৮ ঘণ্টার কাজে কত বিরতি নিলে ভালো?

পেশাজীবনে দীর্ঘ সময় একটানা কাজ করার প্রবণতা অনেকের মধ্যেই দেখা যায়। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ৮ ঘণ্টার কর্মদিবসে নির্দিষ্ট বিরতি নেওয়া শুধু স্বস্তির জন্য নয়, বরং উৎপাদনশীলতা ও মানসিক সুস্থতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কর্মক্ষেত্রে সঠিকভাবে বিরতি নেওয়ার অভ্যাস কর্মদক্ষতা বাড়াতে যেমন সহায়ক, তেমনি দীর্ঘমেয়াদে শারীরিক সমস্যাও কমাতে পারে।

গবেষণায় দেখা গেছে, একটানা কাজ করলে মানুষের মনোযোগ ধীরে ধীরে কমে যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, সাধারণভাবে ৮ ঘণ্টার কর্মদিবসে অন্তত ৩ থেকে ৫টি ছোট বিরতি নেওয়া উপকারী। এর মধ্যে একটি তুলনামূলক বড় বিরতি থাকতে পারে, যা সাধারণত দুপুরের খাবারের সময় হয়ে থাকে। বাকি বিরতিগুলো ৫ থেকে ১৫ মিনিটের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে কাজের ধারাবাহিকতা বজায় থাকে।

কর্মক্ষেত্রে বিরতির গুরুত্ব নিয়ে বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, মানুষের মস্তিষ্ক দীর্ঘ সময় একই ধরনের কাজে মনোযোগ ধরে রাখতে পারে না। ফলে নির্দিষ্ট সময় পরপর ছোট বিরতি নিলে মস্তিষ্ক পুনরায় সতেজ হয়ে ওঠে। এতে কাজের গুণগত মানও উন্নত হয়। যারা নিয়মিত বিরতি নেন, তারা সাধারণত কম ক্লান্ত হন এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রেও বেশি দক্ষতা দেখান।

বিশেষজ্ঞরা আরও উল্লেখ করেছেন, প্রতি ৯০ মিনিট কাজের পর ১০ থেকে ১৫ মিনিটের একটি বিরতি নেওয়া কার্যকর হতে পারে। এছাড়া অনেকেই ২৫ থেকে ৩০ মিনিট কাজের পর ৫ মিনিটের সংক্ষিপ্ত বিরতি নেওয়ার পদ্ধতিও অনুসরণ করেন। এই ধরনের পদ্ধতি কর্মীদের মনোযোগ ধরে রাখতে সহায়তা করে এবং কাজের চাপ কম অনুভূত হয়।

শুধু বিরতির সংখ্যা নয়, কীভাবে বিরতি নেওয়া হচ্ছে সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। বিরতির সময় মোবাইল স্ক্রল করা বা একই জায়গায় বসে থাকা খুব বেশি উপকার দেয় না। বরং কিছুক্ষণ হাঁটা, চোখকে বিশ্রাম দেওয়া কিংবা হালকা স্ট্রেচিং করলে শরীর ও মন উভয়ই উপকৃত হয়। বিশেষ করে যারা দীর্ঘ সময় কম্পিউটারের সামনে কাজ করেন, তাদের জন্য চোখের যত্নে নিয়মিত বিরতি নেওয়া জরুরি।

অফিস পরিবেশেও এখন বিরতির বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। অনেক প্রতিষ্ঠান কর্মীদের জন্য নির্ধারিত বিরতির সময় নিশ্চিত করছে এবং কর্মীদের মানসিক সুস্থতাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। এতে কর্মীদের সন্তুষ্টি বাড়ার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক উৎপাদনশীলতাও বৃদ্ধি পাচ্ছে।

তবে অতিরিক্ত বিরতিও কাজের ক্ষতি করতে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা। খুব ঘন ঘন বা দীর্ঘ সময়ের বিরতি কাজের ধারাবাহিকতা নষ্ট করতে পারে। তাই কাজের ধরন, চাপ এবং ব্যক্তিগত সক্ষমতার ওপর ভিত্তি করে বিরতির সংখ্যা ও সময় নির্ধারণ করা প্রয়োজন।

সর্বোপরি, ৮ ঘণ্টার কর্মদিবসে পরিকল্পিতভাবে ৩ থেকে ৫টি বিরতি নেওয়া একটি ভারসাম্যপূর্ণ পদ্ধতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এটি কর্মীদের শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা বজায় রাখার পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রে তাদের দক্ষতা ও মনোযোগ ধরে রাখতে সহায়তা করে।

BP NEWS USA

Add comment

Follow us

Don't be shy, get in touch. We love meeting interesting people and making new friends.

Most discussed