Bp News USA

ট্রাম্প-পেত্রোর অপ্রত্যাশিত সৌহার্দ্যপূর্ণ বৈঠক

হোয়াইট হাউসে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ও কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্টের মধ্যে অনুষ্ঠিত প্রথম সামনাসামনি বৈঠকটি শেষ পর্যন্ত ধারণার চেয়েও বেশি সৌহার্দ্যপূর্ণ হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্য বক্তব্য ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একে অপরকে কটাক্ষ করে আসা এই দুই নেতার সাক্ষাৎ নিয়ে শুরুতে সংশয় ছিল বিশ্লেষকদের মধ্যে। আদর্শগতভাবে বিপরীত অবস্থানে থাকা সত্ত্বেও বৈঠকের পর উভয় পক্ষই সম্পর্কের ইতিবাচক দিকের কথা তুলে ধরেছেন।

স্থানীয় সময় মঙ্গলবার ওয়াশিংটনে হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সফরটি আনুষ্ঠানিক হলেও অন্য বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধানদের মতো জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজন চোখে পড়েনি। প্রায় দুই ঘণ্টা ধরে চলা আলোচনায় সাংবাদিকদের উপস্থিত থাকতে দেওয়া হয়নি। বৈঠক শেষে দুই নেতা আলাদাভাবে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং বৈঠক নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেন।

বৈঠকে কোনো নির্দিষ্ট চুক্তি বা আনুষ্ঠানিক সমঝোতা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে কেউই নিশ্চিত করে কিছু বলেননি। তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জানান, আলোচনাটি ফলপ্রসূ ছিল এবং দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নের পথে এগিয়েছে। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কলম্বিয়া থেকে যুক্তরাষ্ট্রে মাদক পাচার বন্ধের বিষয়ে উভয় পক্ষ কাজ করছে। তাঁর ভাষায়, বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে এবং পারস্পরিক বোঝাপড়ার জায়গা তৈরি হয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, বৈঠকের আগে তাঁদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক না থাকলেও তিনি কখনোই অপমানিত বোধ করেননি। কারণ, এর আগে তাঁদের ব্যক্তিগতভাবে দেখা হয়নি এবং একে অপরকে কাছ থেকে জানার সুযোগও ছিল না। বৈঠকের মধ্য দিয়ে সেই দূরত্ব কিছুটা কমেছে বলে তিনি ইঙ্গিত দেন।

অন্যদিকে কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট বৈঠকের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে কয়েকটি ছবি প্রকাশ করেন। সেখানে দুই নেতাকে হাসিমুখে করমর্দন করতে দেখা যায়। ছবির একটি ফ্রেমে হাতে লেখা একটি নোটও ছিল, যেখানে কলম্বিয়ার প্রতি সম্মান ও ভালোবাসার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের হাতের লেখা বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

পরে একটি বেতার সাক্ষাৎকারে কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট বলেন, সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের আলোচনার কারণে তিনি যেসব বিষয়কে গভীর মতবিরোধ বলে মনে করতেন, বাস্তবে সেগুলোর অনেকটাই তিনি বৈঠকে অনুভব করেননি। তাঁর মতে, যেসব দ্বন্দ্বের কথা প্রচারিত হচ্ছিল, সেগুলো মূলত অন্য কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতপার্থক্যের ফল, সরাসরি মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে নয়।

এই বৈঠকে কলম্বিয়ার বাইরে অবস্থানরত বড় মাদক পাচারকারীদের গ্রেপ্তারে সহযোগিতার অনুরোধও জানানো হয়েছে বলে তিনি জানান। পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশ ইকুয়েডরের সঙ্গে চলমান কূটনৈতিক টানাপোড়েন নিরসনে মধ্যস্থতার অনুরোধ করেন তিনি। ইকুয়েডরের প্রেসিডেন্ট যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রশাসনের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে পরিচিত। কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্টের ভাষ্য অনুযায়ী, এ বিষয়ে ইকুয়েডরের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে যোগাযোগ করতে সম্মত হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট।

উল্লেখ্য, ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্টকে কারাকাসে সামরিক অভিযানের মাধ্যমে আটক করে নিউইয়র্কে নিয়ে যাওয়ার ঘটনার পর দুই দেশের এই দুই নেতার মধ্যে বিরোধ তীব্র আকার ধারণ করেছিল। সেই সময় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্টকে উদ্দেশ করে আক্রমণাত্মক মন্তব্য করেন এবং তাঁকে কড়া ভাষায় সতর্ক করেন। এর জবাবে কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্টও সমান কঠোর প্রতিক্রিয়া জানান এবং ভেনেজুয়েলায় মার্কিন সামরিক আগ্রাসনের সমালোচনা করেন।

সব মিলিয়ে দীর্ঘদিনের উত্তেজনা ও প্রকাশ্য বাকযুদ্ধের পর হোয়াইট হাউসের এই বৈঠক দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন বার্তা দিয়েছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকেরা। মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও আলোচনার মাধ্যমে সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার ইঙ্গিতই এই সাক্ষাতের সবচেয়ে বড় দিক হিসেবে উঠে এসেছে।

BP NEWS USA

Add comment

Follow us

Don't be shy, get in touch. We love meeting interesting people and making new friends.

Most discussed