সুপার বোল শুধু একটি ফুটবল ম্যাচ নয়; এটি যুক্তরাষ্ট্রের ক্রীড়া ও সংস্কৃতির সবচেয়ে বড় আয়োজনগুলোর একটি। তাই এই ইভেন্টের টিকিটের দামও সাধারণ ম্যাচের সঙ্গে তুলনীয় নয়। সীমিত সংখ্যক আসন, বিপুল চাহিদা এবং নিয়ন্ত্রিত বণ্টনব্যবস্থার কারণে সুপার বোলের টিকিট কার্যত একটি বিলাসপণ্যে পরিণত হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই বাস্তবতা খুব শিগগির বদলানোর কোনো লক্ষণ নেই।
চলতি বছর ক্যালিফোর্নিয়ার সান্তা ক্লারায় লেভিস স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত সুপার বোলে এর ব্যতিক্রম দেখা যায়নি। সেকেন্ডারি টিকিট বিক্রয় প্ল্যাটফর্মের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত সেখানে সবচেয়ে কম দামের একটি টিকিটের মূল্য ছিল ৩ হাজার ৮০০ ডলারের বেশি। গড় টিকিটের দাম দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ২০০ ডলারেরও ওপরে। এই পরিসংখ্যানই দেখিয়ে দেয়, কেন সুপার বোল সাধারণ দর্শকদের জন্য ক্রমেই অধরা হয়ে উঠছে।
বর্তমানে সুপার বোল একচেটিয়া অভিজ্ঞতার প্রতীক। ১৯৬৭ সালে প্রথম সুপার বোলের দুটি টিকিট কিনতে যে অর্থ প্রয়োজন হতো, আজকের মূল্যস্ফীতির হিসাবে সেটি মাত্র ১১৮ ডলারের সামান্য বেশি। অথচ এখন একটি টিকিটের দাম এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে, যা দিয়ে একটি মাঝারি মানের গাড়ি কেনা সম্ভব। এই তুলনাই সুপার বোলের টিকিট মূল্যের দীর্ঘমেয়াদি উত্থানকে স্পষ্ট করে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই উচ্চমূল্যের পেছনে সবচেয়ে বড় কারণ হলো পরিকল্পিত স্বল্পতা। স্টেডিয়ামগুলোর আসনসংখ্যা একটি নির্দিষ্ট সীমার বাইরে বাড়ানো সম্ভব নয়। ফলে দর্শকের সংখ্যা যতই বাড়ুক, আসনের সংখ্যা প্রায় একই থেকে যাচ্ছে। এতে করে স্বাভাবিকভাবেই টিকিটের ওপর মূল্যচাপ তৈরি হয়।
একজন ক্রীড়া অর্থনীতিবিদ বলেন, অনেক দর্শকের কাছে সুপার বোলের আকর্ষণ কেবল মাঠের খেলায় সীমাবদ্ধ নয়; এটি একটি সাংস্কৃতিক অভিজ্ঞতা। কোন দুটি দল খেলছে, সেটি অনেকের কাছেই গৌণ বিষয়। এই মানসিকতাই চাহিদাকে আরও বাড়িয়ে তোলে।
টিকিটের দুষ্প্রাপ্যতার আরেকটি বড় কারণ হলো বণ্টনপ্রক্রিয়া। সুপার বোলের প্রতিটি টিকিট কোথায় যাবে, তা নিয়ন্ত্রণ করার আইনি ক্ষমতা সংশ্লিষ্ট ক্রীড়া সংস্থার রয়েছে। অতীতে দেখা গেছে, একটি সুপার বোলে জনসাধারণের জন্য বিক্রির আগেই প্রায় সব টিকিট বরাদ্দ হয়ে যায়। অংশগ্রহণকারী দুটি দল, আয়োজক দল, অন্যান্য দল, করপোরেট প্রতিষ্ঠান, সম্প্রচার সংস্থা, স্পনসর ও আয়োজক কমিটির মধ্যে টিকিট ভাগ করে দেওয়া হয়।
খেলোয়াড় ও দলীয় কর্মীরা সবার আগে টিকিট কেনার সুযোগ পান। এরপর অনেক দল তাদের স্পনসরদের পুরস্কার হিসেবে টিকিট দেয়। সব মিলিয়ে সাধারণ দর্শকদের জন্য খুব অল্পসংখ্যক টিকিটই অবশিষ্ট থাকে। এই সামান্য টিকিট সাধারণত লটারির মাধ্যমে দেওয়া হয়, যেখানে অংশ নিতে হলেও অনেক সময় সিজন টিকিটধারী হতে হয়।
যাঁরা এই লটারিতে টিকিট পান, তাঁদের কেউ কেউ পরে সেগুলো মূল দামের কয়েক গুণ বেশি দামে বিক্রি করেন। ফলে সেকেন্ডারি বাজারে দাম আরও বেড়ে যায়। এর ফল হিসেবে সুপার বোলের দর্শকদের বড় একটি অংশই উচ্চ আয়ের মানুষ।
গত বছর নিউ অরলিন্সে অনুষ্ঠিত সুপার বোলের পর প্রকাশিত একটি অর্থনৈতিক প্রভাব প্রতিবেদনে দেখা যায়, প্রায় এক-চতুর্থাংশ দর্শকের পারিবারিক আয় ছিল পাঁচ লাখ ডলারের বেশি। অধিকাংশ দর্শকের আয় দুই লাখ থেকে পাঁচ লাখ ডলারের মধ্যে। তুলনামূলকভাবে, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যম আয়ের নিচে থাকা দর্শকের সংখ্যা ছিল খুবই কম।
বিশ্লেষকদের মতে, ম্যাচের দিন যত ঘনিয়ে আসে, ততই দাম কিছুটা কমতে পারে। তবে এই ধরনের ছাড় খুব দ্রুতই বিক্রি হয়ে যায়। বাস্তবতা হলো, ধনী দর্শকেরা নিশ্চিতভাবে একটি আসন পেতে আরও বেশি অর্থ ব্যয় করতে রাজি। তাই টিকিটের দামের সর্বোচ্চ সীমা এখনো নির্ধারিত হয়নি বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
সীমিত আসন এবং উচ্চ আয়ের দর্শকদের উপস্থিতির কারণে ভবিষ্যতেও সুপার বোলের টিকিটের দাম আরও বাড়তে পারে। অর্থনীতিবিদদের ভাষায়, এই আকাশছোঁয়া মূল্যবৃদ্ধি থামার সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ।







Add comment