Bp News USA

সাবেক মেয়রের নাগরিকত্ব বাতিলে উদ্যোগ

যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ সাবেক এক সিটি মেয়রের মার্কিন নাগরিকত্ব বাতিলের উদ্যোগ নিয়েছে। অভিযোগ, নাগরিকত্ব গ্রহণের সময় তিনি নিজের পরিচয় ও অভিবাসন সংক্রান্ত তথ্য ভুলভাবে উপস্থাপন করেছিলেন। ফেডারেল আইনজীবীরা দক্ষিণ ফ্লোরিডার যুক্তরাষ্ট্র জেলা আদালতে তার বিরুদ্ধে নাগরিকত্ব বাতিল সংক্রান্ত মামলা দায়ের করেছেন।

আদালতের নথি অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ২০০৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব লাভ করেন। তিনি হাইতি থেকে আগত এবং ২০১৯ সালে নর্থ মায়ামির মেয়র হিসেবে নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে ২০২২ সালে তিনি পদত্যাগ করেন মায়ামি ডেড কাউন্টি কমিশনের একটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার উদ্দেশ্যে, তবে নির্বাচনে পরাজিত হন।

বিচার বিভাগের দাখিল করা দেওয়ানি অভিযোগে বলা হয়েছে, তিনি ১৯৯৭ সালে একটি জাল ও ছবি পরিবর্তিত পাসপোর্ট ব্যবহার করে ভিন্ন নামে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, তিনি তখন অন্য পরিচয়ে দেশে ঢোকেন এবং পরে প্রকৃত নাম ব্যবহার করেন।

২০০০ সালের ৩১ জুলাই এক অভিবাসন বিচারক সিদ্ধান্ত দেন যে তিনি প্রতারণার মাধ্যমে দেশে প্রবেশ করেছেন এবং তাকে হাইতিতে ফেরত পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। অভিযোগে বলা হয়েছে, তিনি ওই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করলেও পরে আপিল প্রত্যাহার করেন এবং জানান যে তিনি হাইতিতে ফিরে গেছেন। তবে ফেডারেল কর্তৃপক্ষের দাবি, তিনি কখনো দেশত্যাগ করেননি এবং ভিন্ন নামে যুক্তরাষ্ট্রেই অবস্থান করেন।

হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের নথি, যার মধ্যে আঙুলের ছাপের তুলনামূলক বিশ্লেষণও রয়েছে, দেখায় যে যিনি পরবর্তীতে অন্য নামে নাগরিকত্ব গ্রহণ করেন, তিনিই পূর্বে ভিন্ন নামে বহিষ্কারের আদেশপ্রাপ্ত ব্যক্তি। এসব তথ্য অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির আইনজীবী এক বিবৃতিতে জানান, তারা অভিযোগপত্র পর্যালোচনা করছেন এবং যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অভিযোগের জবাব দেওয়া হবে। যেহেতু বিষয়টি বিচারাধীন, এ বিষয়ে আর কোনো মন্তব্য করা হবে না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

এই মামলা এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন তৎকালীন প্রশাসন বিদেশে জন্ম নেওয়া মার্কিন নাগরিকদের নাগরিকত্ব বাতিলের উদ্যোগ জোরদার করেছে। বৃহত্তর অভিবাসন নীতির অংশ হিসেবে নাগরিকত্ব বাতিলের প্রক্রিয়া সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।

নাগরিকত্ব বাতিল বা ডিন্যাচারালাইজেশন একটি দীর্ঘ ও জটিল আইনি প্রক্রিয়া, যার জন্য উচ্চমানের প্রমাণ প্রয়োজন। ফেডারেল কর্তৃপক্ষ তদন্ত শুরু করলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে কয়েক বছর লেগে যেতে পারে। নাগরিকত্ব বাতিলের পর বহিষ্কার প্রক্রিয়া আরও দীর্ঘ হতে পারে।

সরকার যদি শেষ পর্যন্ত নাগরিকত্ব বাতিলে সফল হয়, তাহলে তার দায়িত্বপালনের সময়কাল নিয়ে আইনি ও রাজনৈতিক প্রশ্ন উঠতে পারে। নর্থ মায়ামি সিটির বিধিমালা অনুযায়ী, নির্বাচনে প্রার্থী হতে হলে যোগ্য ভোটার হতে হয়, অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক এবং নিবন্ধিত ভোটার হওয়া আবশ্যক। ভোটার হিসেবে নিবন্ধনের জন্যও মার্কিন নাগরিকত্ব প্রয়োজন।

অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়েছে, তিনি ভিন্ন নামে যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করার পাশাপাশি এক মার্কিন নাগরিককে বিয়ে করেন এবং সেই ভিত্তিতে স্থায়ী বাসিন্দার মর্যাদা অর্জন করেন। তবে ফেডারেল কৌঁসুলিদের দাবি, সেই বিয়ে বৈধ ছিল না, কারণ তিনি তখনও হাইতির এক নাগরিকের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ ছিলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, অভিবাসন কর্তৃপক্ষের কাছে যে বিবাহবিচ্ছেদের সনদ উপস্থাপন করা হয়েছিল, সেটিও ছিল জাল।

দক্ষিণ ফ্লোরিডা জেলার যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাটর্নি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলেন, মার্কিন নাগরিকত্ব একটি বিশেষ অধিকার, যা সততা ও দেশের প্রতি আনুগত্যের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত। অভিযোগ প্রমাণিত হলে আদালতের কাছে এমন মর্যাদা বাতিলের আবেদন করা হবে, যা আইনসম্মতভাবে অর্জিত হয়নি।

BP NEWS USA

Add comment

Follow us

Don't be shy, get in touch. We love meeting interesting people and making new friends.

Most discussed