কড়াইল বস্তির ধ্বংসযজ্ঞে দীর্ঘ লড়াইয়ের পর স্বস্তি

রাজধানীর মহাখালীর কড়াইল বস্তিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড পাঁচ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে তাণ্ডব চালানোর পর রাত ১০টা ৩৫ মিনিটে নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের ১৯টি ইউনিটের টানা প্রচেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে বলে এক খুদে বার্তায় জানিয়েছেন সংস্থাটির এক ওয়্যারহাউস ইন্সপেক্টর।

মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে ফায়ার সার্ভিসের একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আগুন লাগার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। প্রথমে ১১টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। পরে পরিস্থিতির অবনতি হলে আরও ৮টি ইউনিট যোগ দেয়। ঘনবসতিপূর্ণ এই বস্তিতে দাহ্য সামগ্রীর আধিক্যের কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং বড় পরিসরে ক্ষয়ক্ষতি হয়।

কড়াইল বস্তির বউবাজার এলাকার এক বাসিন্দা জানান, কুমিল্লা পট্টি, বরিশাল পট্টি এবং ক ব্লকের অংশে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। ওই এলাকায় প্রায় এক হাজার ঘর ছিল এবং আগুন লেগে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই ঘরগুলো আগুনে পুড়তে শুরু করে। প্রচণ্ড তাপে বাসিন্দারা ঘর থেকে বেরিয়ে আসতে হিমশিম খেতে থাকেন।

এদিকে আগুন লাগার পর আশপাশে ভিড় নিয়ন্ত্রণে নিয়োজিত ছিলেন কয়েকজন স্বেচ্ছাসেবক। তাঁদের সঙ্গে ছিল পুলিশ ও আনসার সদস্যরা। আগুনের কাছে কাউকে যেতে দেওয়া হচ্ছিল না, যাতে পরিস্থিতি আরও জটিল না হয়। ভিড় নিয়ন্ত্রণে থাকা এক ব্যক্তি জানান, অনেক পরিবার আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গে ঘর ছেড়ে নিরাপদ স্থানে চলে গেছে। ফলে তাদের ঘর অনেকটাই ফাঁকা পড়ে থাকে এবং এই সুযোগে যাতে কেউ মালামাল চুরি করতে না পারে, সেই কারণেই কড়া নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

আগুন নেভানোর পর বস্তির বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দারা খোলা আকাশের নিচে রাত কাটাতে বাধ্য হয়েছেন। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কুমিল্লা পট্টি, বরিশাল পট্টি এবং ক ব্লকের লোকজন কেউ আশ্রয় নিয়েছেন খামারবাড়ি ঈদগাহ মাঠে, কেউ এরশাদ স্কুল মাঠে, আবার কেউ মহাখালী টিঅ্যান্ডটি মাঠে। এসব স্থানে গিয়ে দেখা যায়, শত শত মানুষ সামান্য মালপত্র নিয়ে অস্থায়ীভাবে অবস্থান করছেন। মশার কামড়, ঠান্ডা হাওয়া এবং অনিশ্চয়তার মধ্যে তাঁরা পরিবারসহ রাত পার করার চেষ্টা করছেন। হালকা শীত থেকে বাঁচতে অনেকেই কাঠ ও প্লাস্টিক জ্বালিয়ে আগুন জ্বালিয়ে বসে থাকেন।

খামারবাড়ি মাঠে এক অটোরিকশাচালক জানান, তাঁদের ঘর কুমিল্লা পট্টির একটি স্কুলের পাশে ছিল। আগুন লাগার পর তীব্র উত্তাপে ঘরে থাকা সম্ভব হচ্ছিল না, তাই পরিবার নিয়ে বেরিয়ে যেতে বাধ্য হন। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, এতক্ষণে হয়তো তাঁদের ঘর পুরোপুরি পুড়ে গেছে। ওই স্থানে তাঁদের তিনটি ভাড়া করা ঘর ছিল বলে তিনি জানান।

এক নারী বাসিন্দা বলেন, আগুন প্রথমে বরিশাল পট্টি থেকে ছড়িয়ে পড়ে এবং মুহূর্তেই চারদিক গ্রাস করে। আতঙ্কে তাঁরা ঘর থেকে অধিকাংশ মালপত্র আনতে পারেননি। দুটি র্যাক ছাড়া আর কিছুই বের করে আনতে না পারার কষ্ট স্পষ্ট ছিল তাঁর কণ্ঠে। তাঁদের মতো শত শত পরিবার একই বাস্তবতার মুখোমুখি, যাদের রাত কাটছে অনিশ্চয়তা আর হারানোর বেদনায়।

BP NEWS USA

Add comment

Follow us

Don't be shy, get in touch. We love meeting interesting people and making new friends.

Most discussed