সুখের শীর্ষে কর্মীরা, তবু চাপের ছায়া

এশিয়া–প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে কর্মক্ষেত্রে সুখের সূচকে শীর্ষ অবস্থান অর্জন করেছে ইন্দোনেশিয়া। চাকরিবিষয়ক প্ল্যাটফর্ম জবস্ট্রিটের প্রকাশিত এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির কর্মীদের সুখের হার ৮২ শতাংশে পৌঁছেছে, যা অঞ্চলটির অন্যান্য উন্নত অর্থনীতির তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত বছরের অক্টোবর থেকে নভেম্বর সময়কালে নেচার রিসার্চ ইনস্টিটিউট পরিচালিত এক জরিপে এই তথ্য উঠে এসেছে। জরিপে ১৮ থেকে ৬৪ বছর বয়সী অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ৮৬ শতাংশ জানিয়েছেন, তাঁরা কর্মক্ষেত্রে নিজেদের মূল্যায়িত মনে করেন। একই সঙ্গে ৭৫ শতাংশ অংশগ্রহণকারী মনে করেন, তাঁদের কাজের মধ্যে একটি অর্থবহ দিক রয়েছে। এসব সূচক ইঙ্গিত দেয় যে কর্মপরিবেশ ও কাজের মানসিক প্রভাব ইন্দোনেশিয়ায় তুলনামূলকভাবে ইতিবাচক।

তবে প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে, কর্মীদের সুখ নির্ধারণে বেতন একমাত্র বা প্রধান উপাদান নয়। জরিপে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে মাত্র ৫৪ শতাংশ বেতনকে অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এর পরিবর্তে কর্মক্ষেত্রে সন্তুষ্টি নির্ভর করছে আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ওপর।

বিশেষ করে কাজ ও ব্যক্তিজীবনের মধ্যে ভারসাম্য এবং কাজের অর্থবহতা কর্মীদের দীর্ঘমেয়াদি সন্তুষ্টির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। এই দুটি বিষয়কে কর্মীদের সুখের প্রধান ভিত্তি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে প্রতিবেদনে।

এ ছাড়া কর্মীদের সুখে সবচেয়ে বেশি অবদান রাখে সহকর্মীদের ভূমিকা। জরিপে ৭৭ শতাংশ অংশগ্রহণকারী এ বিষয়টিকে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন। এরপর কর্মস্থলের অবস্থান ৭৬ শতাংশ এবং কাজের উদ্দেশ্য বা অর্থবহতা ৭৫ শতাংশ গুরুত্ব পেয়েছে। অর্থাৎ, একটি সহায়ক ও ইতিবাচক কর্মপরিবেশ কর্মীদের মানসিক স্বাচ্ছন্দ্যে বড় ভূমিকা রাখছে।

তবে এই ইতিবাচক চিত্রের আড়ালে লুকিয়ে রয়েছে কিছু উদ্বেগজনক দিকও। জরিপে দেখা গেছে, ইন্দোনেশিয়ার ৪৩ শতাংশ কর্মী মানসিক ক্লান্তি বা বার্নআউটে ভুগছেন। আরও তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হলো, যারা নিজেদের সুখী বলে দাবি করেছেন, তাঁদের মধ্যেও ৪০ শতাংশ একই ধরনের মানসিক চাপে রয়েছেন।

প্রতিবেদনে এই পরিস্থিতিকে একধরনের বৈপরীত্য হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। বাহ্যিকভাবে কর্মক্ষেত্রে সন্তুষ্টি থাকলেও অনেক কর্মী ভেতরে ভেতরে মানসিক চাপ ও ক্লান্তির সঙ্গে লড়াই করছেন। এটি কর্মক্ষেত্রে সুস্থতার সামগ্রিক চিত্র নিয়ে নতুন করে ভাবনার অবকাশ তৈরি করেছে।

এর পাশাপাশি প্রযুক্তিগত পরিবর্তনও কর্মীদের মধ্যে নতুন ধরনের উদ্বেগ তৈরি করছে। বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অগ্রগতি অনেক কর্মীর কাছে ভবিষ্যতের চাকরির নিরাপত্তা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি করছে। জরিপে অংশ নেওয়া ৪২ শতাংশ কর্মী মনে করেন, এই প্রযুক্তির বিস্তার তাঁদের চাকরির জন্য হুমকি হতে পারে।

প্রযুক্তি খাতের কর্মীদের মধ্যে এই উদ্বেগ সবচেয়ে বেশি লক্ষ্য করা গেছে। দ্রুত পরিবর্তনশীল প্রযুক্তি পরিবেশে দক্ষতার পরিবর্তন ও চাকরির ধরনে রূপান্তর নিয়ে অনেকেই দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।

সব মিলিয়ে, কর্মক্ষেত্রে সুখের সূচকে শীর্ষে থাকলেও ইন্দোনেশিয়ার কর্মীদের বাস্তবতা বহুমাত্রিক। একদিকে ইতিবাচক কর্মপরিবেশ ও মূল্যায়নের অনুভূতি, অন্যদিকে মানসিক চাপ, বার্নআউট ও ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা একসঙ্গে বিদ্যমান রয়েছে।

BP NEWS USA

Add comment

Follow us

Don't be shy, get in touch. We love meeting interesting people and making new friends.

Most discussed