Bp News USA

যুক্তরাষ্ট্রে কে-আকৃতির অর্থনীতি নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ

যুক্তরাষ্ট্রে ধনী ও নিম্নআয়ের জনগোষ্ঠীর মধ্যে ব্যবধান দ্রুত বিস্তৃত হচ্ছে, যা নিয়ে অর্থনীতিবিদরা ক্রমেই সতর্কবার্তা দিচ্ছেন। স্বল্প সময়ের ব্যবধানে আয় বৈষম্য উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে এবং বিভিন্ন অর্থনৈতিক সূচক, বিশেষ করে ঋণ পরিশোধে খেলাপির হার বৃদ্ধি, সম্ভাব্য ঝুঁকির ইঙ্গিত দিচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, দেশটির অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার এখন একটি “কে-আকৃতির” ধারা অনুসরণ করছে। অর্থাৎ, অর্থনীতির একটি অংশ ঊর্ধ্বমুখী প্রবৃদ্ধির সুফল পাচ্ছে, অন্য অংশ একই সময়ে নিম্নমুখী চাপে রয়েছে। ফলে সামগ্রিক অর্থনৈতিক অগ্রগতি সত্ত্বেও তা সমানভাবে বণ্টিত হচ্ছে না।

সাম্প্রতিক সময়ে শক্তিশালী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, শেয়ারবাজারে উচ্চমূল্য, মূল্যস্ফীতি হ্রাসের প্রবণতা এবং স্থিতিশীল বেকারত্বের হারকে ইতিবাচক সংকেত হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে এই ইতিবাচক চিত্রের আড়ালে রয়েছে আয় ও সম্পদের বৈষম্য বৃদ্ধির বাস্তবতা। বিশেষজ্ঞদের মতে, উচ্চ আয়ের মানুষ ও বিনিয়োগকারীরা বাজারের উত্থান থেকে লাভবান হলেও নিম্ন ও মধ্য আয়ের অনেক পরিবার ব্যয়ভার, ঋণচাপ ও আর্থিক অনিশ্চয়তার সঙ্গে লড়াই করছে।

ঋণ পরিশোধে বিলম্ব বা খেলাপির হার বৃদ্ধিকে অনেকেই সতর্ক সংকেত হিসেবে বিবেচনা করছেন। এটি নির্দেশ করে যে, একটি অংশের আর্থিক স্থিতি দুর্বল হয়ে পড়ছে। বিশেষ করে যারা জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, সুদের হার এবং দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় খরচ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন, তাদের জন্য পরিস্থিতি উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, একই অর্থনৈতিক পরিবেশে ভিন্ন ভিন্ন গোষ্ঠীর অভিজ্ঞতা একেবারেই আলাদা। একদিকে রয়েছে এমন পরিবার, যারা বিনিয়োগ, সম্পদ বৃদ্ধি ও আয় বৃদ্ধির মাধ্যমে স্থিতিশীল অবস্থানে আছে। অন্যদিকে রয়েছে এমন জনগোষ্ঠী, যাদের সঞ্চয় কমে যাচ্ছে এবং আর্থিক নিরাপত্তা অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে।

এই প্রেক্ষাপটে অনেকের মনে প্রশ্ন জাগছে, তারা আসলে কে-আকৃতির অর্থনীতির কোন শাখায় অবস্থান করছেন। চলতি বছর অগ্রসর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এই অবস্থানের পরিবর্তন ঘটবে কি না, তা নিয়েও রয়েছে অনিশ্চয়তা। অর্থনৈতিক সূচকগুলো সামগ্রিকভাবে ইতিবাচক ইঙ্গিত দিলেও ব্যক্তিগত ও পারিবারিক আর্থিক বাস্তবতা সবার ক্ষেত্রে এক নয়।

পরিবারভিত্তিক আর্থিক পরিস্থিতির ভবিষ্যৎ নিয়েও নানা পূর্বাভাস উঠে আসছে। ২০২৬ সাল এবং তার পরবর্তী সময়ে গৃহস্থালি অর্থনীতি কেমন থাকবে, তা নির্ভর করছে আয়ের প্রবাহ, ব্যয়ের চাপ, কর্মসংস্থানের স্থিতি এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিবেশের ওপর। অনেকেই আশাবাদী যে স্থিতিশীল প্রবৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে আর্থিক অবস্থার উন্নতি হতে পারে। আবার অনেকে আশঙ্কা করছেন, বৈষম্যের বর্তমান ধারা অব্যাহত থাকলে আর্থিক চাপ আরও বাড়তে পারে।

অর্থনীতিবিদদের মতে, কে-আকৃতির পুনরুদ্ধারের বাস্তবতা বোঝা এবং বৈষম্য কমানোর কার্যকর নীতি গ্রহণ করা এখন সময়ের দাবি। নতুবা প্রবৃদ্ধির ইতিবাচক পরিসংখ্যান সত্ত্বেও সমাজের একটি বড় অংশ আর্থিকভাবে পিছিয়ে পড়ার ঝুঁকিতে থাকবে।

BP NEWS USA

Add comment

Follow us

Don't be shy, get in touch. We love meeting interesting people and making new friends.

Most discussed