নিউ ইয়র্ক সিটিতে ক্রমবর্ধমান আবাসন সংকট মোকাবিলায় এক বিশাল পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন সিটির মেয়রজোহরান মামদানির| ব্রুকলিনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ২৬ মে তিনি “ব্লক বাই ব্লক” নামে নতুন উদ্যোগের ঘোষণা দেন| এই উদ্যোগের আওতায় আগামী দশ বছরে ৪ লাখ সাশ্রয়ী আবাসন ইউনিট নির্মাণ, সংরক্ষণ ও স্থিতিশীল করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে| মেয়র মামদানি বলেন, নিউইয়র্কে বাসা ভাড়া ও আবাসন খরচ এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে সাধারণ কর্মজীবী মানুষের জন্য একটি বাসা খুঁজে পাওয়া এখন প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে| তিনি আবাসন সংকটকে শহরের সবচেয়ে বড় জীবনযাত্রা সংকট হিসেবে উল্লেখ করেন| মামদানি বলেন, যখন নিউইয়র্কবাসী একটি বাসার খরচ বহন করতে পারে, তখন তারা ¯^প্ন দেখতেও পারে| তিনি আরও বলেন, গত কয়েক দশকের সরকারি নীতিগত ব্যর্থতা এবং পর্যাপ্ত আবাসন নির্মাণ না হওয়ায় আজকের এই সংকট ˆতরি হয়েছে|
মেয়রের পরিকল্পনার সবচেয়ে বড় অংশ হচ্ছে আগামী এক দশকে ২ লাখ নতুন ভাড়া-নিয়ন্ত্রিত বা রেন্ট স্ট্যাবিলাইজড আবাসন নির্মাণ| এই ইউনিটগুলো মূলত মধ্যবিত্ত, নিম্ন আয়ের পরিবার এবং গৃহহীন নিউইয়র্কবাসীদের জন্য বরাদ্দ থাকবে| মামদানি আরও বলেন, এই ঐতিহাসিক নির্মাণ কর্মসূচির ফলে গৃহহীন নিউইয়র্কবাসীদের জন্য আবাসনের সুযোগ প্রায় ৪৫ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে| শুধু নতুন আবাসন নির্মাণই নয়, আরও ২ লাখ বিদ্যমান আবাসন ইউনিট সংরক্ষণ ও স্থিতিশীল করা হবে| অর্থাৎ পুরনো ভবন সংস্কার, ভাড়া নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখা এবং বাসিন্দাদের উচ্ছেদ ঠেকাতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হবে|
মোট ৪ লাখ আবাসন ইউনিটের এই পরিকল্পনাকে তিনি নিউইয়র্ক সিটির ইতিহাসে সবচেয়ে বড় সাশ্রয়ী আবাসন উদ্যোগ হিসেবে বর্ণনা করেন| মেয়র মামদানি জানান, এই বিশাল কর্মসূচি বাস্তবায়নে আগামী পাঁচ বছরে ২২ বিলিয়ন ডলার মূলধনী বিনিয়োগ করা হবে| এই অর্থ ব্যয় হবে নতুন ভবন নির্মাণ, পুরনো আবাসন সংস্কার, অবকাঠামো উন্নয়ন এবং সরকারি আবাসন ব্যবস্থার পুনর্গঠনে| তিনি বলেন, সাশ্রয়ী আবাসনের ক্ষেত্রে অতীতে কোনো মেয়র এত বড় পরিকল্পনা কল্পনাও করেননি, প্রস্তাব তো দূরের কথা| মেয়রের ভাষ্য অনুযায়ী, এই নির্মাণ কর্মসূচির মাধ্যমে হাজার হাজার নতুন চাকরির সুযোগও সৃষ্টি হবে| নির্মাণ খাত, রক্ষণাবেক্ষণ, প্রকৌশল এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সেবাখাতে নতুন কর্মসংস্থান ˆতরি হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন|
পরিকল্পনার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হচ্ছে ভাড়াটিয়াদের সুরক্ষা জোরদার করা| মামদানি বলেন, নিউইয়র্কের প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ নিজেদের বাড়ির মালিক নন; তারা ভাড়া বাসায় বসবাস করেন| ফলে বাড়িওয়ালাদের অনিয়ম, অতিরিক্ত ভাড়া বৃদ্ধি এবং হয়রানির শিকার হন বহু মানুষ| তিনি জানান, সম্প্রতি তার প্রশাসনের আয়োজিত “রেন্টাল রিপঅফ হিয়ারিং” বা ভাড়া জালিয়াতি বিষয়ক শুনানি থেকে পাওয়া অভিযোগ ও মতামতের ভিত্তিতে নতুন নীতিমালা ˆতরি করা হয়েছে| নতুন ব্যবস্থার আওতায় খারাপ বাড়িওয়ালাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে, বেআইনি উচ্ছেদ রোধ করা হবে এবং ভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইনের প্রয়োগ আরও শক্তিশালী করা হবে|





Add comment