Bp News USA

ইমিগ্রেশন অভিযানে সতর্কতার বার্তা সীমান্ত প্রধানের

যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে অবস্থানরত অভিবাসীদের বিরুদ্ধে পরিচালিত ইমিগ্রেশন অভিযান আরও লক্ষ্যভিত্তিক না হলে জনসমর্থন ক্ষয় হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন দেশটির সীমান্তবিষয়ক শীর্ষ কর্মকর্তা। আসন্ন একটি বইয়ের জন্য দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, আক্রমণাত্মক কৌশল অব্যাহত থাকলেও যদি অগ্রাধিকার ঠিক না রাখা হয়, তাহলে সাধারণ মানুষের আস্থা ধরে রাখা কঠিন হয়ে উঠবে।

সাক্ষাৎকারে ওই কর্মকর্তা জানান, আইন অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে অবস্থানকারী যেকোনো অভিবাসীকে গ্রেপ্তার ও বহিষ্কার করা সম্ভব। তবে দীর্ঘদিন ধরেই তিনি বলে আসছেন, যেসব অভিবাসী অবৈধ অবস্থানের পাশাপাশি অন্য অপরাধে জড়িত, তাদেরকেই প্রথমে গ্রেপ্তার ও বহিষ্কারের আওতায় আনা উচিত। তাঁর মতে, এই নীতিই জনমতের সঙ্গে সবচেয়ে বেশি সামঞ্জস্যপূর্ণ।

তিনি বলেন, অধিকাংশ মার্কিন নাগরিকই মনে করেন যে অপরাধে জড়িত অবৈধ অভিবাসীদের দেশ ছাড়তে হবে। এই অগ্রাধিকার বজায় রাখা গেলে জনগণের আস্থা ধরে রাখা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই অভিযান মানবিক পদ্ধতিতে পরিচালিত হওয়া জরুরি, কারণ কঠোরতার পাশাপাশি মানবিকতা না থাকলে সমর্থন দীর্ঘস্থায়ী হয় না।

এই মন্তব্য আসে এমন এক সময়ে, যখন সীমান্তরক্ষী বাহিনী লস অ্যাঞ্জেলেসে প্রথম বড় আকারের অভিযান পরিচালনা শুরু করে। সে সময় স্থানীয় অভিযানের দায়িত্বে থাকা এক কমান্ডারের নেতৃত্বে বসবাস ও কর্মস্থলভিত্তিক ব্যাপক গ্রেপ্তার অভিযান চালানো হয়। আদালতে দাখিল করা নথি অনুযায়ী, এসব অভিযানে নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুর পরিবর্তে পুরো এলাকাজুড়ে অভিবাসীদের আটক করা হয়।

এই ধরনের বিস্তৃত অভিযান জুনের শুরুতে একটি বাণিজ্যিক এলাকায় শুরু হলে টানা পাঁচ সপ্তাহ ধরে বিক্ষোভ চলে। পরিস্থিতি সামাল দিতে কেন্দ্রীয় সরকার ন্যাশনাল গার্ড ও মেরিন সদস্য মোতায়েন করে। একটি অভিযানে পার্কিং এলাকায় অপেক্ষমাণ দিনমজুরদের ধরতে ভাড়াকৃত ট্রাক ব্যবহার করা হয়, যা ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়।

পরবর্তী সময়ে শিকাগো, শার্লট, নিউ অরলিন্সসহ বিভিন্ন শহরে অভিযান ছড়িয়ে পড়লে স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগের কৌশল নিয়ে প্রশ্ন আরও তীব্র হয়। মিনিয়াপোলিসে দুটি ঘটনায় মার্কিন নাগরিক নিহত হওয়ার পর জনমনে ক্ষোভ চরমে পৌঁছায়। ওই অভিযানে গ্যাস স্টেশনসহ বিভিন্ন স্থানে লোকজনকে নাগরিকত্ব প্রমাণের কাগজ দেখাতে বাধ্য করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে।

বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে কাঁদানে গ্যাস ব্যবহারের মতো কৌশলও তীব্র সমালোচনা ও আইনি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে। শেষ পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কমান্ডারকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে সীমান্তবিষয়ক শীর্ষ কর্মকর্তাকে সেই দায়িত্ব দেওয়া হয়। তিনি দায়িত্ব নেওয়ার পর স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতা বাড়লে ফেডারেল সদস্যসংখ্যা কমানোর কথা বলেন এবং প্রথম ধাপে একটি শহরে মোতায়েন সদস্যসংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস করেন।

এদিকে, রাষ্ট্রপতিও এক সাক্ষাৎকারে ইঙ্গিত দেন যে ইমিগ্রেশন প্রয়োগে হয়তো আরও কিছুটা নরম পদ্ধতি বিবেচনা করা যেতে পারে। সীমান্ত প্রধান জানান, আইনি প্রক্রিয়ায় আশ্রয় চাইতে আসা অভিবাসীদের গ্রেপ্তার করা হলে তা জনমনে প্রশ্ন তুলতে পারে এবং আস্থার সংকট তৈরি করতে পারে।

সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রশাসনের প্রথম নয় মাসে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের করা গ্রেপ্তারের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ ছিল এমন অভিবাসীদের, যাদের বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি দণ্ড ছিল না। এক জরিপে দেখা যায়, উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মানুষ মনে করেন ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের কৌশল অতিরিক্ত কঠোর হয়ে উঠেছে।

যদিও স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ দাবি করছে যে তাদের অভিযান লক্ষ্যভিত্তিকই রয়েছে এবং প্রশাসনের ভেতরে এ নিয়ে কোনো মতভেদ নেই, তবু বিভিন্ন সূত্র বলছে, সংখ্যাগত সাফল্য দেখাতে গিয়ে অপরাধের ইতিহাস না থাকা অভিবাসীদেরও গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। সীমান্ত প্রধান আবারও স্পষ্ট করেন, অপরাধীদের অগ্রাধিকার দেওয়া মানে এই নয় যে অন্য কেউ আইনের বাইরে থাকলে তাকে ছাড় দেওয়া হবে না।

তার ভাষায়, অবৈধভাবে দেশে থাকলে কেউই আইনের বাইরে নয়। তবে বিশ্ববাসীর কাছে এমন বার্তা দেওয়া যাবে না যে অবৈধভাবে প্রবেশ করলেও অন্য অপরাধ না করলে কোনো ঝুঁকি নেই। এই ভারসাম্য রক্ষা করাই ইমিগ্রেশন নীতির সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

BP NEWS USA

Add comment

Follow us

Don't be shy, get in touch. We love meeting interesting people and making new friends.

Most discussed