পবিত্র রমজান মাসে দীর্ঘ সময় না খেয়ে ও না পান করে থাকার কারণে শরীরে পানিশূন্যতা দেখা দেওয়া স্বাভাবিক। এর প্রভাব সরাসরি পড়ে ত্বকে। পানি স্বল্পতার কারণে ত্বক শুষ্ক হয়ে যায়, স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা কমে আসে এবং মুখমণ্ডল অনেক সময় ক্লান্ত ও বিবর্ণ দেখায়। বিশেষ করে চোখের চারপাশে কালচে দাগ স্পষ্ট হয়ে ওঠে। তবে খাদ্যাভ্যাস ও দৈনন্দিন যত্নে কিছু পরিবর্তন আনলে এ সময়েও ত্বকের স্বাভাবিক সৌন্দর্য ধরে রাখা সম্ভব।
ইফতারে সুষম খাদ্য গ্রহণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। খেজুর, স্ট্রবেরি ও ব্লুবেরির মতো ফলে প্রচুর অ্যান্টি অক্সিডেন্ট, আয়রন, পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম ও ম্যাগনেশিয়াম থাকে। এসব উপাদান ত্বক সুস্থ রাখতে সহায়ক ভূমিকা রাখে। নিয়মিত এসব ফল খাদ্যতালিকায় যুক্ত করলে ত্বক ভেতর থেকে পুষ্টি পায় এবং শুষ্কতা কমাতে সহায়তা করে।
ইফতার থেকে সাহরি পর্যন্ত পর্যাপ্ত পানি পান করা অত্যন্ত জরুরি। সাধারণভাবে ছয় থেকে আট গ্লাস পানি পান করার পরামর্শ দেওয়া হয়। তবে একবারে অতিরিক্ত পানি না খেয়ে নির্দিষ্ট বিরতিতে অল্প অল্প করে পানি পান করা উচিত। এতে শরীর ধীরে ধীরে পানির ঘাটতি পূরণ করতে পারে এবং ত্বক আর্দ্র থাকে।
পানি ছাড়াও বিভিন্ন তরলজাতীয় খাবার গ্রহণ করা যেতে পারে। শরবত, ডাবের পানি, ফলের রস, দুধ ও স্যুপ জাতীয় খাবার শরীরে তরলের ঘাটতি পূরণে কার্যকর। এসব পানীয় ত্বককে পানিশূন্যতার হাত থেকে রক্ষা করতে সহায়তা করে।
বাদামজাতীয় খাবার, বিশেষ করে কাজুবাদাম খাদ্যতালিকায় রাখা ভালো। এসব খাবারে আমিষ, ফ্যাটি অ্যাসিড ও ফাইবারের পরিমাণ বেশি থাকে, যা শুষ্ক ত্বকের স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা ফিরিয়ে আনতে সহায়ক। একই সঙ্গে তরমুজ, পাকা পেঁপে, কমলালেবু, আঙুর, কলা, অ্যাভোকাডো, শসা ও গাজরের মতো ফল ও সবজি ত্বকের জন্য উপকারী। লেবু, মধু, দই ও ছোলাও ত্বকের উজ্জ্বলতা বজায় রাখতে সহায়ক ভূমিকা রাখে।
ইফতার থেকে সাহরি পর্যন্ত সময়ে ক্যাফেইনসমৃদ্ধ পানীয়, যেমন চা ও কফি কম পান করা উচিত। এসব পানীয় অধিক মূত্র তৈরি করে, যার ফলে দিনের বেলায় শরীরে পানিশূন্যতা আরও বাড়তে পারে। তাই এ ধরনের পানীয় সীমিত রাখাই শ্রেয়।
রাতের খাবারে আমিষের উপস্থিতি থাকা প্রয়োজন। মুরগির মাংস, মাছ বা ডিমের সঙ্গে টমেটো, ব্রকলি, দই ও লেবু রাখা যেতে পারে। এসব খাবারে থাকা পুষ্টি উপাদান ত্বকের উজ্জ্বলতা বাড়াতে সহায়তা করে এবং প্রয়োজনীয় পুষ্টি জোগায়।
খাদ্যাভ্যাসের পাশাপাশি বাহ্যিক যত্নও সমান গুরুত্বপূর্ণ। রমজানে অনেকের ত্বক অতিরিক্ত শুষ্ক হয়ে পড়ে। তাই গোসলের পর ত্বকে অলিভ অয়েল, নারকেল তেল অথবা মানসম্মত ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা উচিত। এতে ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখা সহজ হয়। পানির ঘাটতির কারণে ঠোঁটও শুষ্ক ও ফেটে যেতে পারে। এ সমস্যা এড়াতে নিয়মিত ঠোঁটে পেট্রোলিয়াম জেলি ব্যবহার করা যেতে পারে।
সচেতন খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত তরল গ্রহণ এবং সঠিক ত্বক পরিচর্যার মাধ্যমে রমজান মাসেও ত্বককে রাখা যায় সতেজ ও প্রাণবন্ত। সামান্য যত্নই পারে দীর্ঘ সময়ের রোজায় ত্বকের স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে।







Add comment