মিষ্টি পছন্দে ফুটে ওঠে ব্যক্তিত্বের ধরন

মিষ্টিজাতীয় খাবার পছন্দ করা অনেকের দৈনন্দিন অভ্যাসের অংশ। কেউ খাবারের শেষে একটু মিষ্টি না হলে তৃপ্তি পান না, আবার কেউ আনন্দ বা দুঃখের মুহূর্তে মিষ্টির দিকেই ঝোঁকেন। তবে মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, এই পছন্দ শুধু স্বাদের বিষয় নয়, বরং ব্যক্তিত্বের সঙ্গেও এর একটি সূক্ষ্ম সম্পর্ক থাকতে পারে।

বিভিন্ন মনোবৈজ্ঞানিক গবেষণায় দেখা গেছে, যারা মিষ্টি খাবার বেশি পছন্দ করেন, তাদের মধ্যে কিছু সাধারণ বৈশিষ্ট্য লক্ষ্য করা যায়। যদিও এসব বৈশিষ্ট্য সবার ক্ষেত্রে একেবারে একইভাবে প্রযোজ্য নয়, তবুও কিছু প্রবণতা বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মিল পাওয়া যায়।

গবেষণায় দেখা গেছে, মিষ্টিপ্রিয় ব্যক্তিরা সাধারণত বেশি সহানুভূতিশীল হন। অন্যের প্রতি সহমর্মিতা দেখানো, সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়া এবং সহজে মানুষের সঙ্গে মিশে যাওয়ার প্রবণতা তাদের মধ্যে বেশি থাকে। মনোবিজ্ঞানে এই বৈশিষ্ট্যকে ‘অ্যাগ্রিয়েবলনেস’ বলা হয়। অর্থাৎ, তারা অন্যদের বিশ্বাস করতে চান এবং ইতিবাচক সম্পর্ক গড়ে তুলতে আগ্রহী থাকেন।

এছাড়া মিষ্টি পছন্দ করা ব্যক্তিরা অনেক সময় আবেগপ্রবণ হয়ে থাকেন। মিষ্টিজাতীয় খাবার মানুষের মস্তিষ্কে স্বস্তি ও আনন্দের অনুভূতি তৈরি করতে পারে। ফলে যারা আবেগ বা অনুভূতিতে বেশি সংবেদনশীল, তারা মিষ্টির প্রতি বেশি আকৃষ্ট হন। এটি তাদের জন্য এক ধরনের মানসিক প্রশান্তির উৎস হিসেবে কাজ করে।

সামাজিক দিক থেকেও এদের কিছু বৈশিষ্ট্য লক্ষ্য করা যায়। কিছু গবেষণায় ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, মিষ্টি পছন্দ করা ব্যক্তিরা সাধারণত বন্ধুবৎসল ও সামাজিক সম্পর্ককে গুরুত্ব দেন। তারা বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটাতে ভালোবাসেন এবং সম্পর্ককে দৃঢ় রাখতে আগ্রহী থাকেন। ফলে তাদের সামাজিক পরিসর অনেক সময় বিস্তৃত হয়ে থাকে।

মানসিক চাপের সময় মিষ্টির প্রতি আকর্ষণ বাড়ার বিষয়টিও গবেষণায় উঠে এসেছে। শুধু নিয়মিত মিষ্টি খাওয়া ব্যক্তিরাই নন, অনেকেই দুশ্চিন্তা বা চাপের মুহূর্তে মিষ্টিজাতীয় খাবারের দিকে ঝুঁকে পড়েন। কারণ, চিনি শরীরে দ্রুত শক্তি জোগায় এবং মস্তিষ্কে সাময়িক ভালো লাগার অনুভূতি সৃষ্টি করে, যা চাপ কমাতে সাহায্য করতে পারে।

এছাড়া মিষ্টিপ্রিয় মানুষেরা সাধারণত নিরাপত্তাবোধকে বেশি গুরুত্ব দেন বলে ধারণা করা হয়। তারা খুব বেশি রোমাঞ্চপ্রিয় নন এবং স্থিতিশীল জীবনযাপনকে প্রাধান্য দেন। ঝুঁকিপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার চেয়ে তারা নিরাপদ ও পরিকল্পিত পথে এগোতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।

তবে মিষ্টি পছন্দের পেছনে শুধু ব্যক্তিত্ব নয়, সাংস্কৃতিক ও পারিবারিক প্রভাবও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অনেক সংস্কৃতিতে খাবারের শেষে মিষ্টি খাওয়ার প্রচলন রয়েছে। আবার বিভিন্ন উৎসব, অনুষ্ঠান বা সামাজিক আয়োজনে মিষ্টির উপস্থিতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলে ছোটবেলা থেকেই এই অভ্যাস গড়ে ওঠে এবং তা ব্যক্তির খাদ্যাভ্যাসে স্থায়ী হয়ে যায়।

সব মিলিয়ে বলা যায়, মিষ্টি পছন্দ করা মানুষের ব্যক্তিত্বে কিছু সাধারণ বৈশিষ্ট্য দেখা গেলেও এটি কোনো চূড়ান্ত মানদণ্ড নয়। ব্যক্তিত্ব গঠনে আরও অনেক বিষয় কাজ করে। তবুও খাবারের পছন্দ যে মানুষের মন ও আচরণের সঙ্গে কোনো না কোনোভাবে সম্পর্কিত, তা অস্বীকার করার সুযোগ নেই।

BP NEWS USA

Add comment

Follow us

Don't be shy, get in touch. We love meeting interesting people and making new friends.

Most discussed