বাংলাদেশের শাকিল সৈয়দের জার্মান সরকারি সম্মাননা লাভ

বাংলাদেশে সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নে বিশেষ অবদান রাখার স্বীকৃতিস্বরূপ জার্মান সরকারের কাছ থেকে সম্মাননা পেয়েছেন বাংলাদেশ ও জার্মানির এক দ্বৈত নাগরিক। এই সম্মাননাটি এনগেজমেন্ট প্রাইস নামে পরিচিত।

গত শনিবার, অর্থাৎ ৫ সেপ্টেম্বর, জার্মানির ফেডারেল অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন মন্ত্রণালয় (বিএমজেড) এই সম্মাননা প্রদান করে। এবারের আয়োজনে তাঁকে নিয়ে মোট সাতজন ব্যক্তি এই সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন।

জার্মানির বন শহরে বিএমজেডের দপ্তরে আয়োজিত একটি ‘ওপেন ডে’ অনুষ্ঠানে এই সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়। সম্মাননা প্রদান করেন দেশটির উন্নয়নমন্ত্রী।

জার্মানির নুরেমবার্গে বসবাসরত ওই ব্যক্তি গত ২০ বছরের বেশি সময় ধরে বাংলাদেশের পিছিয়ে পড়া অঞ্চলগুলোতে প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনাসহ বিভিন্ন সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। নিজের প্রতিষ্ঠিত একটি সংগঠনের মাধ্যমে তিনি দীর্ঘদিন ধরে এই সমাজসেবামূলক কাজ পরিচালনা করে আসছেন। সংগঠনটির নামের মধ্য দিয়েই বাংলাদেশের প্রতি তাঁর দীর্ঘদিনের প্রতিশ্রুতি ও দায়বদ্ধতার প্রতিফলন ঘটে।

বিএমজেডের পক্ষ থেকে দেওয়া প্রশংসাপত্রে বলা হয়েছে, তিনি তাঁর কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে জার্মানির সাধারণ মানুষের কাছে বাংলাদেশের জনগণের প্রকৃত জীবনচিত্র তুলে ধরছেন। পাশাপাশি বাংলাদেশের উন্নয়ন-সংক্রান্ত নানা চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে জার্মানির জনগণের বোঝাপড়া তৈরিতে তিনি একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতুবন্ধনের ভূমিকা পালন করছেন।

অনুষ্ঠানে উন্নয়নমন্ত্রী বলেন, এবার সম্মাননা পাওয়া সাতজন ব্যক্তি আন্তর্জাতিক সংহতি ও সহযোগিতার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছেন। তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন, বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে তাঁদের এই কাজ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ বিশ্বজুড়ে জাতীয়তাবাদ ও বিচ্ছিন্নতাবাদী মনোভাব ক্রমেই শক্তিশালী হয়ে উঠছে এবং ‘আগে আমরা’ ধরনের সংকীর্ণ মানসিকতা আরও জোরালো হয়ে উঠছে। এমন পরিস্থিতিতে সীমানা পেরিয়ে মানবিক সহযোগিতার এই দৃষ্টান্তগুলো বিশেষভাবে গুরুত্ব বহন করে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

এবারের আয়োজনে সম্মাননাপ্রাপ্ত অন্যদের মধ্যে রয়েছেন জার্মানির কোলন শহরের একজন বাসিন্দা, ডুসেলডর্ফের একজন বাসিন্দা এবং বার্লিনের তিনজন বাসিন্দা। এ ছাড়া বন শহরের একজন ব্যক্তিকে মরণোত্তর সম্মাননা প্রদান করা হয়েছে, যা তাঁর দীর্ঘদিনের অবদানের প্রতি বিশেষ শ্রদ্ধা নিবেদনের একটি দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

উল্লেখ্য, বিএমজেডের এই এনগেজমেন্ট প্রাইস প্রতিবছর এমন ব্যক্তিদের দেওয়া হয়ে থাকে, যাঁরা নিজেদের পেশাগত বা ব্যক্তিগত জীবনের বাইরে গিয়ে উন্নয়নশীল দেশগুলোর সঙ্গে জার্মানির সম্পর্ক জোরদারে ভূমিকা রাখেন। বিশেষ করে তৃণমূল পর্যায়ে দীর্ঘমেয়াদি সমাজসেবামূলক উদ্যোগের মাধ্যমে যাঁরা দুই দেশের মানুষের মধ্যে বোঝাপড়া বাড়াতে অবদান রাখেন, তাঁদের এই স্বীকৃতির আওতায় আনা হয়।

বাংলাদেশ ও জার্মানির দ্বৈত নাগরিক ওই ব্যক্তির এই সম্মাননা প্রাপ্তি প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্যও একটি গর্বের মুহূর্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। দুই দশকের বেশি সময় ধরে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিশুদের শিক্ষার সুযোগ তৈরিতে তাঁর নিরলস প্রচেষ্টা এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির মধ্য দিয়ে নতুন মাত্রা পেল বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। একই সঙ্গে এই ঘটনা প্রবাসে থেকেও নিজের জন্মভূমির প্রতি দায়বদ্ধতা ধরে রাখার একটি অনুপ্রেরণাদায়ক দৃষ্টান্ত হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।

BP NEWS USA

Add comment

Follow us

Don't be shy, get in touch. We love meeting interesting people and making new friends.

Most discussed