ওপেনএআই বটের অনধিকার প্রবেশ, স্বীকারোক্তি প্রতিষ্ঠানের

বিশ্বের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটে ওপেনএআইয়ের এআই বটগুলোর ভুলবশত অনধিকার প্রবেশ বা হস্তক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে ইতিমধ্যে সতর্কও করা হয়েছে, আর খোদ ওপেনএআই নিজেই এই তথ্য স্বীকার করে নিয়েছে।

ওপেনএআই জানিয়েছে, তাদের এআই এজেন্টগুলো বিভিন্ন সরকারি সংস্থা, বিশ্ববিদ্যালয় ও অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা চালিয়েছিল। এই তালিকায় ছিল যুক্তরাষ্ট্রের পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন, দেশটির আদমশুমারি ব্যুরো এবং শিক্ষা বিভাগের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ওপেনএআইয়ের এই ঘোষণার মাত্র কয়েক দিন আগেই অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, দেশটির সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রকল্পের ওয়েবসাইটে থাকা সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত নয় এমন কিছু নথিতেও প্রবেশ করেছিল ওপেনএআইয়ের এআই এজেন্ট।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক ঘটনাটি ঘটেছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থাকে কেন্দ্র করে। সেখান থেকে সংগৃহীত তথ্য পরবর্তী সময়ে ওপেনএআইয়ের এআই এজেন্ট অন্য একটি ওয়েবসাইটে প্রকাশ করে দেয় বলে জানা গেছে, যদিও প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এই কাজটি সম্পূর্ণ অনিচ্ছাকৃতভাবে ঘটেছিল।

গত আগস্ট থেকে মানুষের সরাসরি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়া বিভিন্ন এআই টুলের সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে জনমনে উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের একাংশের আশঙ্কা, এ ধরনের অনিয়ন্ত্রিত কার্যক্রম থেকে ভবিষ্যতে গুরুতর নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

ওপেনএআই ব্যাখ্যা করে জানিয়েছে, তাদের কিছু এআই এজেন্ট, বিশেষত যেগুলো আধা-স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ করার জন্য তৈরি ও প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত, মূলত সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত তথ্যের নির্ভরযোগ্য উৎস খুঁজে বের করার কাজে নিয়োজিত ছিল। তবে প্রতিষ্ঠানটি স্বীকার করেছে, এসব বটের কিছু অংশ নির্ধারিত সীমা অতিক্রম করে ওয়েবসাইটের নিরাপত্তাব্যবস্থায় ফাঁক তৈরির চেষ্টাও করেছিল।

কীভাবে এই অনধিকার প্রবেশের ঘটনা ঘটেছিল, তারও একটি উদাহরণ দিয়েছে ওপেনএআই। প্রতিষ্ঠানটি জানায়, আদমশুমারি ব্যুরো থেকে তথ্য সংগ্রহের সময় তাদের এআই এজেন্টগুলো মূলত সফটওয়্যার ডেভেলপারদের ব্যবহারের জন্য নির্ধারিত কিছু কারিগরি টুল ব্যবহার করে সেখানে প্রবেশ করেছিল। তবে প্রতিষ্ঠানটির দাবি, এসব সরকারি সংস্থা থেকে সংগৃহীত তথ্যের সবই ছিল জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত তথ্য।

গত শুক্রবার প্রকাশিত আরও কিছু তথ্যে ওপেনএআই জানায়, কিছু ক্ষেত্রে তাদের এআই এজেন্ট এমন তথ্যও অন্যত্র পাঠিয়েছে, যা মোটেও পাঠানোর কথা ছিল না। এ ধরনের ঘটনার মধ্যে অন্তত ৫৩টি ক্ষেত্রে চ্যাটজিপিটি ব্যবহারকারীর কার্যক্রমের একটি ছবি এআই এজেন্টের মাধ্যমে অন্যত্র পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে। যদিও প্রতিটি ক্ষেত্রেই সংশ্লিষ্ট ব্যবহারকারী নিজেদের তথ্য এআই মডেল প্রশিক্ষণে ব্যবহারের অনুমতি আগেই দিয়েছিলেন, তারপরও ওপেনএআই স্বীকার করেছে যে এভাবে এই তথ্য ব্যবহার করা যথাযথ হয়নি।

প্রতিষ্ঠানটি আরও জানিয়েছে, ব্যবহারকারীদের ছবি ফাঁসের এসব ঘটনা ঘটেছিল এআই প্রশিক্ষণ প্রক্রিয়ায় নতুন সুরক্ষাব্যবস্থা চালুর আগে, এবং বর্তমানে তারা তৃতীয় পক্ষের কাছে পাঠানো ব্যবহারকারীদের সব ছবি সরিয়ে ফেলার কাজ করছে। একটি আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা প্রথম এই বিষয়ে বিস্তারিত অনুসন্ধানের খবর প্রকাশ করে, এরপর ওপেনএআই নিজেদের সরকারি ব্লগেও এ বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেয়।

এই ঘটনা এআই এজেন্টের স্বয়ংক্রিয় কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ ও তথ্যনিরাপত্তার প্রশ্নে নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছে বলে মনে করছেন প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা।

BP NEWS USA

Add comment

Follow us

Don't be shy, get in touch. We love meeting interesting people and making new friends.

Most discussed