দৈনন্দিন রান্নায় ব্যবহৃত কিছু পরিচিত মসলা শুধু স্বাদ ও ঘ্রাণ বাড়ানোর কাজেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এগুলো দিয়ে তৈরি সহজ কিছু পানীয় শরীরের সার্বিক সুস্থতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। হলুদ, মেথি, জিরা কিংবা দারুচিনির মতো উপাদান বহুদিন ধরেই প্রাকৃতিক চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এসব উপাদান দিয়ে তৈরি পানীয় রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা জোরদার করা, রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা, হজম প্রক্রিয়া উন্নত করা এবং শরীরের ফোলাভাব কমাতে সহায়ক হতে পারে।
ব্যস্ত জীবনে সুস্থ থাকতে অনেকেই এখন প্রাকৃতিক উপায়ের দিকে ঝুঁকছেন। খুব সাধারণ কিছু উপকরণ ব্যবহার করে ঘরেই তৈরি করা যায় এমন কয়েকটি স্বাস্থ্যকর পানীয়, যা প্রতিদিনের রুটিনে যুক্ত করলে শরীর ও মন দুটিই সতেজ থাকতে পারে।
হলুদ পানি
হলুদে থাকা প্রাকৃতিক উপাদান শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করে। পাশাপাশি এটি শরীরের ব্যথা ও প্রদাহ কমাতেও ভূমিকা রাখে। প্রতিদিন সকালে এক গ্লাস গরম পানিতে এক চামচ হলুদ গুঁড়া এবং এক চিমটি কালো মরিচ মিশিয়ে খালি পেটে পান করলে উপকার পাওয়া যেতে পারে। নিয়মিত গ্রহণ করলে শরীরের ভেতরের প্রদাহ কমাতে সহায়ক হতে পারে এই পানীয়।
মেথির পানি
মেথি রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে কার্যকর বলে পরিচিত। এটি খারাপ কোলেস্টেরল কমাতে এবং শরীরের বিপাকক্রিয়া সক্রিয় রাখতে সাহায্য করে। পাশাপাশি ইনসুলিন সংবেদনশীলতা উন্নত করতেও ভূমিকা রাখে। এক চা চামচ মেথি সারারাত পানিতে ভিজিয়ে রেখে সকালে সেই পানি ছেঁকে খালি পেটে পান করার পরামর্শ দেওয়া হয়। চাইলে ভেজানো মেথি দানাও চিবিয়ে খাওয়া যেতে পারে। নিয়মিত গ্রহণ করলে এটি শরীরের ভারসাম্য রক্ষায় সহায়ক হতে পারে।
লেবুর পানি
লেবুতে থাকা ভিটামিন ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান শরীরকে সতেজ রাখতে সাহায্য করে। এটি ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক, ত্বকের উজ্জ্বলতা বজায় রাখতে ভূমিকা রাখে এবং ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করতে পারে। এক গ্লাস গরম পানিতে একটি লেবুর রস এবং সামান্য মধু মিশিয়ে সকালে পান করলে সারাদিন প্রাণবন্ত অনুভূতি পাওয়া যায়। প্রতিদিনের অভ্যাসে এটি যুক্ত করলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও শক্তিশালী হতে পারে।
জিরার পানি
হজমশক্তি উন্নত করতে জিরার পানি বিশেষভাবে উপকারী। এটি গ্যাস্ট্রিক বা হজমজনিত অস্বস্তি কমাতে সহায়তা করে এবং শ্বাসকষ্টজনিত কিছু সমস্যা প্রশমনে ভূমিকা রাখতে পারে। এক চা চামচ জিরা দুই কাপ পানিতে ভালোভাবে ফুটিয়ে নিয়ে ছেঁকে সকালে খালি পেটে পান করা যেতে পারে। সহজলভ্য এই পানীয়টি নিয়মিত গ্রহণ করলে পেটের সমস্যায় স্বস্তি মিলতে পারে।
জবের পানি
জবের পানি রক্তে শর্করার মাত্রা স্থিতিশীল রাখতে সহায়ক হিসেবে বিবেচিত হয়। পাশাপাশি এটি ওজন কমাতে সাহায্য করতে পারে। একটি জবের ডাঁটা প্রায় ১৫ মিনিট পানিতে ফুটিয়ে ছেঁকে নিয়ে সকালে পান করলে উপকার পাওয়া যেতে পারে। স্বাস্থ্য সচেতনদের কাছে এটি একটি জনপ্রিয় প্রাকৃতিক পানীয় হিসেবে পরিচিত।
প্রতিদিনের খাদ্যাভ্যাসে সামান্য পরিবর্তন এনে এবং এসব প্রাকৃতিক পানীয় নিয়মিত গ্রহণের মাধ্যমে শরীরের প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো সম্ভব হতে পারে। সহজলভ্য উপকরণ দিয়ে ঘরেই প্রস্তুত করা যায় বলে এগুলো সবার জন্যই সুবিধাজনক বিকল্প। সঠিক নিয়মে ও পরিমিতভাবে গ্রহণ করলে এসব পানীয় সুস্থ জীবনের সহায়ক সঙ্গী হয়ে উঠতে পারে।







Add comment