নিউইয়র্ক টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বের সেরা শহর

নিউইয়র্ক সিটি বিশ্বের সেরা শহর হিসেবে র‌্যাঙ্কিংয়ে প্রথম স্থান অর্জন করেছে। অক্সফোর্ড ইকোনমিকস-এর ২০২৬ সালের গ্লোবাল সিটিজ ইনডেক্স বিশ্বজুড়ে এক হাজারটি বড় শহরকে মূল্যায়ন করে বিভিন্ন বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে তাদের র‌্যাঙ্কিং তৈরি করেছে।

প্রতিটি শহরের অর্থনীতি, মানবসম্পদ, জীবনযাত্রার মান, পরিবেশ এবং সুশাসন—এই বিষয়গুলো বিবেচনায় নেয়া হয় এবং প্রতিটি ক্যাটাগরিতে সর্বোচ্চ ১০০ পর্যন্ত নম্বর দেওয়া হয়। এই র‌্যাঙ্কিংয়ের প্রথম ১০০টি স্থানের মধ্যে ৭৮টি জুড়েই রয়েছে ইউরোপীয় এবং উত্তর আমেরিকান শহর। এই সূচকটি ব্যবসা, সরকার এবং বিনিয়োগকারীদের সুবিন্যস্ত ডেটার মাধ্যমে বিভিন্ন শহরের তুলনা করতে সাহায্য করার জন্য তৈরি করা হয়েছে, যা আর্থিক ও ব্যবসায়িক সুযোগগুলো মূল্যায়নে সহায়তা করতে পারে।

তবে এই ডেটা মানবাধিকারের বিষয়টি বিবেচনা করে না, যা হিউম্যান রাইটস ফাউন্ডেশনের মিউনিসিপ্যাল ইকুয়ালিটি ইনডেক্সের মতো অন্যান্য র‌্যাঙ্কিংয়ে পাওয়া যেতে পারে। বার্ষিক এই সূচকের নতুন সংযোজন হলো একটি ইন্টারেক্টিভ ফিচার, যার মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা এই বিষয়গুলোর ওপর ভিত্তি করে নিজেদের শহরগুলোর তুলনা করতে পারবেন।

উদাহরণস্বরূপ, প্রায় ৪ লাখ ৮৫ হাজার জনসংখ্যার অস্ট্রেলিয়ার ক্যানবেরা তালিকার ৪৫তম স্থানে রয়েছে, তবে এটি এই সূচকের একমাত্র শহর যা জীবনযাত্রার মানের জন্য ১০০ নম্বর অর্জন করেছে।
হাওয়াইয়ের হনলুলু সামগ্রিকভাবে ১২৪তম শহর, কিন্তু পরিবেশগত স্কোরে নিখুঁত নম্বর পাওয়া একমাত্র শহর। ডেনমার্কের কোপেনহেগেন এবং আরহুস—উভয় শহরই (যেগুলো থেকে গাড়ি বা ট্রেনে যাতায়াতে প্রায় ৩ ঘণ্টা সময় লাগে) সুশাসনের জন্য ১০০ পেয়েছে। যদিও নিউজিল্যান্ডের অকল্যান্ড, ওয়েলিংটন এবং ক্রাইস্টচার্চ ৯৯.১ নম্বর নিয়ে বেশ কাছাকাছি অবস্থানেই আছে।

পুরো তালিকার শীর্ষে থাকা নিউইয়র্ক সিটি অর্থনীতিতে ১০০, মানবসম্পদে ৮৯.৫, জীবনযাত্রার মানে ৮০.৮, পরিবেশে ৭২.৮ এবং সুশাসনে ৭৫.৭ নম্বর পেয়েছে। এই বার্ষিক সূচকে টানা তৃতীয়বারের মতো শীর্ষস্থান ধরে রাখল নিউ ইয়র্ক। নিউ ইয়র্ক সিটিতে ৮৫.৮ লাখেরও বেশি মানুষ বসবাস করেন এবং প্রতিদিন প্রায় ১০ লাখ মানুষ এর পাঁচটি বরো বা এলাকার ভেতরে ও বাইরে যাতায়াত করেন। নিউ ইয়র্ক সিটি ট্যুরিজমের ডেটা অনুযায়ী, গত বছর ৬ কোটি ৫০ লাখ পর্যটক নিউ ইয়র্ক সিটি পরিদর্শন করেছেন।

৯১ লাখ জনসংখ্যার দেশ ইংল্যান্ডের লন্ডন শহর দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছে, যা মানবসম্পদে ১০০ স্কোর পেলেও অর্থনীতিতে পেয়েছে মাত্র ৮৬.৫। তৃতীয় স্থানে রয়েছে ফ্রান্সের প্যারিস, যা কোনো বিভাগেই পূর্ণাঙ্গ ১০০ স্কোর পায়নি। এর পর রয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আরও দুটি শহর: সিয়াটল এবং সান ফ্রান্সিসকো। তালিকার ষষ্ঠ স্থানে রয়েছে আয়ারল্যান্ডের ডাবলিন, যার পর যথাক্রমে বস্টন, সান হোসে, টোকিও এবং ১০ম স্থানে রয়েছে জুরিখ।

শীর্ষ তালিকার বাইরেও, অক্সফোর্ড ইকোনমিকস বিশেষভাবে নজরে রাখার মতো কিছু শীর্ষ শহরের একটি তালিকা তৈরি করেছে। এই বিভাগে প্রতিটি অঞ্চল থেকে এমন পাঁচটি শহরকে তুলে ধরা হয়েছে, যা বর্তমান মূল তালিকায় হয়তো পর্যাপ্ত প্রতিনিধিত্ব পায়নি, কিন্তু চলমান প্রবৃদ্ধি, সুযোগ এবং সম্ভাবনার কারণে ভবিষ্যতে র‌্যাঙ্কিংয়ে ওপরের দিকে উঠে আসার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে।

নজরে রাখার মতো শহরগুলোর তালিকায় সর্বোচ্চ অবস্থানে রয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই এবং সৌদি আরবের রিয়াদ। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে টেক্সাসের সান অ্যান্টোনিও; আইডাহোর বোইসি; উত্তর ক্যারোলাইনার ডারহাম এবং ফ্লোরিডার জ্যাকসনভিলে—এই শহরগুলোকে নজরে রাখার মতো শহর হিসেবে স্থান দেওয়া হয়েছে।

BP NEWS USA

Add comment

Follow us

Don't be shy, get in touch. We love meeting interesting people and making new friends.

Most discussed