নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের কুইন্সের ৩০ নম্বর স্টেট অ্যাসেম্বলি আসনকে ঘিরে আসন্ন জুনের নির্বাচনকে সামনে রেখে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হয়েছে। বর্তমান অ্যাসেম্বলিম্যান স্টিভেন রাগা এ দফায় প্রার্থী হচ্ছেন না, ফলে উডসাইড, এলমহার্স্ট, ইস্ট এলমহার্স্ট, মাসপেথ ও জ্যাকসন হাইটস নিয়ে গঠিত এই গুরুত্বপূর্ণ আসনটি এখন উন্মুক্ত অবস্থায় রয়েছে। বহুজাতিক ও কর্মজীবী মানুষের বসবাসের কারণে আসনটি দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।
এই প্রেক্ষাপটে প্রার্থিতা ঘোষণা করেছেন অবসরপ্রাপ্ত এনওয়াইপিডি লেফটেন্যান্ট কমান্ডার শামসুল হক। তিনি নিজেকে কর্মজীবী জনগোষ্ঠী, অভিবাসী পরিবার এবং মধ্যবিত্ত সম্প্রদায়ের কণ্ঠস্বর হিসেবে উপস্থাপন করছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ডিস্ট্রিক্ট ৩০ এখন নতুন নেতৃত্বের জন্য প্রস্তুত এবং তিনি কর্মজীবী মানুষের পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নিতে চান।
প্রার্থীর প্রচারণায় তাঁর ব্যক্তিগত জীবনযাত্রার গল্প একটি গুরুত্বপূর্ণ অনুষঙ্গ হয়ে উঠেছে। শৈশবে পরিবারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন, নিউইয়র্কে ছাত্রনেতৃত্বের অভিজ্ঞতা এবং দীর্ঘদিনের পুলিশি পেশাজীবনকে তিনি জনসেবার ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরছেন। তাঁর দাবি, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীতে দায়িত্ব পালন তাঁকে নিরাপত্তা, কমিউনিটি সম্পর্ক এবং নীতি বাস্তবায়নের বাস্তব অভিজ্ঞতা দিয়েছে। এসব অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে তিনি নির্বাচনী এলাকায় কার্যকর প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে চান।
কুইন্সের ৩০ নম্বর আসন ঐতিহ্যগতভাবে বহুসাংস্কৃতিক রাজনীতির একটি কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত। এশীয়, লাতিনো এবং দক্ষিণ এশীয় সম্প্রদায়ের শক্ত উপস্থিতি এই এলাকার রাজনৈতিক চরিত্র নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখে। ফলে এখানে প্রার্থীদের জন্য স্থানীয় ইস্যুগুলো বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, জননিরাপত্তা, আবাসন ব্যয় বৃদ্ধি, ক্ষুদ্র ব্যবসার টিকে থাকা, শিক্ষা এবং অভিবাসী অধিকার—এসব বিষয় নির্বাচনী আলোচনার কেন্দ্রে থাকবে।
অবসরপ্রাপ্ত ওই পুলিশ কর্মকর্তা তাঁর প্রচারণায় কর্মজীবী মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো, ছোট ব্যবসায়ীদের সুরক্ষা জোরদার এবং কমিউনিটি-ভিত্তিক জননিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন। তাঁর ভাষায়, তিনি সেই পরিবারগুলোর কথা বলতে চান যারা প্রতিদিন কঠোর পরিশ্রম করেও নিউইয়র্কে টিকে থাকার সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন। মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষের আর্থিক চাপ লাঘবে কার্যকর নীতি প্রণয়নের অঙ্গীকারও তিনি তুলে ধরছেন।
আসন্ন জুনের প্রাইমারি নির্বাচনকে ঘিরে কুইন্সের রাজনৈতিক অঙ্গনে ইতোমধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত হলে প্রতিদ্বন্দ্বিতার চিত্র আরও স্পষ্ট হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে আপাতত ৩০ নম্বর অ্যাসেম্বলি আসন উন্মুক্ত হওয়ায় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন সম্ভাবনার সৃষ্টি হয়েছে। অবসরপ্রাপ্ত এই কর্মকর্তা তাঁর প্রার্থিতার মাধ্যমে কর্মজীবী ও অভিবাসী ভোটারদের আকৃষ্ট করার চেষ্টা করছেন এবং নির্বাচনী মাঠে একটি নতুন আলোচনার সূচনা করেছেন।
স্থানীয় পর্যায়ে সংগঠিত প্রচারণা, কমিউনিটির সঙ্গে সংযোগ বৃদ্ধি এবং নীতিগত অবস্থান পরিষ্কার করার মাধ্যমে তিনি সমর্থন জোগাড়ে মনোযোগ দিচ্ছেন। বহুজাতিক এই আসনে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের আস্থা অর্জনই হবে মূল চ্যালেঞ্জ। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রার্থীর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও পেশাগত পটভূমি ভোটারদের কাছে একটি আলাদা বার্তা পৌঁছে দিতে পারে।
সব মিলিয়ে, কুইন্সের ৩০ নম্বর স্টেট অ্যাসেম্বলি আসন ঘিরে নির্বাচন এখন নতুন মোড় নিয়েছে। শূন্য হওয়া এই আসনে প্রার্থিতা ঘোষণার মাধ্যমে অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কমান্ডার কর্মজীবী মানুষের প্রতিনিধিত্বের প্রতিশ্রুতি সামনে এনেছেন। জুনের প্রাইমারি ঘিরে এখন স্থানীয় রাজনীতিতে বাড়ছে আগ্রহ ও আলোচনা।







Add comment