স্মৃতি হারানো রুখতে এআই চশমা

ডিমেনশিয়া বা স্মৃতিভ্রংশজনিত রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য আশার আলো দেখাচ্ছে নতুন এক প্রযুক্তি। লন্ডনভিত্তিক একটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নির্ভর স্মার্ট চশমা তৈরি করেছে, যা রোগীদের দৈনন্দিন কাজ সহজ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। এই উদ্ভাবন স্মৃতিশক্তি ও চিন্তাশক্তি ধীরে ধীরে হ্রাস পাওয়া রোগীদের জন্য একটি কার্যকর সহায়ক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ডিমেনশিয়া এমন একটি রোগ, যার ফলে একজন মানুষের স্মৃতি, চিন্তা করার ক্ষমতা এবং দৈনন্দিন কাজ পরিচালনার দক্ষতা ক্রমাগত কমতে থাকে। এই রোগের নিরাময় এখনো পুরোপুরি সম্ভব না হলেও, এর প্রভাব কমাতে বিভিন্ন প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণা চালিয়ে যাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা। সেই ধারাবাহিকতায় তৈরি হওয়া এই স্মার্ট চশমাটি ব্যবহারকারীর আশপাশের পরিবেশ বিশ্লেষণ করে প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ করতে পারে।

চশমাটির বিশেষত্ব হলো, এটি আশপাশের বস্তু শনাক্ত করে ব্যবহারকারীর চোখের সামনে থাকা কাচে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদর্শন করে। পাশাপাশি শব্দের মাধ্যমে নির্দেশনা দিয়ে ব্যবহারকারীকে সহায়তা করে। ফলে রান্না, ওষুধ গ্রহণ বা ঘরের অন্যান্য দৈনন্দিন কাজ সম্পন্ন করা অনেকটাই সহজ হয়ে ওঠে। বিশেষ করে ডিমেনশিয়ার প্রাথমিক পর্যায়ের রোগীদের জন্য এটি বেশি উপযোগী করে তৈরি করা হয়েছে।

প্রযুক্তিটি ধাপে ধাপে নির্দেশনা দেওয়ার মাধ্যমে ব্যবহারকারীদের সহায়তা করে, যা তাদের দৈনন্দিন জীবনকে আরও স্বাভাবিক করে তোলে। পরীক্ষামূলকভাবে ব্যবহারের সময় এর ইতিবাচক ফলাফল পাওয়া গেছে। ব্যবহারকারীদের একটি বড় অংশ জানিয়েছেন, এই চশমা তাদের আত্মনির্ভরতা বাড়াতে সাহায্য করেছে এবং দৈনন্দিন জীবনে উল্লেখযোগ্য উন্নতি এনেছে।

এই স্মার্ট চশমার ওজন মাত্র ৭৫ গ্রাম, যা ব্যবহারকারীদের জন্য আরামদায়ক। এতে পাওয়ারযুক্ত লেন্স সংযোজন করা সম্ভব এবং এটি শ্রবণযন্ত্রের সঙ্গেও ব্যবহার করা যায়। চশমাটির ব্যাটারি এক ঘণ্টা পর্যন্ত কার্যকর থাকে, তবে বাহ্যিক পাওয়ার ব্যাংকের মাধ্যমে এর ব্যবহার সময় বাড়ানো যায়।

চশমাটিতে ‘উইস্পি’ নামের একটি এআই সহকারী যুক্ত রয়েছে, যা ব্যবহারকারীর সঙ্গে কথোপকথনের মাধ্যমে তার অভ্যাস, পছন্দ ও দৈনন্দিন কাজের ধরন সম্পর্কে ধারণা নেয়। এই তথ্য বিশ্লেষণ করে প্রয়োজনীয় সময় মনে করিয়ে দেয় এবং ব্যবহারকারীকে সহায়তা করে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই সহকারী নিজেকে ব্যবহারকারীর প্রয়োজন অনুযায়ী মানিয়ে নিতে পারে, ফলে এটি আরও ব্যক্তিকেন্দ্রিক সহায়তা প্রদান করতে সক্ষম হয়।

ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত এক প্রবীণ নারী এই প্রযুক্তির সম্ভাবনা নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। তার মতে, রোগের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে মানুষের জীবন পরিসর ছোট হয়ে আসে, কিন্তু এই ধরনের প্রযুক্তি নতুন করে বাঁচার অনুপ্রেরণা জোগাতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ধরনের প্রযুক্তি ভবিষ্যতে ডিমেনশিয়া রোগীদের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে যারা প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছেন, তাদের জন্য এটি দৈনন্দিন কাজ সহজ করার পাশাপাশি আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনতে সহায়ক হতে পারে।

সব মিলিয়ে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর এই স্মার্ট চশমা ডিমেনশিয়া রোগীদের জন্য একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। যদিও এটি রোগের স্থায়ী সমাধান নয়, তবুও রোগীদের স্বাভাবিক জীবনযাপন বজায় রাখতে এটি একটি কার্যকর সহায়ক প্রযুক্তি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

BP NEWS USA

Add comment

Follow us

Don't be shy, get in touch. We love meeting interesting people and making new friends.

Most discussed