একটি হারানো আংটি যে চার দশকেরও বেশি সময় পর ফিরে আসতে পারে, তা যেন রূপকথার গল্পের মতোই শোনায়। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের এক সমুদ্রসৈকতে ঠিক এমনই একটি ঘটনা ঘটেছে, যা ইতিমধ্যে অনেকের আবেগ ছুঁয়ে গেছে। ১৯৮২ সালে হারিয়ে যাওয়া একটি স্কুলের স্মৃতিবাহী আংটি অবশেষে ২০২৬ সালে ফিরে পেয়েছেন তার প্রকৃত মালিক।
ঘটনাটি যুক্তরাষ্ট্রের মিসিসিপি অঙ্গরাজ্যের হ্যারিসন কাউন্টির পাস ক্রিশ্চিয়ান শহরের একটি সমুদ্রসৈকতকে ঘিরে। চার দশকের বেশি সময় আগে ওই শহরের একজন বাসিন্দা তখন স্থানীয় একটি হাইস্কুলের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। বন্ধুদের সঙ্গে আনন্দঘন সময় কাটাতে গিয়ে তিনি সমুদ্রসৈকতে যান। সেদিনের আনন্দ মুহূর্তেই বিষাদে রূপ নেয়, যখন স্কুল থেকে দেওয়া স্মারক আংটিটি তাঁর আঙুল থেকে খুলে বালুর মধ্যে হারিয়ে যায়।
আংটিটি হারানোর পরপরই শুরু হয় খোঁজাখুঁজি। বন্ধুদের সঙ্গে তিনি বালু খুঁড়ে আংটিটি খুঁজে বের করার চেষ্টা করেন। কিন্তু এতে উল্টো আংটিটি আরও গভীরে চাপা পড়ে যায়। পরে স্কুল কর্তৃপক্ষের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা মেটাল ডিটেক্টর নিয়ে এসে অনুসন্ধানে যোগ দেন। তবুও কোনো ফল পাওয়া যায়নি। একসময় বাধ্য হয়েই সবাই হাল ছেড়ে দেন। সেই আংটির সঙ্গে জড়িয়ে থাকা স্মৃতিটুকু নিয়েই সামনে এগিয়ে যান তিনি।
দীর্ঘ ৪৪ বছর পর হঠাৎ করেই ফিরে আসে সেই হারানো অধ্যায়ের গল্প। চলতি বছরের একদিন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি বার্তা পান তিনি। বার্তায় এক ব্যক্তি জানান, তিনি নিয়মিতভাবে সমুদ্রসৈকতে মেটাল ডিটেক্টর ব্যবহার করে হারানো বা মূল্যবান জিনিস খোঁজেন। সেই অনুসন্ধানের সময়ই তিনি একটি পুরোনো আংটি পেয়েছেন। যাচাই করে বুঝতে পারেন, আংটিটির প্রকৃত মালিককে খুঁজে বের করা সম্ভব। তাই সেটি ফিরিয়ে দেওয়ার আগ্রহ থেকেই তিনি যোগাযোগ করেন।
এই বার্তা পাওয়ার পর প্রথমে বিষয়টি বিশ্বাস করতে পারেননি আংটির মালিক। পরে একটি স্থানীয় টেলিভিশন চ্যানেলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, খবরটি শোনার পর মনে হয়েছিল কেউ হয়তো মজা করছে। কিন্তু বিস্তারিত জানার পর নিশ্চিত হন, সত্যিই তাঁর হারানো আংটিটিই খুঁজে পাওয়া গেছে।
সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় ছিল আংটিটি যেখানে পাওয়া গেছে, সেটি ঠিক সেই জায়গার কাছাকাছি, যেখানে ১৯৮২ সালে সেটি হারিয়েছিল। তিনি জানান, জানুয়ারি থেকে মে মাসের মধ্যবর্তী কোনো এক সময়ে আংটিটি হারিয়েছিলেন তিনি। এরপর এই দীর্ঘ সময়ে ওই উপকূল দিয়ে সাতটি হারিকেন বয়ে গেছে। আঘাত হেনেছে আরও বহু শক্তিশালী ঝড়। সৈকতে চালানো হয়েছে ভারী যন্ত্রপাতি। এতসব প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট ধকলের মধ্যেও আংটিটি প্রায় অক্ষত অবস্থায় ছিল।
স্থানীয় সম্প্রচারমাধ্যমকে তিনি বলেন, আংটিটির গায়ে মাত্র একটি ছোট আঁচড় রয়েছে। তা ছাড়া এটি প্রায় আগের মতোই রয়েছে। চার দশকের বেশি সময় ধরে বালুর নিচে চাপা পড়ে থেকেও এমন অবস্থা সত্যিই অবাক করার মতো।
এই আংটিটি ছিল তাঁর স্কুলজীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্মারক। সেই সময়ের বন্ধু, শিক্ষক এবং কৈশোরের নানা স্মৃতির সঙ্গে জড়িয়ে ছিল এটি। তাই এত বছর পর আংটিটি ফিরে পাওয়াকে তিনি শুধুই একটি বস্তু ফিরে পাওয়া হিসেবে দেখছেন না। বরং এটিকে নিজের জীবনের একটি হারানো অধ্যায় আবার ফিরে পাওয়ার অনুভূতির সঙ্গে তুলনা করছেন।
এই ঘটনা আবারও প্রমাণ করে, সময় যতই পার হোক না কেন, কিছু স্মৃতি আর গল্প কখনোই হারিয়ে যায় না। সঠিক মুহূর্তে, অপ্রত্যাশিত উপায়ে সেগুলো আবার ফিরে আসে মানুষের জীবনে।







Add comment