যুক্তরাষ্ট্রে ১ নভেম্বর থেকে পেছাবে ঘড়ির কাঁটা

যুক্তরাষ্ট্রে আগামী ১ নভেম্বর আবারও ঘড়ির কাঁটা এক ঘণ্টা পেছানো হবে। বছরে দুবার সময় পরিবর্তনের প্রথা বন্ধে প্রতিনিধি পরিষদে বিল পাস হলেও সিনেটে তা আটকে থাকায় এ বছরও ডে-লাইট সেভিং টাইমের নিয়ম বহাল থাকছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিলটি পাসের জন্য সিনেটের প্রতি আহ্বান জানালেও মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এ নিয়ে অগ্রগতির সম্ভাবনা কম।

নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, ১ নভেম্বর রোববার স্থানীয় সময় রাত ২টায় যুক্তরাষ্ট্রের অধিকাংশ এলাকায় ঘড়ির কাঁটা এক ঘণ্টা পেছানো হবে। এতে ওই রাতে মানুষ অতিরিক্ত এক ঘণ্টা ঘুমানোর সুযোগ পাবেন। একই সঙ্গে সকাল ও সন্ধ্যায় সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের সময় ঘড়ির হিসাবে এক ঘণ্টা এগিয়ে আসবে।

ডে-লাইট সেভিং টাইম স্থায়ী করার প্রস্তাবটি ‘সানশাইন প্রোটেকশন অ্যাক্ট’ নামে পরিচিত। চলতি বছরের জুলাইয়ে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে ৩০৮-১১৭ ভোটে বিলটি পাস হয়। এরপর এটি সিনেটে পাঠানো হলেও এখন পর্যন্ত প্রয়োজনীয় সমর্থন নিশ্চিত হয়নি। বিলটি আইনে পরিণত হলে অধিকাংশ এলাকায় শরৎকালে ঘড়ির কাঁটা আর এক ঘণ্টা পেছাতে হতো না।

শুক্রবার নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে বিলটি এগিয়ে নেওয়ার জন্য সিনেটরদের প্রতি আহ্বান জানান ট্রাম্প। এ সময় তিনি আরকানসাসের রিপাবলিকান সিনেটর টম কটনের সমালোচনা করেন। ট্রাম্পের অভিযোগ, কটনের বিরোধিতার কারণেই বিলটি সিনেটে আটকে আছে। তাঁর মতে, এ বিষয়ে রিপাবলিকান, ডেমোক্র্যাট ও স্বতন্ত্র রাজনৈতিক পরিচয়ের মানুষের মধ্যে ঐকমত্য তৈরি হতে পারে।

তবে স্থায়ী ডে-লাইট সেভিং টাইমের বিরোধিতা করছেন সিনেটর টম কটন। তাঁর যুক্তি, শীতকালে ঘড়ির সময় এক ঘণ্টা এগিয়ে রাখা হলে অনেক এলাকায় সূর্য উঠবে আরও দেরিতে। এতে সকালে অন্ধকারের মধ্যে স্কুলে যাওয়া শিশু, কর্মজীবী মানুষ ও যাত্রীদের নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়তে পারে।

সিনেটের সংখ্যাগরিষ্ঠ নেতা জন থুনও জানিয়েছেন, বিলটি এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে এখনো স্পষ্ট ঐকমত্য তৈরি হয়নি। আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে বিলটি নিয়ে ভোট হওয়ার সম্ভাবনাও কম। ফলে প্রতিনিধি পরিষদে পাস হলেও সিনেটে বিলটির ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত রয়ে গেছে।

যুক্তরাষ্ট্রে ডে-লাইট সেভিং টাইমের আওতায় বসন্তকালে ঘড়ির কাঁটা এক ঘণ্টা এগিয়ে নেওয়া হয় এবং শরৎকালে আবার পেছানো হয়। এর উদ্দেশ্য হলো সন্ধ্যায় দিনের আলো বেশি সময় ধরে কাজে লাগানো। তবে বছরে দুবার সময় পরিবর্তনের কারণে ঘুমের রুটিন ও দৈনন্দিন কাজে বিঘ্ন ঘটে বলে মনে করেন অনেকে।

BP NEWS USA

Add comment

Follow us

Don't be shy, get in touch. We love meeting interesting people and making new friends.

Most discussed