ঊনবাঙালের সপ্তসুরে নিউইয়র্কে দর্শকদের ভীড়

নিউইয়র্কে বাংলা সংগীত, কবিতা ও আবৃত্তির মনোমুগ্ধকর পরিবেশনার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে সাংস্কৃতিক সংগঠন ঊনবাঙালের ‘সপ্তসুর’। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর থেকে শাহ আবদুল করিম, বাংলা সংগীতের সাত কিংবদন্তি সুরস্রষ্টার কালজয়ী গানে মুখর হয়ে ওঠে অনুষ্ঠানস্থল। প্রবাসে বাংলা সংস্কৃতির এমন আয়োজনে দর্শকের উপচে পড়া উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো।

গত ৯ অক্টোবর সন্ধ্যায় নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসের জুইশ সেন্টারে অনুষ্ঠিত হয় ব্যতিক্রমী এ সাংস্কৃতিক আয়োজন। প্রায় চার ঘণ্টাব্যাপী অনুষ্ঠানে বাংলা সংগীতের পাশাপাশি কবিতা পাঠ ও আবৃত্তি উপভোগ করেন বিপুলসংখ্যক সংস্কৃতিপ্রেমী দর্শক। তিন মাসের নিবিড় অনুশীলন ও প্রস্তুতির মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানটি আয়োজন করে ঊনবাঙাল।

অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ ছিল কাজী নজরুল ইসলাম, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, লালন ফকির, দ্বিজেন্দ্রলাল রায়, হাসন রাজা, শাহ আবদুল করিম ও রাধারমণ দত্তের ২৩টি কালজয়ী গানের পরিবেশনা। একের পর এক জনপ্রিয় গানের সুরে দর্শকদের ফিরিয়ে নেওয়া হয় বাংলা সংগীতের সমৃদ্ধ ঐতিহ্যে। শিল্পীদের সম্মিলিত পরিবেশনায় পুরো মিলনায়তনে সৃষ্টি হয় আবেগঘন পরিবেশ।

ঊনবাঙালের সংগীত বিভাগের পরিচালক মিতা হোসেনের নেতৃত্বে সংগীত পরিবেশন করেন বুলা আফরোজ, মোহাম্মদ শানু, সানজানা তাসমিন, আরিফ আহমেদ অর্ণব, রেজা কামাল, নজরুল ইসলাম, আবিদা সুলতানা, মুক্তি জহির, চমক ইসলাম, রেণু রোজা, দেলোয়ারা কামাল, নাসির উদ্দিন, মুন্না চৌধুরী ও শাহীনূর শাণূ নদী। শিল্পীদের কণ্ঠে চিরায়ত বাংলা গানের পরিবেশনা অনুষ্ঠানে ভিন্নমাত্রা যোগ করে। বাদ্যযন্ত্রে সহযোগিতা করেন রবিউল হাসান রুবেল, পিনু সেন ও মোহাম্মদ শানু।

সংগীতের পাশাপাশি অনুষ্ঠানের আবৃত্তি পর্বও দর্শকদের মুগ্ধ করে। এ পর্বে কবিতা আবৃত্তি করেন আহসান হাবিব, জিএম ফারুক খান, জান্নাত সুলতানা ও সুমন শামসুদ্দিন। তাঁদের কণ্ঠে কবিতার ছন্দ ও আবেগ দর্শকদের মধ্যে বিশেষ আবেদন সৃষ্টি করে।

স্বরচিত কবিতা পাঠে অংশ নেন সোহেল হামিদ, সাইফুস সানী, মুশফিক চৌধুরী, শেখ মিজান, রেণু রোজা, রওশন হক ও দীপ্তি বড়ুয়া। কবিদের নিজস্ব ভাবনা, জীবনবোধ ও অনুভূতির প্রকাশ অনুষ্ঠানের সাহিত্য পর্বকে সমৃদ্ধ করে।

সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় ঊনবাঙালের প্রতিষ্ঠাতা কবি কাজী জহিরুল ইসলামের সূচনা বক্তব্যের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। পরে তাঁর আমন্ত্রণে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন বর্ষীয়ান সাংবাদিক মনজুর আহমদ ও সাপ্তাহিক বাংলাদেশ পত্রিকার সম্পাদক ডা. ওয়াজেদ এ খান।

বক্তারা বলেন, প্রবাসে বাংলা ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতির চর্চা অব্যাহত রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের কাছে বাঙালির সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য তুলে ধরতে এ ধরনের আয়োজন কার্যকর ভূমিকা রাখে। শিল্প ও সাহিত্যের নিরলস চর্চার মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে নিজেদের শেকড়ের সম্পর্ক আরও নিবিড় করার প্রচেষ্টার জন্য তাঁরা ঊনবাঙালের প্রশংসা করেন।

ঊনবাঙালের প্রতিষ্ঠাতা কবি কাজী জহিরুল ইসলাম বলেন, তিন মাসের অক্লান্ত পরিশ্রম ও সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি সফল অনুষ্ঠান উপহার দেওয়া সম্ভব হয়েছে। সংগীতশিল্পী, কবি, আবৃত্তিশিল্পী ও আয়োজকদের আন্তরিক সহযোগিতাই এ আয়োজনের মূল শক্তি।

তিনি আরও বলেন, ‘যাঁরা অনুষ্ঠান সফল করতে নিরলস পরিশ্রম করেছেন, তাঁদের শুধু ধন্যবাদ নয়, অভিনন্দনও জানাই। বিশেষ করে যাঁরা প্রায় চার ঘণ্টা বসে আমাদের গান ও কবিতা উপভোগ করেছেন, তাঁদের প্রতি রইল আন্তরিক কৃতজ্ঞতা।’ অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করেন শাহীনূর শাণূ নদী। তাঁর সাবলীল ও নান্দনিক উপ¯’াপনা পুরো আয়োজনকে প্রাণবন্ত করে রাখে।

আয়োজন সফল করতে নেপথ্যেও কাজ করেছেন অনেকে। অর্থ সংগ্রহের মূল দায়িত্ব পালন করেন কাজী ফৌজিয়া। খাদ্য ব্যবস্থাপনায় ছিলেন মুন্না চৌধুরী এবং হল ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে ছিলেন নাসির উদ্দিন। এ ছাড়া সংগঠনের সদস্য ও শুভানুধ্যায়ীদের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় অনুষ্ঠানটি সম্পন্ন হয়।

BP NEWS USA

Add comment

Follow us

Don't be shy, get in touch. We love meeting interesting people and making new friends.

Most discussed