অর্থসংকটে থমকে ডিএইচএস তদারকি কার্যক্রম

যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের অভ্যন্তরীণ তদারকি সংস্থার কার্যক্রম অর্থায়নের অভাবে বড় ধরনের স্থবিরতার মুখে পড়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, সংস্থাটির মহাপরিদর্শক দপ্তর বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ তদন্ত ও পর্যালোচনা কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে বাধ্য হয়েছে।

একজন বিভাগীয় কর্মকর্তা এবং প্রশাসনের আরেক কর্মকর্তার বরাতে জানা যায়, প্রতিযোগিতা ছাড়া দেওয়া চুক্তিগুলোর ওপর চলমান অডিট স্থগিত রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে অভিবাসন ও কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট সংস্থার আটক কেন্দ্রগুলোর অবস্থা পর্যালোচনা এবং অভিবাসন প্রয়োগে অতিরিক্ত বল প্রয়োগের অভিযোগ সম্পর্কিত তদন্তও বন্ধ রয়েছে।

এছাড়া আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অনুসন্ধান কার্যক্রমও স্থগিত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে গত বছরের জুলাইয়ে সাবেক প্রেসিডেন্টের ওপর হামলার চেষ্টার ঘটনায় সিক্রেট সার্ভিসের প্রতিক্রিয়া নিয়ে চারটি পৃথক তদন্ত, অভিভাবকহীন অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করা অভিবাসী শিশুদের খোঁজ ও নিরাপত্তা যাচাইয়ের অগ্রগতি, এবং সীমান্তজুড়ে মাদক ফেন্টানিল ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি ইনভেস্টিগেশনসের ভূমিকা পর্যালোচনা।

মহাপরিদর্শকের দপ্তর জানিয়েছে, সংস্থার মোট অডিট কার্যক্রমের প্রায় ৮৫ শতাংশই বর্তমানে স্থগিত রয়েছে। আংশিক সরকারি অচলাবস্থার কারণে অর্থায়ন বন্ধ থাকায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, যা এখন অষ্টম সপ্তাহে গড়িয়েছে এবং দ্রুত সমাধানের কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে না।

এই স্থবিরতার মধ্যেও অভিবাসন সংক্রান্ত অভিযান অব্যাহত রয়েছে। কারণ, আগের বছর পাস হওয়া একটি বৃহৎ কর ও ব্যয় বিলের মাধ্যমে সংস্থাটি উল্লেখযোগ্য অর্থ বরাদ্দ পেয়েছিল। তবে অভিবাসন নীতির কঠোর প্রয়োগ নিয়ে নাগরিক অধিকার সংশ্লিষ্ট উদ্বেগ বাড়ছে এবং সংস্থার চুক্তি প্রদানের প্রক্রিয়াও নতুন করে প্রশ্নের মুখে পড়েছে।

কংগ্রেসে বিরোধী দলীয় আইনপ্রণেতারা অভিবাসন প্রয়োগ পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনার দাবি জানিয়ে আসছেন। তারা বলছেন, আটক কেন্দ্রগুলোর পরিস্থিতি এবং প্রয়োগকাজে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি।

মহাপরিদর্শক, যিনি বর্তমান প্রশাসনের শুরুতে দায়িত্বে বহাল ছিলেন, তার দপ্তরের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, সীমিত সম্পদ নিয়েও সংস্থাটি স্বাধীন তদারকি কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। তবে বাস্তবতা হলো, দপ্তরের প্রায় ৬০ শতাংশ কর্মী বর্তমানে ছুটিতে রয়েছেন। যেসব কর্মী দায়িত্বে আছেন, তাদের মধ্যে রয়েছেন অপরাধ তদন্তে নিয়োজিত বিশেষ এজেন্ট এবং বিকল্প উৎস থেকে অর্থায়ন পাওয়া কিছু প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা।

অভিবাসন আটক কেন্দ্রগুলোর অবস্থা এবং প্রয়োগকৌশল নিয়ে সম্প্রতি সমালোচনা বেড়েছে। আইনজীবী ও কিছু আইনপ্রণেতার অভিযোগ, এসব কেন্দ্রে অবস্থার অবনতি ঘটছে এবং কিছু ক্ষেত্রে প্রাণঘাতী ঘটনারও উদ্ভব হয়েছে।

এদিকে প্রতিযোগিতা ছাড়া দেওয়া চুক্তিগুলোও নজরদারির আওতায় এসেছে। গত মাসে এক কংগ্রেসীয় শুনানিতে সাবেক মন্ত্রী ও তার ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে, যা এই খাতের স্বচ্ছতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।

তবে সব কার্যক্রম থেমে নেই। মহাপরিদর্শকের দপ্তরের চলমান ফৌজদারি তদন্তগুলো এখনও চালু রয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে শত শত মিলিয়ন ডলারের একটি বিজ্ঞাপন প্রচারণা সংক্রান্ত অনুসন্ধান। যদিও এসব তদন্তে নিয়োজিত কর্মকর্তারা বর্তমানে বেতন ছাড়াই কাজ করছেন বলে জানা গেছে।

দপ্তরটি কংগ্রেসকে জানিয়েছে, তারা বর্তমানে প্রায় ৬৫০টি তদন্ত, ৬০টি অডিট এবং ২০টি পরিদর্শন কার্যক্রম পরিচালনা করছে। পাশাপাশি প্রতিবছর ২০ হাজারের বেশি অভিযোগ তারা পেয়ে থাকে।

এদিকে সর্বশেষ বাজেট প্রস্তাবে মহাপরিদর্শকের দপ্তরের জন্য বরাদ্দ কমানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, যা ভবিষ্যতে তদারকি কার্যক্রম আরও চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

BP NEWS USA

Add comment

Follow us

Don't be shy, get in touch. We love meeting interesting people and making new friends.

Most discussed