রমজান মাসে ইফতার শুধু খাবার নয়, এটি একটি সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, পারিবারিক বন্ধন এবং সামাজিক সংহতির প্রতীক। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ইফতারের ধরন, পরিবেশ ও খাবারের বৈচিত্র্যে গড়ে উঠেছে অনন্য সংস্কৃতি। এখানে বিশ্বের পাঁচটি উল্লেখযোগ্য ইফতার সংস্কৃতি তুলে ধরা হলো।
১. Turkey
তুরস্কে ইফতার এক উৎসবমুখর আয়োজন। সূর্যাস্তের আগে শহরের বিভিন্ন প্রান্তে ঐতিহ্যবাহী ড্রামাররা ঘুরে মানুষকে ইফতারের সময় মনে করিয়ে দেয়। ইফতারে সাধারণত খেজুর ও জলপাই দিয়ে শুরু করা হয়, এরপর পরিবেশন করা হয় ‘রামাজান পিদেসি’ নামে বিশেষ রুটি, স্যুপ, কাবাব ও বিভিন্ন মিষ্টান্ন। বড় শহরগুলোতে মসজিদের সামনে ও উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে বিশাল কমিউনিটি ইফতারের আয়োজন হয়, যা সামাজিক সম্প্রীতির দৃষ্টান্ত।
২. Saudi Arabia
ইসলামের পবিত্র নগরী Mecca ও Medina-তে ইফতার এক অনন্য অভিজ্ঞতা। মসজিদে অসংখ্য মানুষ একসঙ্গে বসে খেজুর, জমজমের পানি, স্যুপ ও খিচুড়ি জাতীয় খাবার দিয়ে রোজা ভাঙেন। দানশীলতার চর্চা এখানে বিশেষভাবে লক্ষণীয়। অসংখ্য স্বেচ্ছাসেবক রোজাদারদের মাঝে খাবার বিতরণ করেন, যা ভ্রাতৃত্ববোধের এক অনন্য উদাহরণ।
৩. Bangladesh
বাংলাদেশের ইফতার সংস্কৃতি বৈচিত্র্যপূর্ণ ও সুস্বাদু। পুরান ঢাকার চকবাজার রমজানে এক বিশেষ আকর্ষণ, যেখানে শতবর্ষী ঐতিহ্যের ইফতার বাজার বসে। বেগুনি, পিয়াজু, ছোলা, হালিম, জিলাপি ও শরবত ছাড়া ইফতার যেন কল্পনাই করা যায় না। পরিবারকেন্দ্রিক ইফতার আয়োজনের পাশাপাশি মসজিদ ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে গণইফতারও জনপ্রিয়।
৪. Egypt
মিশরে রমজান মানেই আলোকসজ্জা ও ঐতিহ্যবাহী ‘ফানুস’ দিয়ে সাজানো রাস্তা। ইফতারে সাধারণত খেজুর ও জুস দিয়ে শুরু করে পরে ভাত, মাংস, সবজি ও বিশেষ মিষ্টান্ন পরিবেশন করা হয়। বড় শহর যেমন Cairo-তে রাস্তার পাশে লম্বা টেবিলে গণইফতারের আয়োজন সামাজিক সম্প্রীতির দৃশ্য তৈরি করে।
৫. Malaysia
মালয়েশিয়ায় রমজান মাসে ‘বাজার রমাদান’ বিশেষ জনপ্রিয়। সূর্যাস্তের আগে এসব অস্থায়ী বাজারে নানা ধরনের ঐতিহ্যবাহী খাবার বিক্রি হয়। নাসি লেমাক, সাতে, রেনডাংসহ অসংখ্য পদ ইফতারের টেবিল সাজায়। পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে একত্রে বসে ইফতার করা এখানে গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক রীতি।
বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ইফতার কেবল ধর্মীয় অনুশাসন নয়, এটি সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও সামাজিক সংযোগের শক্তিশালী প্রতীক। দেশভেদে খাবারের পার্থক্য থাকলেও মূল বার্তা একটাই, একসঙ্গে বসে ভাগাভাগি করে নেওয়ার আনন্দ।







Add comment