মানুষের বুদ্ধিমত্তাকে ছাড়িয়ে যাওয়ার সক্ষমতাসম্পন্ন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবস্থার ওপর স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের একজন সিনেটর। একই সঙ্গে তিনি উন্নত এআই প্রযুক্তির বিকাশ সাময়িকভাবে স্থগিত রাখারও দাবি জানিয়েছেন।
‘সুপারইন্টেলিজেন্ট’ বা চরম বুদ্ধিমান কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা স্থায়ীভাবে নিষিদ্ধ করার লক্ষ্যে গত বৃহস্পতিবার নতুন একটি বিলও উপস্থাপন করেছেন এই সিনেটর। এর পাশাপাশি তিনি আরও একবার উন্নত এআই ব্যবস্থার উন্নয়ন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেছেন।
শীর্ষস্থানীয় এআই প্রতিষ্ঠানগুলো যখন প্রতিনিয়ত আরও শক্তিশালী মডেল তৈরি করে চলেছে এবং এই অতি ক্ষমতাধর প্রযুক্তিকে নিয়ন্ত্রণে রাখা নিয়ে বৈশ্বিকভাবে উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে, ঠিক এমন এক প্রেক্ষাপটেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। প্রস্তাবিত এই বিল আইনে পরিণত হলে নিষিদ্ধঘোষিত সুপারইন্টেলিজেন্ট এআই ব্যবস্থা তৈরির সঙ্গে যুক্ত নির্বাহী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সর্বোচ্চ ২০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।
মূলত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সম্ভাব্য বিপজ্জনক ব্যবহার নিয়ে দীর্ঘদিনের উদ্বেগ থেকেই এই সিনেটর নতুন এই পদক্ষেপ নিয়েছেন। এ উদ্বেগের সুনির্দিষ্ট কারণ হিসেবে তিনি একটি শীর্ষস্থানীয় এআই প্রতিষ্ঠানের তৈরি এআই এজেন্টের মাধ্যমে সংঘটিত অবৈধ কর্মকাণ্ডের প্রসঙ্গ তুলে ধরেছেন।
এআই খাতের ক্রমবর্ধমান প্রভাব ও ঝুঁকি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে বিতর্ক দীর্ঘদিন ধরেই চলছে। প্রযুক্তি খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দ্রুত অগ্রসরমান এআই প্রযুক্তি অর্থনীতি, কর্মসংস্থান ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলতে যাচ্ছে। অন্যদিকে নীতিনির্ধারকদের একাংশ মনে করছেন, যথাযথ নিয়ন্ত্রণ কাঠামো ছাড়া এআইয়ের অগ্রগতি অনিয়ন্ত্রিত ঝুঁকির জন্ম দিতে পারে।
প্রস্তাবিত বিলে সুপারইন্টেলিজেন্ট এআই ব্যবস্থাকে এমনভাবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে, যেখানে এটি প্রায় সব ক্ষেত্রে মানুষের বুদ্ধিমত্তাকে ছাড়িয়ে যাওয়ার সক্ষমতা রাখে। এমন ব্যবস্থা তৈরি, বিকাশ বা মোতায়েন করার চেষ্টাকে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে এতে। বিলটিতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী পর্যায়ের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি প্রকল্পের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত ব্যক্তিদেরও জবাবদিহির আওতায় আনার কথা বলা হয়েছে।
সিনেটরের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রযুক্তি খাতের দ্রুতগতির প্রতিযোগিতায় নিরাপত্তা বিষয়ক বিবেচনাগুলো প্রায়ই উপেক্ষিত হয়ে যাচ্ছে। তাঁর মতে, লাভের প্রতিযোগিতায় এআই প্রতিষ্ঠানগুলো এমন প্রযুক্তি তৈরির দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, যার সম্ভাব্য পরিণতি সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ ধারণা এখনো স্পষ্ট নয়। এই ঝুঁকি এড়াতেই তিনি সাময়িক স্থগিতাদেশ এবং দীর্ঘমেয়াদে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন।
তবে প্রযুক্তি খাতের একটি অংশ মনে করছে, এ ধরনের কঠোর আইনি বিধিনিষেধ যুক্তরাষ্ট্রের এআই গবেষণা ও উদ্ভাবনের গতিকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে, বিশেষত বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার প্রেক্ষাপটে। তাঁদের যুক্তি, অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হলে তা যুক্তরাষ্ট্রকে এই খাতে প্রতিদ্বন্দ্বী দেশগুলোর তুলনায় পিছিয়ে দিতে পারে।
এই বিতর্কের মধ্যেই প্রস্তাবিত বিলটি এখন মার্কিন কংগ্রেসে পর্যালোচনার অপেক্ষায় রয়েছে। বিলটি চূড়ান্তভাবে পাস হবে কি না এবং হলেও তার প্রকৃত রূপ কেমন দাঁড়াবে, তা নিয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো ধারণা পাওয়া যায়নি।





Add comment