আলাস্কা এবং কানাডার ইউকন অঞ্চলের সীমান্তবর্তী একটি প্রত্যন্ত এলাকায় ৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। ভূকম্পনের পর সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়নি, যা কর্তৃপক্ষকে কিছুটা স্বস্তি দিয়েছে। তবুও পুরো সীমান্তজুড়ে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে, কারণ প্রাথমিক পর্যায়ে ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের কোনো নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা জানায়, ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল আলাস্কার জুনেউ শহর থেকে প্রায় ২৩০ মাইল বা ৩৭০ কিলোমিটার উত্তর পশ্চিমে এবং ইউকনের হোয়াইটহর্স শহর থেকে প্রায় ১৫৫ মাইল বা ২৫০ কিলোমিটার পশ্চিমে। এলাকাটি জনবসতি কম হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা তুলনামূলকভাবে কম ছিল।
হোয়াইটহর্সে দায়িত্বরত রয়্যাল কানাডিয়ান মাউন্টেড পুলিশের একজন সার্জেন্ট জানান, ৯১১ নম্বরে দুইজন বাসিন্দা ভূমিকম্প অনুভব করেছেন বলে ফোন দেন। তিনি বলেন, কম্পন যথেষ্ট স্পষ্ট ছিল এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাসিন্দারা তাঁদের অভিজ্ঞতা জানিয়ে মন্তব্য করছেন।
ন্যাচারাল রিসোর্সেস কানাডার এক সিসমোলজিস্ট জানান, ইউকনের যে অংশটি সবচেয়ে বেশি প্রভাবিত হয়েছে, সেটি মূলত একটি পাহাড়ি এলাকা যেখানে মানুষের বসবাস সীমিত। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, অধিকাংশ বাসিন্দা তাক বা দেয়ালে রাখা কিছু জিনিসপত্র পড়ে যাওয়ার ঘটনা জানিয়েছেন, তবে এখন পর্যন্ত স্থাপনার বড় ধরনের ক্ষতির কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
বিশেষজ্ঞের মতে, ভূমিকম্পের কেন্দ্রের সবচেয়ে কাছের কানাডিয়ান জনবসতিপূর্ণ এলাকা হলো হেইনস জাংশন, যা কেন্দ্রস্থলের প্রায় ৮০ মাইল বা ১৩০ কিলোমিটার দূরে। ২০২২ সালের হিসেবে এখানকার জনসংখ্যা ছিল মাত্র ১ হাজার ১৮ জন। অন্যদিকে ভূমিকম্পটি আলাস্কার ইয়াকুটাট শহর থেকে প্রায় ৫৬ মাইল বা ৯১ কিলোমিটার দূরে সংঘটিত হয়, যেখানে মার্কিন সংস্থার তালিকায় ৬২২ জন বাসিন্দার নাম রয়েছে।
ভূমিকম্পটি প্রায় ৬ মাইল বা ১০ কিলোমিটার গভীরে সংঘটিত হয় এবং এর পর বেশ কয়েকটি ছোট পরাঘাত রেকর্ড করা হয়েছে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং জনবসতি কম হলেও সকলে সতর্ক থাকতে বলেছেন। ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল প্রত্যন্ত হওয়ায় এখনো যোগাযোগ ব্যবস্থা ও অবকাঠামোর ওপর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে মূল্যায়ন চলছে।
আলাস্কা এবং ইউকন অঞ্চল ভূকম্পনসংবেদনশীল এলাকায় অবস্থান করায় বড় ধরনের মাত্রার কম্পন স্থানীয়দের জন্য নতুন নয়, তবে ৭ মাত্রার ভূমিকম্প সর্বদাই উদ্বেগ তৈরি করে। বিশেষজ্ঞরা পরাঘাত চালিয়ে যেতে পারে বলে সতর্ক করেছেন এবং বাসিন্দাদের স্থিতিশীল স্থানে অবস্থান করতে আহ্বান জানিয়েছেন। এ ধরনের ভূমিকম্প ভূত্বকের সক্রিয়তা বাড়ার ইঙ্গিত বহন করে, তাই ভবিষ্যত সম্ভাবনা নিয়ে বিশেষজ্ঞদের মধ্যে আলোচনাও চলছে।
যদিও এখন পর্যন্ত কোনো প্রাণহানি বা বড় ধরনের ক্ষতির খবর নেই, তবুও স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ঘটনাটিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখছে। প্রত্যন্ত অঞ্চলে কম জনবসতি থাকায় ক্ষতির মাত্রা কম হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে, তবে পরিস্থিতি পুরোপুরি নিশ্চিত করতে আরও পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন হবে।



