কক্সবাজারের টেকনাফে বিএনপি প্রার্থীর নির্বাচনী প্রচারণা চলাকালে হঠাৎ গুলিবর্ষণের ঘটনায় কিশোরী ও শিশুসহ পাঁচজন আহত হয়েছেন। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও দলীয় নেতাকর্মীদের ভাষ্য অনুযায়ী, রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরসংলগ্ন একটি বাজার এলাকায় এই গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে দুজন রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরের বাসিন্দা এবং তিনজন স্থানীয় ইউনিয়নের বাসিন্দা।
ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক আটটার দিকে। আলীখালী রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরের পাশের একটি বাজারে বিএনপির প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা চলছিল। ওই সময় হঠাৎ গুলির শব্দ শোনা যায়। মুহূর্তের মধ্যে পুরো এলাকা আতঙ্কে ছড়িয়ে পড়ে এবং মানুষজন দিকবিদিক ছোটাছুটি শুরু করে। এই পরিস্থিতির মধ্যেই পাঁচজন গুলিবিদ্ধ হন।
আহতদের মধ্যে স্থানীয় ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের তিনজন বাসিন্দা রয়েছেন। তাঁদের একজন মধ্যবয়সী ব্যক্তি, একজন কিশোর এবং একজন কিশোরী। অপর দুই আহত ব্যক্তি আলীখালী রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরের বাসিন্দা, যাঁদের একজন তরুণ এবং অন্যজন কিশোর। গুলিবিদ্ধদের মধ্যে কিশোরীর পিঠে এবং কিশোরের কোমরে গুলি লাগে, যা গুরুতর বলে চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আহত দুই রোহিঙ্গা নাগরিককে উদ্ধার করে টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তবে স্থানীয় তিনজন আহতের মধ্যে দুজনের অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁদের রাতেই চট্টগ্রাম নগরে উন্নত চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়। অপর একজন স্থানীয় বাসিন্দাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
গুলিবিদ্ধ কিশোরীর পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, তিনি তাঁর মায়ের সঙ্গে সড়কের পাশে একটি ঘরের দরজার সামনে দাঁড়িয়ে নির্বাচনী প্রচারণার গান দেখছিলেন। হঠাৎ গুলির শব্দ শোনা যায় এবং এর পরপরই একটি গুলি এসে তাঁর পিঠে লাগে। বিষয়টি বুঝে ওঠার আগেই চারপাশে চিৎকার ও দৌড়াদৌড়ি শুরু হয়।
আরেক আহত স্থানীয় বাসিন্দা জানান, প্রচারণা চলাকালে কিছু লোকজন নেচে গেয়ে ধানের শীষের পক্ষে স্লোগান দিচ্ছিলেন। এ সময় হঠাৎ গুলির শব্দ হয়। মানুষজন প্রাণ বাঁচাতে ছুটে পালাতে শুরু করলে বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হয়। সেই মুহূর্তেই একটি গুলি এসে তাঁর হাতে লাগে।
এ ঘটনার পর স্থানীয় বিএনপির নেতারা অভিযোগ করেছেন যে, রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরসংলগ্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে নিরাপত্তাজনিত সমস্যা রয়েছে। তাঁদের দাবি, ওই এলাকায় প্রায়ই গোলাগুলির ঘটনা ঘটে এবং নির্বাচনী প্রচারণাকে লক্ষ্য করেই গুলি চালানো হতে পারে। দলীয় নেতারা বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানিয়েছেন বলে দাবি করেছেন।
তবে পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ঘটনাটি তদন্তাধীন এবং এর পেছনে কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছিল কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, প্রচারণার সময় গোলাগুলির ঘটনা ঘটলেও এর সঙ্গে সরাসরি রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ঘটনার রহস্য উদঘাটনে পুলিশ কাজ করছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা হয়নি।
এই ঘটনার পর টেকনাফ এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা নিরাপত্তা জোরদারের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে নির্বাচনী পরিবেশ শান্তিপূর্ণ রাখতে প্রশাসনের সক্রিয় ভূমিকা কামনা করছেন তাঁরা।




Add comment