বর্তমান প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে শিক্ষার্থীদের জন্য কেবল একাডেমিক সাফল্যই যথেষ্ট নয়; আর্থিক সচেতনতা ও বাস্তব অভিজ্ঞতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। পড়াশোনার পাশাপাশি আয় করার প্রবণতা দিন দিন বাড়ছে ছাত্রসমাজের মধ্যে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ছাত্রজীবনে ছোট পরিসরে ব্যবসায় যুক্ত হলে তা ভবিষ্যতের কর্মজীবন ও উদ্যোক্তা হওয়ার পথে ইতিবাচক ভূমিকা রাখে। এমন বাস্তবতায় শিক্ষার্থীদের উপযোগী পাঁচটি সম্ভাবনাময় ছোট ব্যবসার ধারণা তুলে ধরা হলো।
প্রথমেই উল্লেখযোগ্য হলো ফ্রিল্যান্সিংভিত্তিক কাজ। তথ্যপ্রযুক্তির অগ্রগতির ফলে ঘরে বসেই বৈশ্বিক মার্কেটপ্লেসে কাজ করার সুযোগ তৈরি হয়েছে। গ্রাফিক ডিজাইন, কনটেন্ট রাইটিং, ডিজিটাল মার্কেটিং কিংবা প্রোগ্রামিং—এ ধরনের কাজে দক্ষ শিক্ষার্থীরা পড়াশোনার পাশাপাশি নিয়মিত আয় করতে পারছেন। সময়ের স্বাধীনতা থাকায় এটি শিক্ষার্থীদের জন্য একটি কার্যকর বিকল্প হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
দ্বিতীয় সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র হলো অনলাইন টিউশন ও কোচিং সেবা। যারা নির্দিষ্ট বিষয়ে পারদর্শী, তারা স্কুল ও কলেজপড়ুয়া শিক্ষার্থীদের অনলাইনে পড়িয়ে আয় করতে পারেন। এতে নিজের একাডেমিক দক্ষতা আরও মজবুত হয় এবং একই সঙ্গে শিক্ষাদানের অভিজ্ঞতাও অর্জিত হয়।
তৃতীয়ত, হোমমেড খাবারের ব্যবসা শিক্ষার্থীদের মধ্যে দ্রুত জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। ক্যাম্পাস বা আশপাশের এলাকায় স্বাস্থ্যসম্মত ও সাশ্রয়ী খাবারের চাহিদা সবসময়ই থাকে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন ফুড ডেলিভারি প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে অল্প মূলধনেই এই ব্যবসা শুরু করা সম্ভব।
চতুর্থ ব্যবসার ধারণা হিসেবে রয়েছে অনলাইন রিসেলিং বা ই-কমার্সভিত্তিক পণ্য বিক্রি। ফেসবুক পেজ, ইনস্টাগ্রাম বা বিভিন্ন অনলাইন মার্কেটপ্লেসের মাধ্যমে পোশাক, এক্সেসরিজ কিংবা প্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রি করা যায়। এতে নিজস্ব দোকান ছাড়াই ব্যবসা পরিচালনার সুযোগ তৈরি হয়।
সবশেষে রয়েছে হস্তশিল্প ও সৃজনশীল পণ্যের ব্যবসা। হাতে তৈরি গয়না, ক্রাফটস, কাস্টমাইজড উপহার কিংবা শিল্পকর্মের প্রতি আগ্রহ থাকলে তা সহজেই আয়ের উৎসে রূপান্তর করা যায়। অনলাইন প্ল্যাটফর্মের বিস্তারে এই ধরনের পণ্যের বাজার দিন দিন বড় হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ছাত্রজীবনে ছোট ব্যবসায় যুক্ত হলে শিক্ষার্থীরা দায়িত্ববোধ, সময় ব্যবস্থাপনা ও বাস্তব জীবনের গুরুত্বপূর্ণ দক্ষতা অর্জন করে। তবে একাডেমিক পড়াশোনাকে অগ্রাধিকার দিয়ে পরিকল্পিতভাবে এগোনোই সফলতার চাবিকাঠি। সঠিক উদ্যোগ ও পরিশ্রম থাকলে ছাত্রজীবন থেকেই গড়ে উঠতে পারে ভবিষ্যতের সফল উদ্যোক্তা।







Add comment