আগামী এক দশকেরও কম সময়ের মধ্যে চাঁদে একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ শহর গড়ে তোলার লক্ষ্য সামনে রেখে এগোচ্ছে একটি মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা। সংস্থাটির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া সাম্প্রতিক বক্তব্যে জানান, এখন তাদের সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার হলো চাঁদে দ্রুত পৌঁছানো এবং মানবসভ্যতার দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
নিজ মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ওই শীর্ষ নির্বাহী উল্লেখ করেন, পাঁচ থেকে সাত বছরের মধ্যে মঙ্গল গ্রহে শহর গড়ার উচ্চাকাঙ্ক্ষা তারা এখনো পরিত্যাগ করেননি। তবে বাস্তবতা ও কৌশলগত বিবেচনায় এই মুহূর্তে চাঁদকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। তাঁর ভাষায়, সভ্যতার ভবিষ্যৎ সুরক্ষার জন্য চাঁদে উপস্থিতি দ্রুত নিশ্চিত করা জরুরি হয়ে উঠেছে।
এই বক্তব্যের সঙ্গে মিল পাওয়া যায় গত সপ্তাহে প্রকাশিত একটি আন্তর্জাতিক ব্যবসা বিষয়ক প্রতিবেদনের। সেখানে বলা হয়, সংশ্লিষ্ট মহাকাশ সংস্থাটি তাদের বিনিয়োগকারীদের জানিয়েছে যে, আপাতত মঙ্গল গ্রহে অভিযান স্থগিত রেখে চাঁদকেই প্রধান লক্ষ্য হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। মঙ্গল অভিযানের পরিকল্পনা ভবিষ্যতের অন্য কোনো পর্যায়ে বাস্তবায়ন করা হতে পারে।
সংস্থাটির লক্ষ্য অনুযায়ী, ২০২৭ সালের মার্চ মাসে চাঁদে একটি মানববিহীন মহাকাশযান অবতরণ করানো হবে। অথচ এক বছর আগেও লক্ষ্য ছিল ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ মঙ্গল গ্রহে মানববিহীন মিশন পাঠানো। এই পরিবর্তন স্পষ্টভাবে দেখাচ্ছে যে, কৌশলগত অগ্রাধিকার নতুনভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে।
চলতি দশকের মধ্যেই চাঁদে আবার মানুষ পাঠানোর প্রতিযোগিতা তীব্র আকার ধারণ করেছে। যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে এই প্রতিযোগিতা ক্রমেই বাড়ছে। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ১৯৭২ সালে অ্যাপোলো ১৭ মিশনের পর থেকে এখনো কোনো মানুষ চাঁদের পৃষ্ঠে পা রাখেনি। ফলে নতুন করে চাঁদে মানব উপস্থিতি প্রতিষ্ঠা বৈশ্বিক মহাকাশ গবেষণায় একটি বড় মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এরই মধ্যে প্রযুক্তি ও ব্যবসা খাতে আরেকটি বড় সিদ্ধান্তের কথাও জানানো হয়েছে। ওই উদ্যোক্তার নেতৃত্বাধীন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠানকে মহাকাশ ও স্যাটেলাইট কোম্পানিটি অধিগ্রহণ করেছে। এই চুক্তিতে মহাকাশ কোম্পানিটির মূল্যায়ন ধরা হয়েছে প্রায় এক লাখ কোটি ডলার এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সংস্থাটির মূল্য নির্ধারিত হয়েছে প্রায় ২৫ হাজার কোটি ডলার।
এই অধিগ্রহণের পক্ষে থাকা বিশ্লেষকদের মতে, এর মাধ্যমে মহাকাশভিত্তিক ডেটা সেন্টার গড়ে তোলার পরিকল্পনা আরও শক্তিশালী হবে। সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তার ধারণা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তির বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে কম্পিউটিং শক্তির চাহিদা যেভাবে বাড়ছে, তাতে পৃথিবীর তুলনায় মহাকাশে ডেটা সেন্টার পরিচালনা করা ভবিষ্যতে বেশি সাশ্রয়ী হতে পারে।
পুঁজিবাজার সম্পর্কিত দিক থেকেও বড় পরিকল্পনার কথা জানানো হয়েছে। সংস্থাটি আশা করছে, চলতি বছরের শেষের দিকে শেয়ারবাজার থেকে প্রায় পাঁচ হাজার কোটি ডলার সংগ্রহ করা সম্ভব হবে। এটি বাস্তবায়িত হলে তা ইতিহাসের অন্যতম বৃহৎ পাবলিক অফারিং হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
ব্র্যান্ড প্রচারের ক্ষেত্রেও নতুন উদ্যোগ দেখা গেছে। সম্প্রতি ভোরের দিকে একটি বড় ক্রীড়া আসরকে কেন্দ্র করে প্রতিষ্ঠানটির প্রথম বিজ্ঞাপন প্রকাশ করা হয়, যেখানে স্যাটেলাইটভিত্তিক ইন্টারনেট সেবার প্রচার চালানো হয়েছে।
মহাকাশ গবেষণার পাশাপাশি বৈদ্যুতিক যানবাহন খাতেও সমানতালে পরিবর্তন আনা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তার মালিকানাধীন বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটি বৈশ্বিক বাজারে নিজেদের অবস্থান শক্ত করার পর এখন স্বয়ংচালিত গাড়ি ও রোবট প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে। এ বছর এই খাতে প্রায় দুই হাজার কোটি ডলার ব্যয়ের পরিকল্পনা রয়েছে।
এই লক্ষ্য বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে সম্প্রতি জানানো হয়েছে, ক্যালিফোর্নিয়ার একটি কারখানায় দুটি গাড়ির মডেলের উৎপাদন বন্ধ করা হবে। এর ফলে সেখানে মানবসদৃশ রোবট তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় জায়গা তৈরি করা সম্ভব হবে বলে কর্তৃপক্ষ মনে করছে।
সব মিলিয়ে, চাঁদে শহর গড়ার উচ্চাকাঙ্ক্ষা থেকে শুরু করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, মহাকাশভিত্তিক ডেটা সেন্টার ও রোবট প্রযুক্তি পর্যন্ত বিস্তৃত এই পরিকল্পনা আগামী দশকে বৈশ্বিক প্রযুক্তি ও মহাকাশ গবেষণার গতিপথে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।







Add comment