সিঙ্গাপুরে প্রযুক্তির নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে এক সফটওয়্যার স্টার্টআপ। তারা ঘোষণা করেছে যে তারা দেশের প্রথম বেসরকারি কোয়ান্টাম কম্পিউটার বাণিজ্যিক ব্যবহারের জন্য চালু করেছে। এই পদক্ষেপ শুধু কোম্পানিটির জন্য নয়, পুরো অঞ্চলের প্রযুক্তি শিল্পের জন্য একটি বড় মাইলফলক। পাশাপাশি এটি যুক্তরাষ্ট্রে তালিকাভুক্ত হওয়ার প্রস্তুতির দিকেও একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
২০১৮ সালে প্রতিষ্ঠিত এই স্টার্টআপটি শুরু থেকেই কোয়ান্টাম গবেষণায় জড়িত। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী জানায় যে প্রায় ২.৩ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ে নির্মিত এই শক্তিশালী যন্ত্রটি এখন পুরোপুরি সচল। এতে যুক্ত করা হয়েছে বিশ্বের বিভিন্ন স্বনামধন্য কোয়ান্টাম টেক সরবরাহকারীর উপাদান, যার মধ্যে রয়েছে Maybell Quantum, Quantum Machines এবং Rigetti Computing।
স্টার্টআপটির দাবি, তারা বিশ্বের প্রথম সফটওয়্যারকেন্দ্রিক কোয়ান্টাম ফার্ম যারা নিজেদের কোয়ান্টাম কম্পিউটার পরিচালনা করছে। এই সংযোজন তাদেরকে প্রযুক্তির সীমা আরও এগিয়ে নিতে সহায়তা করবে। প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী জানায় যে ডেভেলপাররা কীভাবে বাস্তব কাজে কোয়ান্টাম শক্তি ব্যবহার করতে পারে, সেটিই তাদের মূল লক্ষ্য। তাই সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট ছাড়াও হার্ডওয়্যার স্তর পর্যন্ত প্রযুক্তি বোঝা প্রয়োজন।
প্রযুক্তির পরবর্তী দৌড়
বিশ্বজুড়ে কোয়ান্টাম প্রযুক্তি নিয়ে প্রতিযোগিতা দিন দিন তীব্র হচ্ছে। ওষুধ উৎপাদন, আর্থিক ঝুঁকি বিশ্লেষণ, সাইবার সিকিউরিটি সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে জটিল সমস্যা সমাধানে কোয়ান্টাম সিস্টেম ভবিষ্যতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। প্রচলিত কম্পিউটার যে সমস্যাগুলো সমাধানে প্রচুর সময় নেয়, কোয়ান্টাম কম্পিউটার সে কাজ অনেক দ্রুত এবং নির্ভুল করতে পারে।
বিশ্বের শীর্ষ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের এক কোয়ান্টাম বিশেষজ্ঞ সম্প্রতি জানিয়েছেন যে বাস্তব প্রয়োগে কোয়ান্টাম কম্পিউটার ব্যবহারের যুগ হয়তো মাত্র পাঁচ বছর দূরে। যদিও এখনো প্রযুক্তিটি খুব প্রাথমিক পর্যায়ে এবং এতে রয়েছে প্রচুর চ্যালেঞ্জ, তবুও গুগল, মাইক্রোসফট, অ্যামাজন এবং আইবিএমের মতো জায়ান্ট প্রতিষ্ঠানের বিশাল বিনিয়োগ প্রযুক্তির ভবিষ্যতকে আরও এগিয়ে দিচ্ছে। এমনকি এনভিডিয়ার প্রধান নির্বাহীও বলেছেন কোয়ান্টাম কম্পিউটিং খুব দ্রুত একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে পৌঁছে যাচ্ছে।
বাজারে প্রবেশের প্রস্তুতি
স্টার্টআপটির সর্বশেষ ঘোষণা এসেছে তাদের একত্রীকরণ চুক্তির ঠিক আগে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একটি বিশেষ উদ্দেশ্য অধিগ্রহণ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তাদের চুক্তি হয়েছে যার মাধ্যমে তারা নাসডাকে “HQ” নামে তালিকাভুক্ত হওয়ার পরিকল্পনা করছে। এই চুক্তির মূল্যায়ন প্রায় ৫০৩ মিলিয়ন ডলার এবং এটি সম্পন্ন হতে পারে ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে।
এদিকে সিঙ্গাপুরও নিজেকে এশিয়ার কোয়ান্টাম কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে। ২০০৭ সালেই দেশটি তাদের প্রথম কোয়ান্টাম রিসার্চ সেন্টার স্থাপন করে। সাম্প্রতিক সময়ে ঘোষিত ন্যাশনাল কোয়ান্টাম স্ট্র্যাটেজির অধীনে সরকার প্রায় ৩০০ মিলিয়ন সিঙ্গাপুর ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে যা আগামী পাঁচ বছরে এই খাতকে আরও শক্তিশালী করবে।
নতুন বাণিজ্যিক কোয়ান্টাম কম্পিউটারের কার্যক্রম শুরু হওয়া সিঙ্গাপুরের প্রযুক্তি ভবিষ্যৎকে আরও উজ্জ্বল করেছে। এটি শুধু আঞ্চলিক উদ্ভাবন নয় বরং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় দেশের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করবে।



