বর্তমান সময়ের দৈনন্দিন জীবনে স্মার্টফোন প্রায় অবিচ্ছেদ্য একটি যন্ত্রে পরিণত হয়েছে। কাজ, যোগাযোগ, বিনোদন কিংবা তথ্য অনুসন্ধান-সবকিছুতেই মানুষ দীর্ঘ সময় স্মার্টফোনের পর্দার দিকে তাকিয়ে থাকে। কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকার ফলে অনেকের চোখে জ্বালা, শুষ্কতা কিংবা ভারী অনুভূতি দেখা দেয়। অনেক সময় এমনও মনে হয় যেন চোখে বালুকণা ঢুকে আছে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এ ধরনের সমস্যাকে বলা হয় ‘স্ক্রিন স্ট্রেইন’ বা পর্দাজনিত চোখের চাপ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘ সময় স্মার্টফোনের স্ক্রিনে মনোযোগ ধরে রাখলে চোখের স্বাভাবিক বিশ্রাম ব্যাহত হয় এবং ধীরে ধীরে চোখ ক্লান্ত হয়ে পড়ে। তবে অ্যান্ড্রয়েড স্মার্টফোনে থাকা কিছু সহজ সুবিধা ব্যবহার করলেই এই চাপ অনেকাংশে কমানো সম্ভব। এতে আলাদা কোনো অ্যাপ ব্যবহার করার প্রয়োজন হয় না। কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সেটিংস ব্যবহার করে স্মার্টফোন ব্যবহারের সময় চোখের আরাম কিছুটা নিশ্চিত করা যায়।
প্রথমত, স্মার্টফোনে থাকা নাইট লাইট সুবিধা ব্যবহার করা যেতে পারে। স্মার্টফোনের পর্দা থেকে নির্গত নীল আলো মানুষের মস্তিষ্ককে বিভ্রান্ত করতে পারে। এর ফলে মস্তিষ্ক মনে করে যে এখনো দিন রয়েছে। এতে ঘুমের স্বাভাবিক ছন্দ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি চোখ দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়ে। এই সমস্যা কমাতে অ্যান্ড্রয়েড ফোনে নাইট লাইট সুবিধা রাখা হয়েছে। এই সুবিধা চালু করলে স্ক্রিন থেকে নির্গত নীল আলোর পরিমাণ কমে যায় এবং পর্দার রং কিছুটা উষ্ণ বা কমলা আভা ধারণ করে। ফলে দীর্ঘ সময় স্ক্রিনের দিকে তাকিয়ে থাকলেও চোখের ওপর তুলনামূলক কম চাপ পড়ে। অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারীরা ফোনের সেটিংসে গিয়ে ডিসপ্লে অপশনের ভেতরে থাকা আই কমফোর্ট শিল্ড বা নাইট লাইট অপশন চালু করতে পারেন।
দ্বিতীয়ত, ডার্ক মোড ব্যবহার করাও চোখের জন্য উপকারী হতে পারে। সাধারণত স্মার্টফোনের উজ্জ্বল সাদা পটভূমি অনেক সময় সরাসরি চোখে লাগে, বিশেষ করে অন্ধকার বা কম আলোতে ব্যবহার করার সময়। ডার্ক মোড চালু করলে অধিকাংশ অ্যাপের পটভূমি কালো বা গাঢ় ধূসর হয়ে যায়। এতে স্ক্রিনের আলো তুলনামূলক নরম অনুভূত হয় এবং চোখের ওপর চাপ কিছুটা কম পড়ে। বর্তমানে জনপ্রিয় অনেক অ্যাপ যেমন হোয়াটসঅ্যাপ, ইনস্টাগ্রাম ও জিমেইল ডার্ক মোড চালু থাকলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে গাঢ় থিমে চলে যায়। বিশেষ করে রাতের সময় স্মার্টফোন ব্যবহার করলে এই সুবিধা চোখের জন্য কিছুটা আরামদায়ক হতে পারে। অ্যান্ড্রয়েড ফোনের সেটিংসের ডিসপ্লে অপশনে গিয়ে ডার্ক থিম চালু করা যায়।
তৃতীয়ত, স্মার্টফোন ব্যবহারের সময়সীমা নির্ধারণ করা চোখের ওপর চাপ কমানোর একটি কার্যকর পদ্ধতি হিসেবে বিবেচিত হয়। অনেক সময় অজান্তেই মানুষ দীর্ঘ সময় ধরে বিভিন্ন অ্যাপ ব্যবহার করে ফেলে, যা চোখের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে। এই সমস্যা কমাতে অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেমেই নির্দিষ্ট অ্যাপ ব্যবহারের সময়সীমা নির্ধারণের সুবিধা রাখা হয়েছে। এই সুবিধা ব্যবহার করতে ফোনের সেটিংসে গিয়ে ডিজিটাল ওয়েলবিয়িং অ্যান্ড প্যারেন্টাল কন্ট্রোলস অপশন নির্বাচন করতে হয়। এরপর সেট টাইমার বা ড্যাশবোর্ডে প্রবেশ করে যেসব অ্যাপ বেশি ব্যবহার করা হয় সেগুলোর জন্য দৈনিক ব্যবহারের সময় নির্ধারণ করা যায়। নির্ধারিত সময় শেষ হলে সংশ্লিষ্ট অ্যাপটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে যায়।
প্রযুক্তিনির্ভর এই সময়ে স্মার্টফোনের ব্যবহার পুরোপুরি এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। তবে ফোনে থাকা কিছু সহজ সেটিংস ব্যবহার করলে চোখের ওপর অতিরিক্ত চাপ কমানো সম্ভব। নিয়মিত এসব সুবিধা ব্যবহার করলে দীর্ঘ সময় স্মার্টফোন ব্যবহারের পরও চোখ কিছুটা স্বস্তি পেতে পারে।





Add comment