Bp News USA

বীজযুক্ত ফল খাওয়ানোর আগে সতর্কতা

শিশুর বেড়ে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে নতুন স্বাদ ও খাবারের সঙ্গে পরিচয় করানো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ফলমূল শিশুর শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় ভিটামিন, খনিজ ও আঁশের অন্যতম উৎস। চিকিৎসাবিজ্ঞানের পরামর্শ অনুযায়ী ছয় মাস বয়স পূর্ণ হওয়ার পর থেকে শিশুকে ধীরে ধীরে পরিপূরক খাবার দেওয়া শুরু করা যায়। তবে সব ধরনের খাবার শিশুর জন্য সমানভাবে নিরাপদ নয়। বিশেষ করে বীজযুক্ত ফল খাওয়ানোর আগে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি।

কেন প্রয়োজন বাড়তি সতর্কতা

ফলের বীজ শিশুদের জন্য মারাত্মক ঝুঁকির কারণ হতে পারে। বরই, লিচু কিংবা জামের মতো বড় বীজযুক্ত ফল যেমন ঝুঁকিপূর্ণ, তেমনি আপেল, আঙুর, কমলা বা ডালিমের মতো ছোট বীজযুক্ত ফলও বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। এমনকি কিছু কলাতেও ক্ষুদ্র বীজ থাকে, যা অসাবধানতায় শ্বাসনালিতে আটকে যেতে পারে।

শিশুরা সাধারণত খাবার মুখে নিয়ে গিলতে গিয়ে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না কোন অংশটি গিলবে এবং কোন অংশটি ফেলবে। ফলে শক্ত বা ছোট বস্তুর ক্ষেত্রে দুর্ঘটনার আশঙ্কা থেকে যায়।

কেন ঘটে এই ধরনের দুর্ঘটনা

খাবার গিলে ফেলার জন্য মুখ ও গলার পেশিগুলোর সমন্বিত কাজ প্রয়োজন। প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে এই সমন্বয় সুসংগঠিত থাকে। কিন্তু শিশুদের ক্ষেত্রে এই নিয়ন্ত্রণ এখনও পরিপূর্ণভাবে গড়ে ওঠেনি। ফলে শক্ত বা গোলাকার বস্তু সহজেই গলায় আটকে যেতে পারে।

বীজ জাতীয় শক্ত উপাদান শ্বাসনালিতে আটকে গেলে শ্বাসরোধের মতো ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে, যা জীবনহানির ঝুঁকিও বাড়ায়। ফলমূল সাধারণত পিচ্ছিল হওয়ায় বীজ বা শক্ত টুকরা মুখ থেকে সরাসরি গলার দিকে সরে যেতে পারে। এমনকি শক্ত ফলের ছোট টুকরাও গলায় আটকে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।

কোন বয়সে কীভাবে ফল দেবেন

শিশুকে ফল খাওয়ানোর ক্ষেত্রে বয়সভিত্তিক সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ করা জরুরি। ছয় মাস পার হওয়ার পর থেকে ফল দেওয়া শুরু করা যেতে পারে। তবে প্রথম দিকে কেবল ফলের নরম অংশ দিতে হবে। সব ধরনের বীজ ও খোসা ভালোভাবে ফেলে দিয়ে নরম অংশটি চটকে বা মিহি করে খাওয়ানো উচিত। আপেলের মতো শক্ত ফল সেদ্ধ করে নরম করে নিয়ে তারপর মিহি করে দিতে হবে।

শিশু যখন ধীরে ধীরে চিবিয়ে খেতে শেখে, তখন নরম ফল ছোট ছোট টুকরো করে দেওয়া যেতে পারে। এ সময়ও বীজ ও খোসা অবশ্যই সরিয়ে ফেলতে হবে। শিশুর বয়স দুই বছর পূর্ণ হলে তাকে হাতে ধরে ফল খেতে দেওয়া যায়। তবে এই বয়সেও বীজ ফেলে দেওয়ার নিয়ম মানতে হবে।

সুস্থ ও স্বাভাবিক বিকাশমান শিশুর বয়স পাঁচ বছর পূর্ণ হলে বীজসহ কিছু ফল খেতে দেওয়া যেতে পারে। তবুও বড় বীজযুক্ত ফল যেমন লিচু, জাম বা বরই পুরোটা একবারে মুখে ঢোকাতে দেওয়া উচিত নয়। বরং বীজ মুখের বাইরে রেখে চারপাশের অংশ খাওয়ার অভ্যাস শেখানো নিরাপদ পদ্ধতি।

জরুরি পরিস্থিতিতে কী করবেন

শিশু খাবার খাওয়ার সময় সবসময় একজন দায়িত্বশীল প্রাপ্তবয়স্কের উপস্থিতি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। শ্বাসনালিতে কিছু আটকে গেলে শিশুর আচরণে হঠাৎ পরিবর্তন, কাশি, শ্বাসকষ্ট বা শব্দহীন কান্না দেখা দিতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

জীবন রক্ষাকারী প্রাথমিক চিকিৎসা সম্পর্কে ধারণা রাখা উচিত। সিপিআর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করলে জরুরি অবস্থায় দ্রুত ও সঠিক ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়। পরিবারে যাঁরা শিশুর দেখাশোনা করেন, তাঁদের সবারই এসব বিষয়ে সচেতন থাকা প্রয়োজন।

শিশুর পুষ্টির জন্য ফল অত্যন্ত উপকারী হলেও নিরাপত্তাই সর্বাগ্রে বিবেচ্য। সঠিক বয়সে, সঠিক পদ্ধতিতে এবং প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বন করে ফল খাওয়ালে ঝুঁকি কমানো সম্ভব।

BP NEWS USA

Add comment

Follow us

Don't be shy, get in touch. We love meeting interesting people and making new friends.

Most discussed