ভেনেজুয়েলায় মার্কিন সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনা: ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের দিকে নজর

ভেনেজুয়েলায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে জল্পনা ক্রমেই বাড়ছে। সাম্প্রতিক কালে উচ্চপর্যায়ের কয়েকটি ব্রিফিং শেষে এবং অঞ্চলে মার্কিন শক্তির বৃদ্ধি লক্ষ্য করার পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট একটি কার্যক্রম নেয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্তের দিকে এগোচ্ছেন বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন।

মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানা গেছে, প্রেসিডেন্টকে বিভিন্ন সামরিক অপারেশনের বিকল্প সম্পর্কে ব্রিফ করা হয়েছে। এ পর্যায়ে তিনি ভারসাম্য বিবেচনা করছেন—ভেনেজুয়েলায় প্রেসিডেন্টের পদত্যাগে সহায়ক বা দেশটির স্থিতিশীলতাকে প্রভাবিত করতে পারে এমন যেকোনো অভিযান চালানোর ঝুঁকি এবং সুফল। এই সময়ে মার্কিন সেনাবাহিনী অঞ্চলটিতে বারোটি যুদ্ধজাহাজ এবং ১৫,০০০ সৈন্য মোতায়েন করেছে, যা পেন্টাগন “অপারেশন সাউদার্ন স্পিয়ার” হিসেবে উল্লেখ করেছে।

এক সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট বলেছেন, তিনি মূলত একটি সিদ্ধান্তের দিকে এগোচ্ছেন। “আমি প্রায় সিদ্ধান্ত নিয়েছি—হ্যাঁ। ঠিক কী হবে সেটা আমি বলতে পারি না, কিন্তু মূলত আমি সিদ্ধান্তে পৌঁছেছি,” তিনি এ বিষয়ে সাংবাদিকদের জানান।

প্রেসিডেন্টকে ব্রিফ করার সময় উপস্থিত ছিলেন কয়েকজন শীর্ষ সেনা কর্মকর্তা, যার মধ্যে প্রতিরক্ষা সচিব ও যৌথ প্রধানমন্ত্রীর স্টাফ কমান্ডার ছিলেন। বৃহত্তর জাতীয় নিরাপত্তা টিম, যার মধ্যে রাজ্য সচিব এবং অন্যান্য উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ছিলেন, প্রেসিডেন্টকে পরিস্থিতি কক্ষে ব্রিফ করেছেন। উভয় বৈঠকে ভেনেজুয়েলায় সম্ভাব্য লক্ষ্যস্থল ও অভিযান পরিকল্পনা আলোচনা করা হয়েছে।

প্রেসিডেন্টকে প্রদত্ত বিকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে—সেনা বা সরকারি স্থাপনার উপর বায়ু হামলা, মাদকের চোরাচালান পথগুলোতে অভিযান, অথবা সরাসরি প্রেসিডেন্টের পদত্যাগের জন্য তৎপরতা। এছাড়া কোকেন উৎপাদন কেন্দ্র ও মাদক চোরাচালান রুটে লক্ষ্য করার পরিকল্পনাও বিবেচনায় আনা হয়েছে। তবে কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

সম্প্রতি মার্কিন বাহিনী ক্যারিবিয়ানে তাদের নৌসামরিক শক্তি বাড়িয়েছে। বিশ্বের সবচেয়ে বড় এয়ারক্রাফ্ট ক্যারিয়ার USS জেরাল্ড আর ফোর্ডও অঞ্চলে পৌঁছেছে। ১৫,০০০ সৈন্যের পাশাপাশি এখানে মোতায়েন করা হয়েছে ক্রুজার, ডেস্ট্রয়ারের মতো আরও এক ডজন যুদ্ধজাহাজ, হামলা নৌযান, এবং আক্রমণকারী সাবমেরিন। ১০টি F-35 ফাইটার জেট পুয়ের্তো রিকোতে স্থাপন করা হয়েছে। সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের শক্তি সমবায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং অপ্রত্যাশিত।

ভেনেজুয়েলাও তার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করছে। দেশটি “বৃহৎ সামরিক মোবিলাইজেশন” শুরু করেছে, যার মধ্যে সেনা, অস্ত্র ও সরঞ্জাম রয়েছে।

ভেনেজুয়েলায় সরকার পরিবর্তনের সম্ভাবনা উচ্চ ঝুঁকি বহন করে। প্রেসিডেন্ট যদি বর্তমান নেতা সরানোর উদ্যোগ নেন, তাহলে মার্কিন প্রশাসন দীর্ঘদিন ধরে চাওয়া কৃতিত্ব অর্জন করতে পারে। তবে, অভ্যন্তরীণ বিরোধিতা এবং বিদ্রোহী সেনাবাহিনীর মুখোমুখি হতে হতে জটিল পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। প্রেসিডেন্টের পদক্ষেপে রাজনৈতিক সমর্থন ও দীর্ঘমেয়াদি প্রতিশ্রুতি নিশ্চিত করা হবে কি না, তা অজানা।

ভেনেজুয়েলার শীর্ষ নেতা সরাসরি মার্কিন পদক্ষেপকে কঠোরভাবে নিন্দা করেছেন এবং যুদ্ধের সম্ভাবনা থামানোর আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি সতর্ক করেছেন, সামরিক হস্তক্ষেপ লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবিয়ানে দীর্ঘস্থায়ী সমস্যার সূত্রপাত করতে পারে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, দীর্ঘমেয়াদি সামরিক অংশগ্রহণ মার্কিন নির্বাচিত নীতি এবং নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির সঙ্গে বিরোধ সৃষ্টি করতে পারে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের জনগণও দীর্ঘস্থায়ী বিদেশী সংঘাতে যুক্ত হওয়ার পক্ষে নয়।

এই প্রতিবেদনের আলোকে দেখা যায়, ভেনেজুয়েলায় সম্ভাব্য মার্কিন পদক্ষেপ একটি জটিল ও উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি, যেখানে নিরাপত্তা, রাজনৈতিক সমর্থন এবং আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়ার সবগুলোই গুরুত্বপূর্ণ।

BP NEWS USA

Add comment

Follow us

Don't be shy, get in touch. We love meeting interesting people and making new friends.

Most discussed