নিউইয়র্কের আলোঝলমল উজ্জ্বল বিকেলে ব্রুকলিনের রাস্তায় ৭ মাসের শিশু সন্তানকে স্টলারে নিয়ে হাঁটছিলেন তার বাবা। ছোট্ট কাওরি প্যাটারসন মুর তার স্ট্রলারে শান্তিতে ঘুমাচ্ছিল। তখন কেউ কল্পনাও করেনি এক নিমিষেই স্তব্ধ হয়ে যাবে শিশুটির জীবন।
হঠাৎ গুলির শব্দে যখন চারপাশ প্রকম্পিত, তখন ছোট্ট কাওরি বুঝতেও পারেনি এক অজ্ঞাত বুলেট কেড়ে নিচ্ছে তার জীবন। ১ এপ্রিল ২০২৬ সেই অভিশপ্ত মুহূর্তটি নিউইয়র্কের একটি ভয়াবহ অপরাধের চিত্র তুলে ধরলো। এখানে ৭ মাসের শিশুও নিরাপদ নয় তার বাবার পাশে। তিনি হঠাৎ দেখতে পান স্টলারে থাকা তার শিশু সন্তানের দেহ থেকে রক্ত ঝরছে! সেই মুহূর্তে তার অজ্ঞান হবার অবস্থা।
হামবোল্ট স্ট্রিটের মোড়ে রক্তাক্ত সন্তানকে কোলে নিয়ে বাবা যখন উডহাল হাসপাতালে পাগলের মতো ছুটছিলেন, সেই দৃশ্য উপস্থিত সবার চোখ ভিজিয়ে দিয়েছিল। কিন্তু চিকিৎসকদের চেষ্টা হার মানিয়ে না ফেরার দেশে চলে যায় নিষ্পাপ শিশুটি। এনবিসি নিউজের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এক শোকাতুর বাবার আর্তনাদ! যিনি কয়েক মুহূর্ত আগেও নিজের কলিজার টুকরোকে নিয়ে সুন্দর বিকেলে স্বপ্ন দেখছিলেন শিশু সন্তানকে নিয়ে।
এই মর্মান্তিক বিয়োগান্তক ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দিচ্ছে নিউইয়র্কে বন্দুক সহিংসতার ভয়াবহতা, যেখানে মাশুল দিতে হচ্ছে পরম মমতায় আগলে রাখা ছোট শিশুদের। কাওরির শূন্য স্ট্রলারটি এখন কেবল এক টুকরো প্লাস্টিক ও কাপড় নয়। এটি নিউইয়র্কের রাজপথে বিচার চেয়ে দাঁড়িয়ে থাকা এক নিথর নীরবতা।
ব্রুকলিনের আকাশে আজ যে ঘন মেঘ জমেছে, তাতে শোকাতুর এই শহরের অশ্রু বিসর্জনে শেষ হবার নয়। ছোট্ট শিশুটি কেন নিরাপদ নয় বাবা-মায়ের কোলে? তাদের নিষ্পাপ আত্মা ঘুরে ঘুরে অভিশাপ জানাবে নগরীর অভিভাবকদের।





Add comment