায়।

যদিও নাইজেরিয়ার কর্মকর্তারা দাবি করেন সন্ত্রাসী হামলা সব ধর্মের মানুষের ওপরই হয়, রাষ্ট্রদূতের মতে খ্রিস্টান জনগোষ্ঠী অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তার কঠোর ভাষায়, একেকটি গুলি, একেকটি পোড়া ধর্মগ্রন্থ যেন পুরো একটি ধর্মবিশ্বাসকে মুছে দেওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের এক সাবেক প্রেসিডেন্ট বিশ্ববাসীকে মনে করিয়ে দিয়েছেন খ্রিস্টানদের সুরক্ষা কোনো রাজনৈতিক বিষয় নয়, এটি মানবিক দায়িত্ব।

BP NEWS USA

Add comment

Follow us

Don't be shy, get in touch. We love meeting interesting people and making new friends.

Most discussed