Bp News USA

বাসিয়াংয়ের তাণ্ডবে ফিলিপাইনে বিপর্যয়

ফিলিপাইনে আঘাত হানা শক্তিশালী ক্রান্তীয় ঝড় বাসিয়াংয়ের প্রভাবে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়ের সৃষ্টি হয়েছে। ২০২৬ সালে দেশটিতে আঘাত হানা দ্বিতীয় শক্তিশালী এই ঝড়ের কারণে সৃষ্ট বন্যা ও ভূমিধসে অন্তত ১২ জনের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। ভারি বর্ষণ ও পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধসের ফলে এই প্রাণহানি ঘটেছে বলে জানিয়েছে দেশটির দুর্যোগ মোকাবিলা ও সিভিল ডিফেন্স কর্তৃপক্ষ।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ঝড়টির প্রভাবে প্রধানত মিন্দানাও দ্বীপসহ উত্তর মিন্দানাও অঞ্চল এবং পার্শ্ববর্তী নেগ্রোস দ্বীপে রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাত হয়েছে। টানা বর্ষণে নদী ও খাল উপচে পড়ায় শত শত গ্রাম প্লাবিত হয়। এতে অন্তত ২ লাখ ৩২ হাজারের বেশি মানুষ সরাসরি ক্ষতির মুখে পড়েছেন। অনেক এলাকায় ঘরবাড়ি, ফসলি জমি ও যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

বন্যার পানি দ্রুত বাড়তে থাকায় প্রায় ৬৪ হাজার পরিবার তাদের বসতভিটা ছেড়ে নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে। অনেক মানুষকে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র, স্কুল ভবন ও সরকারি স্থাপনায় স্থানান্তর করা হয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার সর্বশেষ তথ্যমতে, বর্তমানে প্রায় ১৬ হাজার পরিবার বিভিন্ন সরকারি আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছে।

দেশটির আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, উত্তর মিন্দানাও অঞ্চলে যে পরিমাণ বৃষ্টি হয়েছে তা গত এক শতাব্দীর মধ্যে সর্বোচ্চ। অতিবৃষ্টির ফলে নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। এর ফলে ইলিগান সিটিসহ কয়েকটি এলাকায় অন্তত তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু ভেসে যায়, যা স্থানীয় যোগাযোগ ব্যবস্থাকে প্রায় অচল করে দিয়েছে। পাশাপাশি বহু এলাকায় নিষ্কাশন ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় সৃষ্টি হয়েছে তীব্র জলাবদ্ধতা, যা উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি করছে।

ঝড়ের প্রভাব শুধু স্থলভাগেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে মিমারোপা ও কারাগা অঞ্চলের অন্তত ৮২টি সমুদ্রবন্দরে নৌযান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে চার হাজারেরও বেশি যাত্রী এবং কয়েকশ মালবাহী জাহাজ বিভিন্ন বন্দরে ও সমুদ্রপথে আটকে পড়েছে। এতে পণ্য পরিবহন ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সরবরাহেও বিঘ্ন ঘটার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

শনিবার ৭ ফেব্রুয়ারি ভোরের দিকে ঝড়টি কিছুটা দুর্বল হয়ে নিম্নচাপে পরিণত হলেও পরিস্থিতি এখনও পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে অব্যাহত ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে এবং নতুন করে ভূমিধসের ঝুঁকিও দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে পাহাড়ি ও নদী তীরবর্তী অঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

সরকারি সংস্থাগুলো ইতোমধ্যে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম জোরদার করেছে। ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর জন্য খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, চিকিৎসা সহায়তা ও অন্যান্য জরুরি সামগ্রী বিতরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে বিস্তীর্ণ এলাকায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বেশি হওয়ায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ফিরিয়ে আনতে সময় লাগবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বাসিয়াংয়ের এই আঘাত আবারও স্মরণ করিয়ে দিয়েছে, ঘন ঘন প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর জন্য কার্যকর দুর্যোগ প্রস্তুতি ও অবকাঠামোগত সক্ষমতা কতটা গুরুত্বপূর্ণ।

BP NEWS USA

Add comment

Follow us

Don't be shy, get in touch. We love meeting interesting people and making new friends.

Most discussed