লিউয়ানডোস্কি ইস্যুতে নতুন তদন্তে ডেমোক্র্যাটরা

যুক্তরাষ্ট্রের হাউস ওভারসাইট কমিটির ডেমোক্র্যাট সদস্যরা হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের এক শীর্ষ সহকারীর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগকে কেন্দ্র করে নতুন তদন্ত শুরু করেছেন। অভিযোগ রয়েছে, তিনি সরকারি চুক্তি প্রক্রিয়ায় সুবিধা দেওয়ার বিনিময়ে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে ব্যক্তিগত অর্থ আদায়ের চেষ্টা করেছিলেন।

সোমবার কমিটির ডেমোক্র্যাট সদস্যরা বেসরকারি কারাগার পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান জিও গ্রুপকে একটি চিঠি পাঠান। এতে উক্ত সহকারীর সঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির বৈঠক ও কথোপকথনের বিস্তারিত তথ্য চাওয়া হয়। ২০২৪ সালের নির্বাচনের পরবর্তী রূপান্তরকাল এবং ২০২৫ সালের মধ্যে এসব যোগাযোগ হয়েছে কি না, তাও জানতে চাওয়া হয়েছে।

অভিযোগ অস্বীকার করে সংশ্লিষ্ট সহকারী বলেন, তিনি কোনো ধরনের অর্থ দাবি করেননি। অন্যদিকে, জিও গ্রুপ তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।

জিও গ্রুপ যুক্তরাষ্ট্রে আটক কেন্দ্র পরিচালনায় সবচেয়ে বড় প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত এবং অবৈধ অভিবাসীদের গণহারে ফেরত পাঠানোর কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের সঙ্গে তাদের এক বিলিয়ন ডলারের বেশি মূল্যের চুক্তি রয়েছে।

কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট সদস্য এক বিবৃতিতে বলেন, এই ঘটনা গভীরভাবে প্রোথিত দুর্নীতির ইঙ্গিত দেয় এবং এটি সাধারণ নাগরিকদের জন্য উদ্বেগজনক। তিনি আরও বলেন, যেসব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে, তাদের কাছ থেকে সরাসরি তথ্য নিয়ে এই অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা হবে এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তদন্ত চলবে।

একটি সংবাদমাধ্যমের অনুসন্ধানে জানা যায়, জিও গ্রুপসহ কয়েকটি ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান হোয়াইট হাউস সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে অভিযোগ করেছে যে ওই সহকারী সরাসরি বা পরোক্ষভাবে চুক্তি প্রক্রিয়া থেকে ব্যক্তিগতভাবে লাভবান হওয়ার চেষ্টা করেছেন। একাধিক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা এবং সংশ্লিষ্ট সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

২০২৪ সালের নির্বাচনে বিজয়ের পর জিও গ্রুপ বড় অঙ্কের চুক্তি পাওয়ার আশায় ছিল এবং সে সময় তাদের শেয়ারের দামও রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছায়। তবে প্রত্যাশিত হারে চুক্তি না পাওয়ায় মার্চের মাঝামাঝি সময়ে শেয়ারের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। অভিযোগ রয়েছে, নতুন চুক্তির জন্য অর্থ প্রদান না করায় দুটি চুক্তির পরিমাণও কমে যায়।

উক্ত সহকারী ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে বিশেষ সরকারি কর্মচারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। বিভাগটির আইনি দপ্তর জানায়, তিনি আর্থিক বিবরণী জমা দিলেও তার অবস্থানের কারণে তা প্রকাশ করা বাধ্যতামূলক নয়।

একজন আইনি বিশেষজ্ঞ বলেন, যদি কোনো বিশেষ সরকারি কর্মচারী চুক্তি দেওয়ার বিনিময়ে অর্থ দাবি করে থাকেন, তবে তা স্পষ্টভাবে বেআইনি কর্মকাণ্ডের ইঙ্গিত দেয়।

এই তদন্ত শুরু হয়েছে সাবেক মন্ত্রীর অপসারণের পর কংগ্রেসের ডেমোক্র্যাট সদস্যদের ধারাবাহিক নজরদারির অংশ হিসেবে। একই সঙ্গে বিভাগের একটি ২২ কোটি ডলারের বিজ্ঞাপন চুক্তি নিয়েও তদন্ত চলছে। অভিযোগ রয়েছে, পূর্ণ প্রতিযোগিতা ছাড়াই দুটি প্রতিষ্ঠানের কাছে এই চুক্তি দেওয়া হয়েছে।

এর মধ্যে একটি প্রতিষ্ঠান আবার সাবকন্ট্রাক্ট হিসেবে একটি কৌশলভিত্তিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করেছে, যার প্রধান নির্বাহী সাবেক এক মুখপাত্রের সঙ্গে পারিবারিক সম্পর্কে যুক্ত। ডেমোক্র্যাট দুই সিনেটর তাদের প্রাথমিক অনুসন্ধানে দাবি করেছেন, ওই প্রতিষ্ঠানে ৬০ হাজার ডলারের সাইনিং বোনাস দেওয়া হয়েছে।

তদন্তে আরও উঠে এসেছে, বিজ্ঞাপন শুটিংয়ের জন্য চুল ও মেকআপে প্রায় ৪ হাজার ডলার এবং ঘোড়া ভাড়ায় ২০ হাজার ডলার ব্যয় হয়েছে।

এদিকে রিপাবলিকান দলের এক সিনেটরও বিজ্ঞাপন চুক্তির অঙ্ক নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেন, করদাতাদের বিপুল অর্থ ব্যয়ের এই সিদ্ধান্ত যৌক্তিক নয়।

অভিযোগের জবাবে সাবেক মন্ত্রী জানান, চুক্তি প্রদান প্রক্রিয়ায় তার কোনো ভূমিকা ছিল না এবং বিভাগীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিরাও এতে জড়িত ছিলেন না।

BP NEWS USA

Add comment

Follow us

Don't be shy, get in touch. We love meeting interesting people and making new friends.

Most discussed