Bp News USA

৪০০ বিলিয়ন ডলারের মাইলফলকে অ্যালফাবেট

গুগলের মূল প্রতিষ্ঠান অ্যালফাবেট প্রথমবারের মতো বার্ষিক আয়ের ক্ষেত্রে ৪০০ বিলিয়ন ডলারের সীমা অতিক্রম করেছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর ক্লাউড সেবা এবং বিজ্ঞাপন ব্যবসায় শক্তিশালী প্রবৃদ্ধির ফলে এই ঐতিহাসিক সাফল্য অর্জন করেছে প্রযুক্তি জায়ান্টটি। গত বুধবার প্রকাশিত সর্বশেষ আর্থিক প্রতিবেদনে জানানো হয়, ২০২৫ সালের শেষ প্রান্তিকে অ্যালফাবেটের মোট আয় আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা বিনিয়োগকারী ও বাজার বিশ্লেষকদের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক প্রযুক্তি খাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার চাহিদা দ্রুত বাড়ছে এবং সেই প্রবণতাকে কাজে লাগাতে অ্যালফাবেট তার ব্যবসায়িক কৌশল আরও জোরালো করেছে। বিশেষ করে ক্লাউড অবকাঠামোতে এআই প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি এবং ডিজিটাল বিজ্ঞাপন খাতে উন্নত অ্যালগরিদম প্রয়োগের ফলে প্রতিষ্ঠানটির রাজস্ব বৃদ্ধিতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছে।

এআই খাতে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকতে ব্যয় বাড়ানোর পরিকল্পনাও ঘোষণা করেছে অ্যালফাবেট। যুক্তরাষ্ট্রের সিলিকন ভ্যালিতে চলমান এআই দৌড়ে নেতৃত্ব ধরে রাখার লক্ষ্যেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ২০২৬ সালে তাদের মোট ব্যয় হতে পারে ১৭৫ থেকে ১৮৫ বিলিয়ন ডলারের মধ্যে, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। গ্রাহকদের বাড়তে থাকা এআইভিত্তিক পণ্য ও সেবার চাহিদা পূরণ করতেই এই অতিরিক্ত বিনিয়োগ করা হবে।

অ্যালফাবেটের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার ভাষায়, অবকাঠামো সম্প্রসারণের পরও এআই সক্ষমতার চাহিদা সরবরাহকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে। তিনি জানান, প্রতিষ্ঠানটি সক্ষমতা বাড়ানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, তবে বাজারের চাহিদা এখনো সরবরাহের তুলনায় বেশি রয়ে গেছে। এই বক্তব্য থেকে স্পষ্ট, অ্যালফাবেট ভবিষ্যতেও এআই খাতে বিনিয়োগ অব্যাহত রাখবে।

এদিকে গুগলের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর চ্যাটবট জেমিনি দ্রুত ব্যবহারকারীর আস্থা অর্জন করছে। কোম্পানির প্রকাশিত তথ্যে দেখা গেছে, বছরের শেষে জেমিনির মাসিক সক্রিয় ব্যবহারকারীর সংখ্যা পৌঁছেছে ৭৫ কোটিতে। আগের প্রান্তিকের তুলনায় এই সংখ্যা প্রায় ১০ কোটি বেশি। বাজার বিশ্লেষকদের ধারণা, চলতি বছর এআই খাতে প্রতিদ্বন্দ্বী ওপেনএআইকে ছাড়িয়ে যাওয়ার সক্ষমতা অর্জন করতে পারে গুগল। জেমিনির এই দ্রুত বিস্তার অ্যালফাবেটের সামগ্রিক এআই কৌশলকে আরও শক্তিশালী করেছে।

আইনি দিক থেকেও কিছুটা স্বস্তির খবর পেয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। যুক্তরাষ্ট্রের একটি আদালতের রায়ে গুগলকে তাদের জনপ্রিয় ক্রোম ব্রাউজার বিক্রি করতে না হওয়ায় বড় চাপ থেকে রেহাই মিলেছে। একচেটিয়া বাজার নিয়ন্ত্রণের অভিযোগে ক্রোম ব্রাউজার বিক্রির যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল, তা আপাতত কমেছে। তবে অনলাইন সার্চ বাজারে অবৈধভাবে একচেটিয়া আধিপত্যের অভিযোগে ফেডারেল বিচারকের দেওয়া রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে গুগল। বিষয়টি নিয়ে আইনি লড়াই এখনো চলমান থাকছে।

অন্যদিকে অ্যালফাবেটের মালিকানাধীন স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তিনির্ভর গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ওয়েমোর আর্থিক চিত্র এখনো চ্যালেঞ্জের মধ্যেই রয়েছে। সর্বশেষ প্রান্তিকে ওয়েমোর লোকসানের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার। ধারাবাহিক লোকসান সত্ত্বেও প্রতিষ্ঠানটি বিনিয়োগকারীদের আস্থা ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে। সম্প্রতি ওয়েমো ১৬ বিলিয়ন ডলারের নতুন তহবিল সংগ্রহ করেছে, যার ফলে কোম্পানিটির বাজারমূল্য বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২৬ বিলিয়ন ডলারে।

সব মিলিয়ে, আয়ের ঐতিহাসিক মাইলফলক অতিক্রম, এআই খাতে ব্যাপক বিনিয়োগ পরিকল্পনা, জনপ্রিয় পণ্যের ব্যবহারকারীর সংখ্যা বৃদ্ধি এবং আইনি জটিলতার মধ্যেও স্থিতিশীল অবস্থান অ্যালফাবেটকে বৈশ্বিক প্রযুক্তি খাতে আরও প্রভাবশালী করে তুলছে।

BP NEWS USA

Add comment

Follow us

Don't be shy, get in touch. We love meeting interesting people and making new friends.

Most discussed