Bp News USA

শরীর-মনের জন্য দানই উত্তম প্রমাণিত

ছুটির সময় এলে অনেকের মন ঘিরে রাখে উপহার নিয়ে পরিকল্পনা — কার জন্য কী কিনবেন, কতটুকু খরচ করবেন এবং কাকে দিবেন। সাধারণত উপহার দেওয়ার বিষয়টি অনেক সময় চাপ এবং দায়িত্বের সঙ্গে যুক্ত মনে হয়, কিন্তু সাম্প্রতিক গবেষণা দেখাচ্ছে যে উপহার দেওয়ার নিজেকেও অনেক উপকার হতে পারে।

গবেষণার মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে যে, অন্যকে সাহায্য করা বা উপহার দেওয়ার মতো সামাজিক আচরণ আমাদের মানসিক ও শারীরিক সুস্থতায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। এটি শুধুমাত্র নিজের খুশি বা মানসিক শান্তির জন্য নয়, বরং দান করা মানুষকে অনেক স্বাস্থ্যগত সুবিধা দিতে পারে। তবে এ ক্ষেত্রে নিজের সীমাবদ্ধতাও মানা জরুরি; নিজের স্বাস্থ্যের ক্ষতি করে কেউ উপহার দেওয়ার চেষ্টা করলে উপকার পাওয়া কঠিন।

মানসিক স্বাস্থ্য গবেষণায় দেখা গেছে, উপহার দেওয়া এবং সাহায্যমূলক আচরণ ডিপ্রেশন ও উদ্বেগ কমাতে সাহায্য করে এবং জীবনের সন্তুষ্টি বৃদ্ধি করে। আরও বিস্ময়কর বিষয় হলো, এর প্রভাব কেবল মানসিক স্বাস্থ্যে সীমাবদ্ধ নয়। গবেষণায় দেখা গেছে যে, সামাজিক সহায়তা প্রদানের মাধ্যমে স্ট্রেস হরমোনের মাত্রা কমে, প্রদাহের ঝুঁকি কমে, হৃদযন্ত্রের কার্যকারিতা উন্নত হয় এবং আয়ু বৃদ্ধি পেতে পারে। ২০২৩ সালে প্রকাশিত এক বিশাল সমীক্ষা ৩০টি গবেষণার ফল বিশ্লেষণ করে দেখিয়েছে, দান, স্বেচ্ছাসেবী কাজ, এবং সহায়তা প্রদানের মতো কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের ফলে মানসিক সুস্থতা উন্নত হয়, ডিপ্রেশন কমে, শারীরিক সক্রিয়তা বেড়ে এবং রক্ত পরীক্ষার ফলাফলও ভালো হয়।

মস্তিষ্ক এবং শরীরের ওপর উপহার দেওয়ার প্রভাবও উল্লেখযোগ্য। উপহার দেওয়া মস্তিষ্কের সেই অংশগুলো সক্রিয় করে যা আনন্দ, উদ্দীপনা এবং সামাজিক সম্পর্কের সঙ্গে যুক্ত। এতে ডোপামিন এবং এন্ডোরফিনের মতো রাসায়নিক নিঃসৃত হয়, যা ইতিবাচক অনুভূতির সঙ্গে সম্পর্কিত। এছাড়া অক্সিটোসিন হরমোনও মুক্ত হয়, যা রক্তচাপ কমাতে, স্ট্রেস প্রতিক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করতে এবং সামাজিক সংযোগ বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। বারবার এই প্রক্রিয়া সক্রিয় হলে দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্য সুবিধা পাওয়া সম্ভব, বিশেষ করে ডিপ্রেশন বা হৃদরোগের মতো দীর্ঘস্থায়ী চাপজনিত সমস্যায়।

প্রাথমিক পর্যায়ের গবেষণাগুলো ছিল পর্যবেক্ষণমূলক, যা দেখায় যে হয়তো সুস্থ বা সুখী মানুষরা স্বাভাবিকভাবেই দান করতে বেশি আগ্রহী। তবে সাম্প্রতিক পরীক্ষামূলক গবেষণায় দেখা গেছে, যারা ইচ্ছাকৃতভাবে সহানুভূতিশীল কর্মকাণ্ডে অংশ নেয়, তাদের শরীরে স্ট্রেস হরমোনের মাত্রা কমে এবং মানসিক সুস্থতা উন্নত হয়।

উপহার দেওয়ার ধরন এবং প্রেক্ষাপটও গুরুত্বপূর্ণ। স্বেচ্ছাসেবী এবং অর্থপূর্ণ দান সবচেয়ে উপকারী, যেখানে চাপ বা বাধ্যবাধকতা থাকে না। সময় এবং পরিশ্রম দিয়ে সাহায্য করা প্রায়ই কেবল অর্থ দিয়ে সাহায্য করার চেয়ে বেশি স্বাস্থ্যগত সুবিধা দেয়। ব্যক্তিগত মূল্যবোধের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ উপহার বা সম্পর্ক গঠনে সাহায্যকারী উপহার বেশি কার্যকর। ছোট ছোট বিষয় যেমন চিন্তাশীল নোট লেখা, প্রতিবেশীকে সাহায্য করা বা একাকী কারো সঙ্গে সময় কাটানোও গভীর প্রভাব ফেলতে পারে।

তবে দান সবসময় উপকারী নয়। যদি উপহার দেওয়া অর্থনৈতিক চাপ, অতিরিক্ত পরিশ্রম বা নিজের স্বাস্থ্য উপেক্ষা করার কারণ হয়ে দাঁড়ায়, তবে এর সুফল নষ্ট হয়ে যেতে পারে। যতটা সম্ভব স্বেচ্ছায় এবং সক্ষমতার মধ্যে থাকা উচিত।

বয়সভেদে উপহার দেওয়ার সুফল দেখা গেছে। বয়সী মানুষ যারা স্বেচ্ছাসেবী কাজ করে, তাদের শারীরিক কার্যকারিতা ভালো থাকে এবং মৃত্যুর ঝুঁকি কমে। সামাজিকভাবে একা অনুভবকারী মানুষও দানের মাধ্যমে সামাজিক সম্পর্ক এবং জীবনের উদ্দেশ্য খুঁজে পেতে পারে। কিশোর ও তরুণরাও সহানুভূতিশীল কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে মানসিক সুস্থতা অর্জন করতে পারে।

ছুটির সময় উপহার দেওয়ার ক্ষেত্রে মূল মনোভাব হওয়া উচিত মানে এবং সম্পর্কের গুরুত্ব। দান কখনো চাপের কারণে হওয়া উচিত নয়। নিজের অর্থ, সময় এবং সামর্থ্যের মধ্যে থেকে অর্থপূর্ণভাবে উপহার দেওয়া সবচেয়ে কার্যকর।

সর্বশেষে বলা যায়, উপহার দেওয়া স্বাস্থ্য এবং মানসিক সুস্থতার জন্য উপকারী, যদি তা সচেতনভাবে এবং নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী করা হয়। এটি স্ট্রেস কমায়, সামাজিক সম্পর্ক শক্তিশালী করে এবং মানসিক ও শারীরিক সুস্থতা উন্নত করে।

BP NEWS USA

Add comment

Follow us

Don't be shy, get in touch. We love meeting interesting people and making new friends.

Most discussed