Bp News USA

প্রাপ্তবয়স্কদের সুস্থতার জন্য পর্যাপ্ত ঘুম জরুরি

স্বাস্থ্যবিষয়ক গবেষণায় বারবার উঠে এসেছে, প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের সুস্থ জীবনযাপনের অন্যতম প্রধান ভিত্তি হলো পর্যাপ্ত ঘুম। আধুনিক ব্যস্ত জীবনে কাজের চাপ, প্রযুক্তির অতিরিক্ত ব্যবহার ও মানসিক উদ্বেগের কারণে অনেকেই নিয়মিত ঘুমের ঘাটতিতে ভুগছেন। কিন্তু চিকিৎসাবিজ্ঞানীরা বলছেন, এই অবহেলা দীর্ঘমেয়াদে শরীর ও মনের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের জন্য প্রতিরাতে গড়ে কমপক্ষে ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা ঘুমানো আদর্শ। এই সময়ের ঘুম শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রম ঠিক রাখতে সহায়তা করে। কেউ কেউ মনে করেন, কম ঘুমিয়েও দৈনন্দিন কাজ চালিয়ে নেওয়া সম্ভব। বাস্তবে এটি সাময়িক হলেও দীর্ঘদিন এমন চলতে থাকলে নানা শারীরিক ও মানসিক সমস্যা দেখা দিতে পারে।

ঘুমের সময় মানবদেহে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জৈব প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। এই সময় মস্তিষ্ক সারাদিনের তথ্য গুছিয়ে নেয়, স্মৃতিশক্তি শক্তিশালী হয় এবং মানসিক চাপ কমে। পাশাপাশি শরীরের কোষগুলো নিজেকে মেরামত করে, রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে এবং হরমোনের ভারসাম্য বজায় থাকে। পর্যাপ্ত ঘুম না হলে এসব প্রক্রিয়া ব্যাহত হয়।

চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, নিয়মিত কম ঘুমালে হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস এবং স্থূলতার ঝুঁকি বাড়ে। শুধু তাই নয়, ঘুমের ঘাটতির সঙ্গে বিষণ্নতা, উদ্বেগ ও মনোযোগের ঘাটতির সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। কর্মজীবী মানুষের ক্ষেত্রে এর প্রভাব আরও স্পষ্টভাবে দেখা যায়, কারণ কম ঘুম কর্মক্ষমতা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা কমিয়ে দেয়।

বিশেষজ্ঞরা আরও জানান, ঘুম শুধু সময়ের বিষয় নয়, ঘুমের গুণগত মানও সমান গুরুত্বপূর্ণ। গভীর ও নিরবচ্ছিন্ন ঘুম না হলে শরীর পুরোপুরি বিশ্রাম পায় না। রাতে বারবার ঘুম ভেঙে যাওয়া বা দেরিতে ঘুমাতে যাওয়ার অভ্যাস ঘুমের স্বাভাবিক চক্র নষ্ট করে দেয়। তাই প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমাতে যাওয়া ও ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস গড়ে তোলার পরামর্শ দেওয়া হয়।

লifestyle পরিবর্তনের মাধ্যমেও ভালো ঘুম নিশ্চিত করা সম্ভব বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। ঘুমানোর আগে মোবাইল ফোন ও অন্যান্য স্ক্রিন ব্যবহার কমানো, ক্যাফেইনজাতীয় পানীয় এড়িয়ে চলা এবং ঘুমানোর পরিবেশ আরামদায়ক রাখা এতে সহায়ক। হালকা ব্যায়াম ও নিয়মিত হাঁটাচলাও রাতে ভালো ঘুমের জন্য উপকারী বলে ধরা হয়।

বর্তমান সময়ে ঘুমকে অনেকেই বিলাসিতা হিসেবে দেখলেও স্বাস্থ্যবিদদের মতে এটি একটি মৌলিক প্রয়োজন। পর্যাপ্ত ঘুম ছাড়া সুস্থ জীবন কল্পনা করা কঠিন। তাই দৈনন্দিন ব্যস্ততার মধ্যেও নিজের ঘুমের সময় ও মানের দিকে গুরুত্ব দেওয়াই দীর্ঘমেয়াদে সুস্থ থাকার অন্যতম চাবিকাঠি।

BP NEWS USA

Add comment

Follow us

Don't be shy, get in touch. We love meeting interesting people and making new friends.

Most discussed