Bp News USA

বিগ বেন্ড ন্যাশনাল পার্কে সীমান্ত প্রাচীর পরিকল্পনা নিয়ে বিতর্ক

টেক্সাসের বিগ বেন্ড ন্যাশনাল পার্ক, যা তার খাঁটি মরুভূমি ও উঁচু খাঁড়ি নিয়ে পরিচিত, বর্তমানে একটি বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে। পার্কের মধ্য দিয়ে পরিকল্পিত সীমান্ত প্রাচীরের কারণে স্থানীয় নেতা ও বাসিন্দারা গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। তারা বলছেন, এই প্রাচীর পার্কের প্রাকৃতিক পরিবেশ ও অর্থনীতির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

সবচেয়ে কাছের ট্রাফিক লাইট থেকে দুই ঘণ্টা দূরে, রিও গ্র্যান্ডে নদীটি খাড়া খাঁড়ি দিয়ে বয়ে চলে যা মরুভূমির তল থেকে ১৫০০ ফিট নিচে পড়ে। স্থানীয়রা মনে করেন, এই প্রাকৃতিক ভূ-রূপই সীমান্ত রক্ষা করার জন্য যথেষ্ট এবং নতুন ধাতব প্রাচীরের প্রয়োজন নেই।

টারেল কাউন্টির শেরিফ, যিনি ৫ জন ডেপুটি নিয়ে দায়িত্ব পালন করেন, বলেছেন, “আমাদের কাছে ঈশ্বর প্রদত্ত প্রাচীর আছে,” যা অনেক বছর ধরে সীমান্ত রক্ষা করে আসছে। তবে এ বছর, ফেডারেল কর্তৃপক্ষ এমন পরিকল্পনা এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে যা স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

স্থানীয়রা এবং নির্বাচিত নেতারা দুপক্ষই সতর্ক করেছেন যে, ডিপার্টমেন্ট অফ হোমল্যান্ড সিকিউরিটির এই প্রস্তাবিত প্রাচীর বিগ বেন্ড এবং পার্কের পার্শ্ববর্তী স্টেট পার্কের পরিবেশ ও পর্যটন ব্যাহত করবে। তারা বলছেন, এটি জনপ্রিয় পর্যটন স্থানগুলোতে প্রবেশ বন্ধ করবে, পর্যটক ও অর্থনৈতিক আয় কমাবে এবং অঞ্চলটির প্রাকৃতিক সৌন্দর্য নষ্ট করবে, তবে অবৈধ অভিবেশণ ঠেকাতে খুব বেশি সহায়ক হবে না।

ব্রুস্টার কাউন্টির শেরিফ, যিনি দীর্ঘ সময় ধরে নির্বাচিত রয়েছেন, বলেছেন, “যদি এটি সত্যিকারের প্রাচীর হয়, আমাদের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এখানে তেল বা গ্যাস নেই, আমাদের আছে পর্যটন।” এই পর্যটন শিল্প স্থানীয় অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ।

কাস্টমস ও বর্ডার প্রটেকশন (CBP) প্রকাশ করেছে যে, বিগ বেন্ড ন্যাশনাল পার্কের মধ্যে ১০০ মাইলের বেশি সীমান্ত প্রাচীর পরিকল্পনা রয়েছে। এটি আমেরিকান দিক থেকে রিও গ্র্যান্ড নদীর প্রবেশ বন্ধ করতে পারে। CBP বলেছে যে, এই ৫১৭-মাইলের সীমান্তে নতুন অবকাঠামো বা আপগ্রেড করা হবে, যার মধ্যে ন্যাশনাল ও স্টেট পার্কের ক্ষেত্রও অন্তর্ভুক্ত।

নির্মাণ ত্বরান্বিত করতে হোমল্যান্ড সিকিউরিটি সচিব পরিবেশ সংরক্ষণ সম্পর্কিত ২৮টি আইন এবং বিধিনিষেধ বাতিল করেছেন। CBP জানিয়েছে, তারা স্থানীয় এবং ফেডারেল সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করবে যাতে নির্মাণের প্রভাব কমানো যায়। তবে অনেকেই বলছেন যে, স্থানীয়দের সঙ্গে যথেষ্ট স্বচ্ছ আলোচনা নেই।

স্থানীয়রা আরও উদ্বিগ্ন যে, ঠিকাদাররা জমির মালিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন কর্মীদের জন্য “ম্যান ক্যাম্প” স্থাপনের উদ্দেশ্যে। কাউন্টি জাজ বলেন, “ঠিকাদাররা আমাদের এলাকায় ছুটে বেড়াচ্ছে, প্রশ্ন করছে … স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে।”

অনেকে সীমান্ত নিরাপত্তার পক্ষে হলেও তারা বলছেন যে, একটি বড় ধাতব প্রাচীর সমস্যার সমাধান হবে না। শেরিফ টেরেল বলেন, “যেখানে প্রাকৃতিক প্রাচীর আছে, সেখানে প্রযুক্তি ভিত্তিক ‘স্মার্ট ওয়াল’ বেশি কার্যকর হতে পারে।”

CBP এর তথ্য অনুযায়ী, বিগ বেন্ড সেক্টরে এখন পর্যন্ত এ অর্থবছরে সীমান্তে ৭৩৪ জনকে আটক করা হয়েছে, যা মোট দক্ষিণ সীমান্তের ৩% এর কম। স্থানীয় কর্মকর্তারা বলছেন, সীমান্ত পারাপারের পরিমাণ খুব বেশি নয়, তাই এত বড় প্রাচীরের প্রয়োজন নেই।

এই বিতর্ক মূলত ফেডারেল সীমান্ত নিরাপত্তার লক্ষ্য এবং স্থানীয় অর্থনীতি ও প্রাকৃতিক পরিবেশ সংরক্ষণের মধ্যে উত্তেজনা প্রদর্শন করছে। স্থানীয়রা জোর দিয়ে বলছেন, “এটি লোয়ার ৪৮-এর শেষ সীমান্তের একটি এলাকা। আমরা চাই আমাদের প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষিত হোক এবং অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত না হোক।”

BP NEWS USA

Add comment

Follow us

Don't be shy, get in touch. We love meeting interesting people and making new friends.

Most discussed