মঙ্গল গ্রহের সবচেয়ে বড় রহস্যগুলোর একটি সেখানকার বিশাল আকৃতির মেঘ। বিজ্ঞানীদের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সালে গ্রহটির ২০ কিলোমিটার উঁচু আর্সিয়া মন্স আগ্নেয়গিরির ঠিক পাশে এই মেঘ শনাক্ত করা হয়। বসন্ত ও শরৎকালে প্রতিদিন সকালে তৈরি হওয়া মেঘটি দ্রুত ১ হাজার ১২০ মাইল পর্যন্ত বিস্তৃত হয়ে আবার মুহূর্তের মধ্যে অদৃশ্য হয়ে যায়। আর্সিয়া মন্স ইলংগেটেড ক্লাউড বা এএমইসি নামে পরিচিত এই মেঘের আচরণ প্রচলিত কোনো নিয়মের সঙ্গেই মেলে না, তাই এটি বিজ্ঞানীদের কাছে দীর্ঘদিন ধরে ধাঁধা হয়ে ছিল।
এই ধাঁধার সমাধান করেছেন ফ্রান্সের সোরবন ইউনিভার্সিটির একজন বিজ্ঞানী ও তাঁর সহকর্মীরা। তিনি জানিয়েছেন, কম্পিউটার মডেলিংয়ে পদার্থবিদ্যার একটি বিশেষ নিয়ম যুক্ত করে দানবীয় এই মেঘের রহস্য ভেদ করা সম্ভব হয়েছে। পদার্থবিদ্যার এই নিয়মটি সাধারণত তাত্ত্বিক হিসেবে বিবেচিত হয় এবং প্রকৃতিতে এর অস্তিত্ব সচরাচর দেখা যায় না। কিন্তু কম্পিউটারের সিমুলেশনে এই বিশেষ তত্ত্ব যুক্ত করার পরই কাঙ্ক্ষিত এএমইসি মেঘের আকৃতি তৈরি হতে শুরু করে। পৃথিবী বা অন্য কোনো গ্রহের বায়ুমণ্ডলে এর আগে এমন ঘটনা ঘটার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
পৃথিবীতে সাধারণত হেটেরোজেনিয়াস নিউক্লিয়েশন প্রক্রিয়ায় মেঘ তৈরি হয়, যেখানে জলীয় বাষ্প বায়ুমণ্ডলে ভাসমান ধূলিকণার ওপর ঘনীভূত হয়। কিন্তু মঙ্গলের ক্ষেত্রে এই নিয়ম কাজ করে না। নেচার জিওসায়েন্স সাময়িকীতে প্রকাশিত গবেষণায় বিজ্ঞানীরা জানান, এএমইসি মেঘে পানির ফোঁটা কোনো কণার সাহায্য ছাড়াই সরাসরি ঘনীভূত হয়। ওই বিজ্ঞানী একে হোমোজেনিয়াস নিউক্লিয়েশন বলে অভিহিত করেছেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, বায়ুমণ্ডলে কোনো মধ্যবর্তী ধাপ ছাড়াই জলীয় বাষ্প সরাসরি বরফকণা বা মেঘে পরিণত হয়।
এই প্রক্রিয়ার পেছনের কারণও ব্যাখ্যা করেছেন গবেষকেরা। আর্সিয়া মন্স আগ্নেয়গিরির ওপর দিয়ে বাতাস বয়ে যাওয়ার সময় একটি শক্তিশালী তরঙ্গের সৃষ্টি হয়। এই তরঙ্গ আর্দ্র বাতাসকে খুব দ্রুত কয়েক মাইল ওপরে টেনে তোলে। এর ফলে বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রা মাত্র ১০ মিনিটের মধ্যে ৫৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত কমে যায় এবং আপেক্ষিক আর্দ্রতা চরম পর্যায়ে পৌঁছে যায়। এই পরিস্থিতিতেই কোনো কণার সাহায্য ছাড়া মেঘ তৈরির অস্বাভাবিক প্রক্রিয়াটি ঘটে।
গবেষকদের মতে, এই আবিষ্কার শুধু মঙ্গল গ্রহের আবহাওয়া বোঝার ক্ষেত্রেই নয়, বরং অন্যান্য গ্রহের বায়ুমণ্ডলীয় প্রক্রিয়া নিয়ে গবেষণার ক্ষেত্রেও নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দিতে পারে।





Add comment