আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপকে ঘিরে নিরাপত্তা জোরদারে প্রযুক্তিনির্ভর এক নতুন উদ্যোগ নিয়েছে মেক্সিকো। টুর্নামেন্ট চলাকালে অপরাধ দমন এবং সম্ভাব্য ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি মোকাবিলায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সহায়তা করবে বিশেষভাবে তৈরি একদল রোবট কুকুর।
সোমবার মেক্সিকোর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়, নিরাপত্তা ব্যবস্থার অংশ হিসেবে এসব চারপেয়ে রোবট পুলিশ সদস্যদের সহায়ক হিসেবে কাজ করবে। উন্নত প্রযুক্তিসম্পন্ন এই যন্ত্রগুলো এমনভাবে নকশা করা হয়েছে যাতে তারা ঝুঁকিপূর্ণ বা সন্দেহজনক এলাকায় প্রবেশ করে সেখানকার পরিস্থিতি সরাসরি ভিডিও সম্প্রচারের মাধ্যমে নিরাপত্তা বাহিনীকে জানাতে পারে। ফলে যেকোনো পদক্ষেপ নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট বাহিনী ঘটনাস্থলের বাস্তব অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে সিদ্ধান্ত নিতে পারবে।
চলতি বছরের জুন মাসে শুরু হচ্ছে ফুটবলের সবচেয়ে বড় এই বৈশ্বিক আয়োজন। ১১ জুন মেক্সিকো সিটিতে উদ্বোধনী ম্যাচে মুখোমুখি হবে মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকা। টুর্নামেন্ট চলবে ১৯ জুলাই পর্যন্ত। এবারের বিশ্বকাপ যৌথভাবে আয়োজন করছে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকো।
বিশ্বকাপের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে মনতেরে মহানগর এলাকায়। এই অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত গুয়াদালুপে শহরের নগর কাউন্সিল ২৫ লাখ পেসো, যা প্রায় ১ লাখ ৪৫ হাজার মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ, ব্যয় করে প্রাণীসদৃশ রোবটগুলো সংগ্রহ করেছে। কর্তৃপক্ষের মতে, এই বিনিয়োগের লক্ষ্য হচ্ছে বড় আয়োজনের সময় নাগরিক ও দর্শকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
স্থানীয় প্রশাসনের প্রকাশ করা এক ভিডিওচিত্রে দেখা যায়, একটি রোবট চার পায়ে ভর করে পরিত্যক্ত একটি ভবনের ভেতর দিয়ে অগ্রসর হচ্ছে। সেটি ধাপে ধাপে সিঁড়ি বেয়ে ওপরে উঠছে। সিঁড়ি অতিক্রম করতে গিয়ে রোবটটিকে কিছুটা কৌশল প্রয়োগ করতে দেখা যায়, যা এর প্রযুক্তিগত সক্ষমতার ইঙ্গিত দেয়। ভিডিওতে আরও দেখা যায়, রোবটটি সরাসরি দৃশ্য ধারণ করে সম্প্রচার করছে এবং তার পেছনে সতর্ক ভঙ্গিতে অবস্থান করছেন একদল পুলিশ কর্মকর্তা।
একটি মহড়ার অংশ হিসেবে কুকুরসদৃশ রোবটটিকে একজন সশস্ত্র ব্যক্তির মুখোমুখি হতে দেখা যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রোবটটি লাউডস্পিকারের মাধ্যমে ওই ব্যক্তিকে অস্ত্র ফেলে দেওয়ার নির্দেশ দেয়। এর মাধ্যমে বোঝানো হয়েছে, সম্ভাব্য বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে রোবটগুলো প্রথম ধাপে ঝুঁকি মূল্যায়ন ও নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখবে।
গুয়াদালুপে শহরের মেয়র জানিয়েছেন, এসব রোবট কুকুর মূলত ঘটনার প্রাথমিক পর্যায়ে হস্তক্ষেপের সময় পুলিশ সদস্যদের সহায়তা করবে। এর উদ্দেশ্য হলো, সরাসরি ঝুঁকির মুখে না গিয়ে প্রযুক্তির সহায়তায় পরিস্থিতি মূল্যায়ন করা এবং কর্মকর্তাদের শারীরিক ক্ষতির ঝুঁকি কমানো। তিনি আরও বলেন, সংঘাতপূর্ণ বা অনিশ্চিত পরিস্থিতি তৈরি হলে রোবটগুলোকে আগে ঘটনাস্থলে পাঠানো হবে, যাতে নিরাপত্তা বাহিনী প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে পারে।
বিশ্বকাপ চলাকালে মনতেরের বিবিভিএ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হবে চারটি ম্যাচ। টুর্নামেন্টের সময় এই স্টেডিয়াম ‘এস্তাদিও মনতেরেই’ নামে পরিচিত হবে। বিপুলসংখ্যক দর্শক ও আন্তর্জাতিক উপস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে আয়োজক কর্তৃপক্ষ।
প্রযুক্তিনির্ভর এই উদ্যোগ বিশ্বকাপের মতো বৃহৎ ক্রীড়া আসরে নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে।







Add comment