পপসংগীতের ইতিহাসে যাঁর নাম কিংবদন্তি হয়ে আছে, সেই মাইকেল জ্যাকসনের জীবন নিয়ে দর্শকের কৌতূহল কখনোই কমেনি। সেই আগ্রহকে সামনে রেখেই হলিউড পরিচালক অ্যান্টনি ফুকোর পরিচালনায় নির্মিত হচ্ছে বায়োপিক সিনেমা ‘মাইকেল’। এই ছবিতে পপসম্রাটের জীবনের নানা অজানা অধ্যায়, সংগ্রাম, সাফল্য ও সৃষ্টিশীলতার পথচলা তুলে ধরার পরিকল্পনা করেছেন নির্মাতারা। গত বছরের নভেম্বরে মুক্তি পাওয়া টিজার বিপুল দর্শকসংখ্যা ও ভিউয়ের রেকর্ড গড়েছিল। এবার গতকাল রাতে প্রকাশিত ট্রেলারও মুক্তির পরপরই বিশ্বজুড়ে আলোচনার ঝড় তুলেছে।
প্রকাশিত ট্রেলারে মাইকেল জ্যাকসনের জীবনের শুরু থেকে বিশ্বজয়ের যাত্রা সংক্ষেপে তুলে ধরা হয়েছে। এক সাধারণ পরিবারের ছেলে কীভাবে সংগীত, নাচ আর কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে নিজেকে সর্বকালের অন্যতম বড় তারকায় পরিণত করেন, সেই গল্পই ফুটে উঠেছে দৃশ্যের পর দৃশ্যে। ট্রেলারের শুরুতেই অনুপ্রেরণামূলক কিছু বাক্য শোনা যায়, যেখানে আত্মবিশ্বাস, শক্তি আর সৌন্দর্যের কথা বলা হয়। এরপর ধাপে ধাপে দেখানো হয় মাইকেলের শৈশব, মঞ্চে ওঠার মুহূর্ত, দর্শকের উন্মাদনা এবং তারকাখ্যাতির ঝলক। পরিচিত গানের সুর, দ্রুত কাটে বদলে যাওয়া দৃশ্য আর আলোর ব্যবহার ট্রেলারটিকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলেছে।
এই বায়োপিকে মাইকেল জ্যাকসনের চরিত্রে অভিনয় করেছেন তাঁর পরিবারের একজন সদস্য। তরুণ এই অভিনেতাকে ট্রেলারে দেখা যায় গান গাইতে, নাচতে এবং ধীরে ধীরে সংগীতজগতের শীর্ষে পৌঁছাতে। তাঁর চেহারা, অঙ্গভঙ্গি এবং নাচের ভঙ্গিমায় মাইকেল জ্যাকসনের ছাপ স্পষ্ট। অনেক দর্শকের কাছেই মনে হতে পারে, যেন পর্দায় আবার ফিরে এসেছেন তরুণ বয়সের পপসম্রাট।
চলচ্চিত্রটিতে মাইকেল জ্যাকসনের পরিবারের গুরুত্বপূর্ণ সদস্যদের চরিত্রও তুলে ধরা হয়েছে। তাঁর বাবার ভূমিকায় অভিনয় করেছেন একজন খ্যাতনামা অভিনেতা, যিনি পর্দায় কঠোর ও শাসনপ্রিয় অভিভাবকের চরিত্রটি ফুটিয়ে তুলেছেন। মায়ের চরিত্রে দেখা যাবে আরেক জনপ্রিয় অভিনেত্রীকে, যাঁর মাধ্যমে মাইকেলের জীবনে পারিবারিক সমর্থন ও আবেগের দিকটি তুলে ধরা হয়েছে। পাশাপাশি তাঁর বোনের চরিত্রেও একজন অভিনেত্রী অভিনয় করেছেন, যা পারিবারিক সম্পর্কের নানা দিক দর্শকের সামনে আনবে।
শুধু পরিবার নয়, মাইকেল জ্যাকসনের সংগীতজীবনের পেছনে থাকা গুরুত্বপূর্ণ মানুষদের চরিত্রও রয়েছে এই সিনেমায়। মোটাউন রেকর্ডসের প্রতিষ্ঠাতা, প্রভাবশালী সংগীত নির্বাহী এবং সংগীত জগতের একজন কিংবদন্তি নারী তারকার চরিত্রের মাধ্যমে দেখানো হবে কীভাবে শিল্পী হিসেবে মাইকেলের বিকাশে এসব ব্যক্তির ভূমিকা ছিল। এসব চরিত্রের উপস্থিতি তাঁর ক্যারিয়ারের পেছনের বাস্তবতা ও সিদ্ধান্তের প্রেক্ষাপট তুলে ধরতে সহায়ক হবে বলে মনে করা হচ্ছে।
সিনেমার কাহিনিতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে জ্যাকসন ফাইভ ব্যান্ড থেকে মাইকেলের যাত্রা শুরু করার গল্পে। অল্প বয়সে প্রধান কণ্ঠশিল্পী হিসেবে তাঁর উত্থান এবং সেখান থেকে একক শিল্পী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করার পথচলা দেখানো হবে। ধীরে ধীরে কীভাবে তিনি বিশ্বসংগীতের সবচেয়ে বড় তারকায় পরিণত হন, সেটাই এই বায়োপিকের মূল স্রোত। নির্মাতারা জানিয়েছেন, এটি শুধু একটি সংগীতভিত্তিক সিনেমা নয়; বরং মঞ্চের বাইরের মাইকেল জ্যাকসনকেও দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে। তাঁর সৃজনশীল উচ্চাকাঙ্ক্ষা, নিখুঁত হওয়ার তাড়না এবং অক্লান্ত পরিশ্রম কীভাবে তাঁকে বিশ্বজুড়ে প্রভাবশালী বিনোদনশিল্পীতে পরিণত করেছিল, সেটাই ছবির একটি বড় অংশ।
তবে মাইকেল জ্যাকসনের জীবনের শেষ ভাগের বিতর্ক ও অভিযোগ নিয়ে সিনেমাটি কতটা কথা বলবে, সে বিষয়ে এখনো স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যায়নি। ট্রেলার কিংবা প্রকাশিত তথ্য থেকে বোঝা যায় না, এই বিতর্কিত অধ্যায়গুলো ছবিতে কতটা জায়গা পাবে। এদিকে ট্রেলার প্রকাশের ঠিক আগেই যুক্তরাজ্যে একটি নতুন তথ্যচিত্র প্রচারের খবর প্রকাশ পেয়েছে, যেখানে আগে অপ্রকাশিত কিছু অডিও রেকর্ডিং ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে। এসব কারণে দর্শকদের মধ্যে আলোচনা আরও বেড়েছে।
সবশেষে জানা গেছে, সিনেমাটি আগামী এপ্রিলে প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাবে। মুক্তির তারিখ নিয়ে আগেও নানা গুঞ্জন শোনা গেলেও নির্মাতারা নির্ধারিত সময়েই মুক্তির প্রস্তুতি নিচ্ছেন। মাইকেল জ্যাকসনের ভক্তদের জন্য এই বায়োপিক নিঃসন্দেহে একটি বড় আয়োজন, আর ট্রেলার দেখেই স্পষ্ট যে তাঁর সংগীত, নাচ এবং তারকাখ্যাতির রূপকথার মতো যাত্রাকে বড় পর্দায় জাঁকজমকপূর্ণভাবে তুলে ধরার লক্ষ্যেই এগোচ্ছেন নির্মাতারা।







Add comment