Bp News USA

জনসংখ্যা ১০ মিলিয়নে সীমা প্রস্তাব

সুইজারল্যান্ডে জনসংখ্যা ১০ মিলিয়নে সীমাবদ্ধ রাখার প্রস্তাব নিয়ে দেশজুড়ে তুমুল আলোচনা চলছে। ডানপন্থী রাজনৈতিক শক্তির উত্থাপিত এই প্রস্তাবকে ঘিরে আগামী ১৪ জুন একটি গণভোট অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, যা দেশটির রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। অভিবাসন নীতি ও জনসংখ্যা বৃদ্ধির প্রশ্নে বিভক্তির মধ্যেই এই ভোটকে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

প্রস্তাবটি এনেছে দেশটির বৃহত্তম রাজনৈতিক দল সুইস পিপলস পার্টি। বর্তমানে সুইজারল্যান্ডের জনসংখ্যা প্রায় ৯ দশমিক ১ মিলিয়ন। দলটির প্রস্তাব অনুযায়ী, জনসংখ্যা ১০ মিলিয়নে পৌঁছানোর আগেই সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে যাতে নির্ধারিত সীমা অতিক্রম না করে।

গণভোটে প্রস্তাবটি পাস হলে জনসংখ্যা ৯ দশমিক ৫ মিলিয়নে পৌঁছানোর পর থেকে সরকারকে নতুন আগতদের প্রবেশে বাধা দিতে হবে। এর আওতায় আশ্রয়প্রার্থী এবং বিদেশি বাসিন্দাদের পরিবারের সদস্যরাও অন্তর্ভুক্ত থাকবেন। অর্থাৎ, নির্দিষ্ট সীমা ছুঁই ছুঁই হলেই অভিবাসন নীতিতে কঠোরতা আরোপ বাধ্যতামূলক হয়ে পড়বে।

আরও বলা হয়েছে, জনসংখ্যা ১০ মিলিয়নে পৌঁছালে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে বিদ্যমান অবাধ চলাচল চুক্তি বাতিল করতে সরকার বাধ্য থাকবে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন সুইজারল্যান্ডের সবচেয়ে বড় বাণিজ্য অংশীদার। যদিও দেশটি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য নয়, তবুও ১২০টিরও বেশি দ্বিপাক্ষিক চুক্তির মাধ্যমে তারা ইউরোপীয় একক বাজারে প্রবেশাধিকার এবং মানুষ ও পণ্যের অবাধ চলাচলের সুবিধা ভোগ করে আসছে।

সুইস পিপলস পার্টি দাবি করছে, দেশটিতে এক ধরনের ‘জনসংখ্যা বিস্ফোরণ’ ঘটছে। তাদের মতে, দ্রুত জনসংখ্যা বৃদ্ধি জনসেবা খাতে চাপ তৈরি করছে, অবকাঠামোর ওপর বাড়তি বোঝা ফেলছে এবং বাসাভাড়া বৃদ্ধি করছে। দলটির অবস্থান হলো, সীমাহীন অভিবাসন দেশের আর্থসামাজিক ভারসাম্য নষ্ট করছে।

তবে নির্বাহী ফেডারেল কাউন্সিলের মধ্যে এই প্রস্তাবের পক্ষে সুইস পিপলস পার্টি একাই অবস্থান নিয়েছে। সাত সদস্যের এই জোটভিত্তিক কাউন্সিল সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে প্রস্তাবটির বিরোধিতা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। অর্থাৎ, সরকারের শীর্ষ পর্যায়ে এ উদ্যোগের বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট আপত্তি রয়েছে।

এর মধ্যেই গত বছর সুইজারল্যান্ডভিত্তিক জরিপ সংস্থা লিউয়াস পরিচালিত এক জরিপে দেখা গেছে, জনসংখ্যা সীমা নির্ধারণের প্রস্তাবের পক্ষে জনসমর্থন উল্লেখযোগ্য মাত্রায় রয়েছে। ফলে গণভোটের ফলাফল নিয়ে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মধ্যে কৌতূহল বাড়ছে।

সুইজারল্যান্ডের গণভোট ব্যবস্থা অনুযায়ী, ১৮ মাসের মধ্যে ন্যূনতম এক লাখ যোগ্য ভোটারের স্বাক্ষর সংগ্রহ করা গেলে যে কোনো প্রস্তাব জনভোটে তোলা যায়। এই সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই বর্তমান প্রস্তাবটি ভোটের পর্যায়ে এসেছে।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে প্রচারণা জোরদার করেছে সুইস পিপলস পার্টি। দলটির এক্স অ্যাকাউন্টে শেয়ার করা একটি পোস্টে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি বলে ধারণা করা একটি ছবি প্রকাশ করা হয়। সেখানে দেখা যায়, একদল ধনী ব্যক্তি সিংহাসনের ওপর বসে শ্যাম্পেন হাতে উদযাপন করছেন, আর নিচে অসন্তুষ্ট শ্রমজীবী মানুষের ভিড়। ছবির ক্যাপশনে লেখা হয়, অতিরিক্ত অভিবাসন থেকে একটি ক্ষুদ্র অর্থনৈতিক এলিট গোষ্ঠী লাভবান হচ্ছে, আর সুইস জনগণের বৃহৎ অংশ ভোগান্তির শিকার।

সব মিলিয়ে, ১৪ জুনের গণভোট সুইজারল্যান্ডের অভিবাসন নীতি, অর্থনীতি এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। জনসংখ্যা সীমা নির্ধারণের এই প্রস্তাব দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় একটি বড় পরীক্ষার মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে সরকার ও জনগণকে।

BP NEWS USA

Add comment

Follow us

Don't be shy, get in touch. We love meeting interesting people and making new friends.

Most discussed