Friday, January 2, 2026
spot_img
Homeএডুকেশনচার দিনের কর্মসপ্তাহ: শিক্ষকদের সংকট কাটানোর স্মার্ট সমাধান

চার দিনের কর্মসপ্তাহ: শিক্ষকদের সংকট কাটানোর স্মার্ট সমাধান

ইংল্যান্ডে শিক্ষক সংকট এখন এক গভীর সংকটের নাম. কারণটি লুকানো নয়. অতিরিক্ত কাজ, প্রচুর চাপ এবং কোনো রকম আর্থিক স্বীকৃতি ছাড়া সপ্তাহে গড়ে ২৬ ঘন্টা অতিরিক্ত পরিশ্রম—এসব মিলেই অনেক শিক্ষক পেশা ছেড়ে দিচ্ছেন. কেউ বন্ধু বা পরিবারের সাথে সময় কাটাতে পারছেন না, আবার ছুটির সময়েও কাজের ফোন ধরা তাদের নিয়মে পরিণত হয়েছে. ফলাফল ভয়াবহ. দেশের এক চতুর্থাংশ স্কুলে নেই কোনো পদার্থবিজ্ঞান শিক্ষক, আর দরিদ্র এলাকায় অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এ-লেভেল পর্যায়ে পড়ানোই যাচ্ছে না।

এ অবস্থায় বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিক্ষক সংকট কমাতে সবচেয়ে কার্যকর সমাধান হতে পারে নতুন কর্মপদ্ধতি—চার দিনের কর্মসপ্তাহ. স্কটিশ মডেল অনুসরণ করে প্রস্তাব এসেছে, ক্লাসরুমে চার দিন কাজ, আর পঞ্চম দিনটি নমনীয়ভাবে ব্যবহার হবে পাঠ প্রস্তুতি, মূল্যায়ন ও পরিকল্পনার জন্য. যেসব কাজ শিক্ষকরা এখন রাত জেগে বা সপ্তাহান্তে করছেন, সবকিছুই যেন নিয়মিত কর্মঘণ্টার ভেতরে আসে—এটাই মূল লক্ষ্য।

অভিভাবকদের উদ্বেগও এখানে কম. কারণ শিক্ষার্থীদের জন্য স্কুল পাঁচ দিনই খোলা থাকবে. কেবল শিক্ষকরা চার দিন ক্লাস নেবেন, আর বাকি এক দিন কাজ করবেন আড়ালে. সরকারের জন্য বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হওয়া উচিত, কারণ তারা ৬৫০০ নতুন শিক্ষক নিয়োগের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, কিন্তু বাস্তবে সমাধান খুঁজে পেতে হিমশিম খাচ্ছে।

নতুন কর্মপদ্ধতি নিয়ে অবশ্য স্কুল প্রশাসনের কিছু যুক্তিযুক্ত ভয় রয়েছে. তারা বলছে, তহবিলের সংকটে এখনকার চাহিদাই মেটানো কঠিন, নতুন কাজের প্যাটার্ন চালু করা আরও ব্যয়বহুল হতে পারে. সময়সূচি পুনর্বিন্যাসও আরেক চ্যালেঞ্জ. কিন্তু তবুও কিছু স্কুল নতুন ব্যবস্থায় সফলতা দেখাতে শুরু করেছে।

উদাহরণ হিসেবে একটি একাডেমি চেইন গত বছর চালু করেছে “নাইন ডে ফোর্টনাইট”—যাতে দুই সপ্তাহে একদিন অতিরিক্ত ছুটি থাকে. ফলাফল অসাধারণ: শিক্ষক ধরে রাখার হার বেড়েছে ৪৩ শতাংশ. গবেষণায় দেখা গেছে, শিক্ষকরা শুধু বেতন নয়, সুরক্ষিত সময়, ছোট ক্লাস, ও স্বাস্থ্যসেবার মতো সুবিধাকেই সমান গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন. প্রতি বছর স্কুলগুলো ১.২৫ বিলিয়ন পাউন্ড ব্যয় করে সাপ্লাই টিচার বা অস্থায়ী শিক্ষকের পেছনে, যেখানে বাজেটের বড় অংশই চলে যায় এজেন্সির হাতে. বার্নআউট কমাতে পারলে এই অপচয়ও কমবে।

অনেকে ভাবতে পারেন, কম দিনের সপ্তাহ কি ফলাফলে নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে? কিন্তু গবেষণা বলছে ভিন্ন কথা. লন্ডনের পূর্বাঞ্চলে একটি শিক্ষা ট্রাস্ট ২০২২ সালে সপ্তাহে সাড়ে চার দিনের ক্লাস চালু করে. পরের বছর তাদের ফলাফল আরও উন্নত হয়েছে—শিক্ষকরাও জানিয়েছে তারা আগের চেয়ে অনেক বেশি স্বস্তিতে কাজ করতে পারছেন।

OECD তথ্য অনুযায়ী, ইংল্যান্ডের শিক্ষকরা সপ্তাহে গড়ে ৫১ ঘন্টা কাজ করেন—বিশ্বের মধ্যে অন্যতম সর্বোচ্চ. তাই অনেকেই ভালো পরিবেশের খোঁজে বিদেশে পাড়ি দেন. সরকারি উদ্যোগেও কাজ হচ্ছে না, এমনকি ১০ হাজার পাউন্ড রিলোকেশন বোনাসও দিয়ে দক্ষ শিক্ষক টানতে ব্যর্থ হয়েছে।

শিক্ষকদের জন্য চার দিনের কর্মসপ্তাহ কোনো বিলাসিতা নয়—এটি প্রয়োজনীয় সংস্কার. স্কুল ও শিক্ষাব্যবস্থাকে টিকিয়ে রাখতে সুষম কর্মজীবন এখন সবচেয়ে জরুরি. সময় এসেছে অতিরিক্ত পরিশ্রমকে স্বাভাবিক ভাবা বন্ধ করার।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments